behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

এ এক অন্য মূর্ছনা

মাহমুদুর রহমান১১:০২, জানুয়ারি ২২, ২০১৬

Mahmudur Rahman_editedপ্রতিযোগিতা নয়, নয় কোনও আসরও। কেবলই মনের উচ্ছ্বাস। তিন দিক থেকে ভেসে এলো সুরের ধারা।
দ্বৈত-কণ্ঠে গাওয়া গানটি ছিল চাপা স্বরের। একক প্রচেষ্টার গানে গলার কাজ পরিশীলিত না হলেও তাতে ছিল এক ধরনের রুক্ষ আবেদন। তৃতীয় গানটিতে অনেকে কণ্ঠ মেলালেও প্রাধান্য ছিল একজনেরই।
গানের পেছনে যারা, তাদের মধ্যে একমাত্র সম্পর্ক তারা সবাই দিনের কাজ শেষে ক্লান্ত। হয়তোবা শ্রান্ত মনের জানালা খুলে নির্মলতার খোঁজে বেছে নিয়েছেন গান। দর্শক- শ্রোতার জন্য নয়, নিজের তাগিদেই।
নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে তিনটি উপায় ছিল। অপ্রত্যাশিত বিনোদন উপভোগ, কানে তুলা দেওয়া অথবা গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা। প্রথম পন্থার পক্ষে যারা, তাদের সামনে ছিল অন্য চ্যালেঞ্জ। ভিন্ন ঢঙের তিনটি সঙ্গীত ধারাকে একক শ্রবণশক্তির মধ্যে সমন্বয় বিধান করা, যাতে করে তিনটি ধারার আবেদনকে যথার্থভাবে গ্রহণ করা যায়।
নারী কণ্ঠের দৈত গানটির বৈশিষ্ট্য ছিল সমন্বয়। চর্চা করার সুযোগ তারা পান কিনা জানা দুষ্কর।
অনুশীলন এবং যান্ত্রিক সহায়তা ছাড়া একই লয়, তালে গানের কথা উপস্থাপন সহজ নয়। দুটি কণ্ঠই যখন চাপা স্বরে কাজটি করে, সেটা যে কত কঠিন তা সহজে অনুমেয়।
একক গানটিও যন্ত্রসঙ্গীতের সহায়তা ব্যাতিরেকে উপস্থাপিত। খোলা কলের জলের ধারা ছিল সঙ্গী, কিন্তু আশ্চর্যভাবে কোনও ক্রমেই সুরের সঙ্গে তার অসঙ্গতি ছিল না। চটকদার আধুনিক গানের খোলা এবং অনভিজ্ঞ উপস্থাপনে এক ধরনের নতুনত্ব ছিল। বিশেষ করে লম্বা টানগুলো আকর্ষণ করার মতো।
অঘোষিত এবং কাকতালীয় প্রতিযোগিতার তৃতীয় প্রয়াস গিটারের সুরে নতুন প্রজন্মের গান। তবে কণ্ঠের জড়তার কারণে শব্দ ছিল অস্পষ্ট। কেবল উঁচু লয়ের অংশ ভেসে এসে চিন্তিত এক প্রৌড়ার মাঝে অন্য উৎকণ্ঠার জন্ম দেয়। ‘কেউ মারা যায়নি তো?’

বিবেকী শিল্পীর মতো দ্বৈত কণ্ঠিরা গান শেষ করে চাপা গলায় গল্পে মজে গেল। একক গানের শিল্পী কাজে ফিরে গেল। শুধু চাদরের মালিকের ন্যায় গিটার বাদক তার গান চালিয়ে গেল। অদৃশ্য দর্শক-শ্রোতার অশ্রুত অভিবাদন তাদের সাধুবাদ জানাল। নিশির নিস্তব্ধতায় কান পেতে যতটুকু শোনা গেল তাতে একে অন্যের গান নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে বলে বোঝা গেল না। তবে তারা এক বিরল গুণে গুণান্বিত।

পৃথিবীর কোলাহল উপেক্ষা করে আত্মপ্রকাশকে সুযোগ দেওয়ার কৌশল তারা রপ্ত করেছেন। এই হয়তো তাদের ছোট ছোট জীবনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বপ্নের জগত তৈরিতে সাহায্য করে। নিজস্ব নৈরাশা আর প্রতিবন্ধকতা পার করার এটাই হয়তো উপায়। উপাধি বা পুরস্কার তারা চাননি। কেউ অতটা গভীরভাবে তাদের শৈল্পিক প্রয়াস অবলোকন করেছে, এটা জানলে নিশ্চয়ই লজ্জা পেতে যাবেন। আবার এমনও হতে পারে যে তারা অজানা শ্রোতা পেয়েছেন এতেই তারা লাজে ভরা তৃপ্তি পাবেন।

তাই অদৃশ্য শ্রোতার নিস্তব্ধ অভিবাদন তাদের জন্য। কিছুক্ষণের আনন্দের জন্য। তাছাড়া পাশের বাড়ির কাজের মেয়েদের, সামনের বাড়ির দারোয়ান আর রাস্তার পেভমেন্টে বসা কোচিংয়ের ছাত্রদের কি পুরস্কার দেওয়া যায়?

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ




*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ