behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

জাতীয় পার্টি কি আত্মঘাতী হবে?

বিভুরঞ্জন সরকার১৩:০১, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৬

বিভুরঞ্জন সরকারজাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কু-অভ্যাস ত্যাগ করতে পারছেন না। ১৯৮২ সালে তিনি ক্ষমতা দখল করেছিলেন ক্যু (সামরিক অভ্যুত্থান) করে। তারপর থেকে তিনি অনেক কুকর্মেই নিজেকে জড়িয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি রংপুরে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও নিজের ছোট ভাই জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান এবং উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নতুন করে রাজনীতিতে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। জাতীয় পার্টিতে সরকার বিরোধী বলে পরিচিত জিএম কাদেরকে হঠাৎ করে প্রমোশন দেওয়ায় দলের সরকার সমর্থক অংশের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। এরশাদের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বাসভবনে সরকারপন্থিদের এক বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সাংবাদিকদের জানান যে, রওশনকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে এরশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ঢাকা ফেরেন এবং দ্রুত এক সংবাদ সম্মেলন করে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেন রহুল আমিন হাওলাদারকে।
এরশাদের এই সব সিদ্ধান্ত দলের মধ্যে এক ধরনের ঝড় তোলে। অনেকেই মনে করতে থাকেন, নানামুখি টানাপোড়েনের জেরে জাতীয় পার্টিতে ভাঙন বুঝি অনিবার্য হয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানের অনড় থাকলেও ভাঙন এড়ানোর চেষ্টা দুই পক্ষের মধ্যেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এরশাদের জাতীয় পার্টি ভাঙবে কিনা সেটা আরও স্পষ্ট হবে আগামী ৩১ জানুয়ারি দলের বিশেষ বৈঠকে।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে জাতীয় পার্টির তিনজন নেতা আছেন। এদের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পূর্ণ মন্ত্রী। অন্য দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুজিবুল হক চুন্নু এবং মশিউর রহমান রাঙা আছেন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়। এরশাদ নিজেও পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে জাতীয় পার্টিতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এরশাদ প্রথমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে থাকলেও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তখন রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে থাকে। এভাবে দলের মধ্যে যে বিভক্তি তৈরি হয় তার জের ধরেই বর্তমান সংকট গাড়ো হয়েছে। যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের অবস্থান একরকম আবার যারা নির্বাচনে অংশ নেননি তাদের অবস্থান ভিন্ন। সেজন্যই এটা বলা অসমীচীন হবে যে, জাতীয় পার্টির ভেতরে এখন যে অস্থিরতা চলছে তা প্রধানত ক্ষমতার ভাগ পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
এরশাদ নিজেও যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়েছেন সেজন্য তাকেও সরকারের অংশ বলেই ধারণা করা হয়। কিন্তু দলের বড় অংশ যেহেতু এরশাদের কথা মেনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই তারা চায় না বর্তমান সংসদ ও সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করুক। এরশাদ নিজেও এখন সরকার থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে। কারণ দেরিতে হলেও এরশাদ সম্ভবত এটা উপলব্ধি করেছেন যে, সরকারে থেকে বাস্তবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা যায় না। তারা সরকারের সমালোচনা করবে, আবার মন্ত্রী থাকবে-এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। কিন্তু যারা এমপি এবং মন্ত্রী হয়েছেন তারা আবার বর্তমান সংসদ ও সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করারই পক্ষে। জাতীয় পার্টিতে সরকার থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে যে অংশ তার স্বাভাবিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জিএম কাদের। তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেননি। সংসদের না থাকার কারণেই বর্তমান সংসদের প্রতি তার আস্থা বা আগ্রহ কোনওটাই নেই। সেজন্যই তিনি দলের মধ্যে সরকারবিরোধী বলে পরিচিতি অর্জন করেছেন। কিন্তু আগের মেয়াদে ৫ বছরই তিনি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তখন তাকেই জাতীয় পার্টিতে আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বলে মনে করা হতো। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তার অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেও রওশন এরশাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব ভালো নয়। অথচ এখন জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের প্রধান এবং বিরোধীদলের নেতা হয়েছেন রওশন এরশাদ।

নিজেদের বলয়ের বাইরের জিএম কাদেরকে আকস্মিকভাবে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করায় রওশন এরশাদের সমর্থকরা এটা বুঝতে পারেন যে তাদের কর্তৃত্ব খর্ব করার জন্যই দলীয়প্রধান এরশাদ এই কাজটি করেছেন। এটাকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। এরশাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য তারা চেষ্টা করছেন। কিন্তু এরশাদও বলেছেন, এবার তিনি কোনওভাবেই তার সিদ্ধান্ত বদল করবেন না। রওশন এক বিবৃতিতে এরশাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরশাদ বলেছেন তার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনও সুযোগ নেই। ২৩ জানুয়ারি রওশন এরশাদের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান হিসেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি, পার্লামেন্টারি পার্টি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কো-চেয়ারম্যান অর্থাৎ ভবিষ্যৎ পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদসহ পার্টির যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে পরিবর্তন এনেছেন, তা রাজনৈতিক দলে নীতিসিদ্ধ নয় ও অগণতান্ত্রিক।

রওশনের বিবৃতির জবাবে পাল্টা বিবৃতিতে এরশাদ গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দলের গঠনতন্ত্রে দলের চেয়ারম্যানকে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারায় চেয়ারম্যানকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এরশাদ বলেছেন, এই ধারাটি আমার সৃষ্টি করা নয়। গঠনতন্ত্র আমি নিজে প্রণয়ন করি নাই। এটি একটি কমিটি দ্বারা প্রণীত ও জাতীয় পার্টির কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত।

এরশাদের এই বক্তব্য অসত্য নয়। দলের গঠনতন্ত্রেই তাকে স্বেচ্ছাচারিতা করার সুযোগ দিয়েছে। এখন যারা তার সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন অতীতে তারা কেউই দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে গণতান্ত্রিক করার কথা বলেননি কিংবা উদ্যোগ নেননি। এর আগে যারা দলের মহাসচিব হয়েছেন কিংবা বাদ গিয়েছেন সবই হয়েছে এরশাদের ইচ্ছায়। রহুল আমিন হাওলাদারকে বাদ দিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে যখন দলের মহাসচিব করা হয়েছিল তখনও কোনও পর্যায়ে কারও সাথে আলাপ-আলোচনা না করে এরশাদ তা এককভাবেই করেছিলেন। এবারও তিনি বাবলুকে বাদ দিয়ে রহুল আমিন হাওলাদারকে কাছে টানার জন্য কারও সাথে আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কিন্তু এবার যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারা এরশাদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন, বিরোধিতা করছেন। তাকে গণতন্ত্রী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এতোদিন এরশাদের কু (এবং ক্যু) কাজের যারা সমর্থক ও সহযোগী ছিলেন এখন হঠাৎ করে তারা এরশাদকে সু-কাজের পরামর্শ দিলে তিনি তা সুবোধ বালকের মানমেন বলে মনে করার কোনও কারণ আছে কি? কথায় বলে স্বভাব যায় না মলে...।

শোনা যাচ্ছে দলের অনিবার্য ভাঙন এড়ানোর জন্য এরশাদ এবং রওশনের মধ্যে ইতিমধ্যেই এক ধরনের সমঝোতা হয়েছে। সরকার থেকে বেরিয়ে আসার কথা প্রকাশ্যে বললেও এখনই সে ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে না। এরশাদ নিজেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ‘সম্মান’ দেখিয়ে বিশেষ দূতের পদও ছাড়বেন না। যদি জাতীয় পার্টি সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে দলের ভাঙন যে রোধ করা যাবে না এটা এরশাদ বুঝতে পারছেন। সরকারবিরোধী বলে পরিচিত দলের নতুন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরও জানিয়েছেন যে, এখনই সরকার ছাড়ছে না জাতীয় পার্টি। তবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত এরশাদ ও রওশন নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে কাদের জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লাগবে। দলের স্বার্থেই সময় নিচ্ছি। তিনি এও বলেছেন যে, সরকারের সঙ্গে জাপার ঝগড়া নেই। তবে জাপা সরকার না বিরোধীদলে আছে তা মানুষ বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত হচ্ছে। তাই দলের স্বার্থে সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জিএম কাদেরের সঙ্গে তার ভাবী রওশন এরশাদের সম্পর্ক খুব মধুর নয় এবং তাকে দলের কো-চেয়ারম্যান করার রওশন সহজভাবে নেননি বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও জিএম কাদের একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘রওশন এরশাদকে আমি মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বলেছেন, কাদের তুমি কো-চেয়ারম্যান হও, দলের জন্য ভালো হবে। কারণ নেতাকর্মীরা হতাশায় ভুগছে। তুমি হলে তাদের হতাশা কেটে যাবে। ওই পদে গেলে তিনি আমাকে দোয়া করবেন বলেও জানিয়েছেন।’ কিন্তু বাস্তবে এটা দেখা যায়নি যে কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণার পর রওশন তাকে ‘দোয়া’ করেছেন। রওশন যদি তাকে কো-চেয়ারম্যান হওয়ার কথা বলেই থাকেন তাহলে তিনি কো- চেয়ারম্যান হওয়ার পর রওশন কেন খুশি মনে তা মেনে নিচ্ছেন না এ প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। কাদের কো-চেয়ারম্যান হওয়ায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের হতাশা কতটুকু কাটবে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এটা ঠিক যে, জিএম কাদেরের ভাবমূর্তি ভালো। জাতীয় পার্টির ভিতরে তার একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তেমন কোনও অভিযোগও শোনা যায় না। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে যে ধরনের গ্রুপিং-লবিং সক্রিয় তাতে জিএম কাদের জাতীয় পার্টিকে কতটা এগিয়ে নিতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাই যায়। জিএম কাদের এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সরকারে অংশ নিয়ে জাপা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়ে দল রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, রাজনৈতিক দলের চরিত্র হারিয়েছে জাতীয় পার্টি। এতে কেবল কিছু নেতা বা লোকের লাভ হয়েছে। জাতীয় পার্টির কিছু নেতা ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধার জন্য পুরো দলকে ডোবাচ্ছে।

এটা ঠিক যে, সরকারে যোগ দিয়ে জাতীয় পার্টির বিরোধী-বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো আগের মেয়াদে জিএম কাদের নিজে যখন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন কি তার এই উপলব্ধি হয়েছিল যে, তিনি মন্ত্রী হওয়ায় জাতীয় পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? তিনি মন্ত্রী থাকলে যদি জাপা রাজনৈতিক দলের চরিত্র না হারায় তাহলে এখন কেন তা হারাচ্ছে? তবে জিএম কাদের এটা ঠিকই বলেছেন যে, টানাপোড়েন থাকলেও চূড়ান্তভাবে জাপা ভাঙছে না। কারণ এরশাদ মানেই জাপা। তিনি যেখানে থাকবেন, ভোটার ও সমর্থকরা সেদিকেই যাবেন। সুতরাং এরশাদকে বাদ দিয়ে যদি কেউ কিছু করতে চান তারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন না।

আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলের ভাঙা-গড়ার ঘটনা পর্যালোচনা করলে জিএম কাদেরের বক্তব্যের সঙ্গেই সহমত পোষণ করতে হয়। ভালো-খারাপ যাই হোক এরশাদের নামেই জাতীয় পার্টি। এখন যদি এরশাদকে ছেড়ে বা বাদ দিয়ে কেউ জাতীয় পার্টি নামে পরিচিত হতে চেষ্টা করে তাহলে সেটা খুব সফল না হওয়ারই কথা। তবে এটাও ঠিক যে, এরশাদের জনপ্রিয়তাও এখন ক্ষয়িষ্ণু। রংপুরসহ দেশের যেসব জায়গায় এরশাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল এখন আর সেগুলো সেভাবে নেই। গত পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ‘ছেড়াবেড়া’ অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে। ভোটার ও সমর্থকরা এখন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থায় দলে আরেক দফা ভাঙন দেখা দিলে সেটা কোনও অংশেরই শক্তি বৃদ্ধি ঘটাবে না। অবশ্য এটাও ঠিক যে আমাদের দেশের রাজনীতিকদের মধ্যে আত্মঘাতী প্রবণতা প্রবল। খারাপ বা ক্ষতি জেনেও তা থেকে বিরত থাকতে পারেন না অনেক রাজনীতিক। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এবার ব্যতিক্রম ঘটবে কি?

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ