behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ভালো খবর পাওয়াই যায় না

ফজলুল বারী২০:০৭, জানুয়ারি ৩০, ২০১৬

Fazlul Bariখুব একটা ইতিবাচক খবর লেখার সুযোগতো তেমন আমাদের হয় না। আজ আমার দেশের মানুষকে তেমনই একটা ইতিবাচক খুশির খবর দেই। বিরল রোগে আক্রান্ত খুলনার গ্রামের দরিদ্র যুবক আবুলের চিকিৎসার একটা পথ তৈরি হয়েছে। আবুলকে শনিবার ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মানব-হিতৈষী ডা. সামন্ত লাল সেন হতোদরিদ্র আবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিরল এক ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত আবুল। এর আগে এ ধরনের রোগী পাওয়া গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ায়। মিডিয়ায় তার নাম হয়েছিল ‘ট্রি-ম্যান’।
এখন আবুলের গল্পটা কিছুটা বলি। এসএ টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান সুনীল দাস। ফেসবুকে তার একটি পোস্টের মাধ্যমে আবুলের বিষয়টি আমার নজরে আসে। তার পুরো নাম আবুল বাজনদার। খুলনার পাইকগাছা গ্রামে বাড়ি। একবার এক ভরা বর্ষায় জলাবদ্ধতায় কয়েকদিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তখন তার যে চর্মরোগ দেখা দেয় ধীরে-ধীরে সেটিই আজকের বীভৎস রূপ নিয়েছে! এ নিয়ে জীবন তছনছ হয়ে গেছে আবুলের। রোজগার বন্ধ হয়েছে। প্রথমে গ্রামে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছেন। এলাকার সম্পন্ন মানুষদের সহায়তায় একাধিকবার কলকাতায় গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কলকাতার চিকিৎসাতো টাকার চিকিৎসা। তারা আবুলকে শুধু টাকা নিয়ে আসতে বলেছে! পুরো চিকিৎসাটা কী হবে তা তারা আবুলকে বিস্তারিত বলেনি অথবা আবুল বিস্তারিত বোঝেনি! যাক সুনীল দাসের রিপোর্ট পড়ে মনটা অস্থির হয়। সুনীলের নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। তার মাধ্যমে কথা বলি আবুলের সঙ্গে।
বিদেশে বসে আমি দেশে যাদের সহায়তার চেষ্টা করি, আমার প্রিয় একজন মানুষের নেতৃত্বে তা করার চেষ্টা করি। ইনি ডা. শরফুদ্দিন আহমদ। তার সঙ্গে আবুলের বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করি। এর সার কথাটি হলো, আমরা আবুলের পাশে দাঁড়াতে চাই। ডা. শরফুদ্দিন আহমদ তার খুলনার চিকিৎসক বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তার উদ্যোগে খুলনার গাজী মেডিকেলের ডা. বঙ্গকমল বসু,  গাজী মিজানুর রহমান, ডা. এ. ওয়াছে, ডা. আ. বরকত, ডা. মনোজ কুমার বসুসহ চিকিৎসকরা আবুলকে নিয়ে বোর্ড করে দেখেন। খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান কুমার গোস্বামী, ডা. নিশাত আবদুল্লাহ তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তাদের পরামর্শে আবুলকে রেফার করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

এরমধ্যে ডা. শরফুদ্দিন আহমদ ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মানব-হিতৈষী ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সবকিছু শুনে তাকে ঢামেকে তার অধীনে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেভাবে আবুল ও তার মাকে ঢাকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। খুলনায় ক্রিকেট খেলার রিপোর্ট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে সুনীল দাস তাদের সঙ্গে ঢাকা আসতে পারেননি। তিনি তাদের খুলনায় বাসে তুলে দিয়ে ঢাকায় রিসিভের ব্যবস্থা করেন। সুনীল দাসের পক্ষে ঢাকায় আবুল ও তার মাকে শুক্রবার রিসিভ করে চাঁনখার পুল এলাকার একটি হোটেলে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন এক মানবিক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিয়াজ মোহাম্মদ রনি। শনিবার সকালে রনিই তাদের ডা. সামন্ত লাল সেনের কাছে নিয়ে যান।

আবুলের সর্বশেষ তথ্য হলো ডা. সামন্ত লাল সেন শনিবারই তাকে ঢামেকে ভর্তি করিয়েছেন। তার মা যেন তার সঙ্গে থাকতে পারেন, সে জন্যে তাদের একটি কেবিন দেওয়া হয়েছে। কেবিনে আবুল ও তার মা দুজনেরই খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন। এই খবর সব শুনে খুবই আশ্বস্ত বোধ করেছি। কারণ, আমাদের দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের চাইতে রোগী ও তার পরিবারের ভরণপোষণের বিষয়টি উদ্বেগ ছড়ায়। শনিবার ডা. শরফুদ্দিন আহমদ, সুনীল দাসের সঙ্গে কথা বলার পর আবুল ও তাদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া তরুণ রনির সঙ্গেও কথা বলেছি। আবুল আমাকে বলেন, আমার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে বারী ভাই। তাকে আশ্বস্ত করে বলেছি তুমি খুব ভালো একটি জায়গায় পৌঁছেছেন আবুল। সব কৃতজ্ঞতা সুনীল দাসের প্রতি। তিনি এই রিপোর্টটি না করলে তোমার বিষয়টি আমাদের নজরে আসত না। এখন ডা. সামন্ত লাল সেন বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করবেন। চিকিৎসার পুরো সময়টাতে আমাদের আবুলের পাশে থাকতে হবে। আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকুন প্রিয় পাঠক।​

লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ