behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আগামী কাউন্সিলে নবজন্ম হোক বিএনপির

আনিস আলমগীর১২:২৫, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৬

Anis Alamgirদেশ সুষ্ঠু রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। দেশের প্রধান তিনটি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি দলীয় জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির কাউন্সিল। বিএনপিকে কাউন্সিল করার জন্য স্থান বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে। পৌর নির্বাচনে মূখ্য তিনদলই অংশগ্রহণ করেছিলো। সবাই নির্বাচনি ফলাফলও মেনে নিয়েছে। নির্বাচন বিএনপিকে মাঠে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা আরও সুসংগঠিত হতে পারবে।
২০১৩ সালের শেষ চার মাস এবং ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস বিএনপি যে ধরনের আন্দোলন করেছিলো তা দলটির জন্য যথাযথ কর্মসূচি ছিলো না। একটা গণতান্ত্রিক দল তার দর্শন বিসর্জন দিয়ে ভিন্ন পথে পরিচালিত হয়ে পেট্রোল বোমা নিয়ে আন্দোলন করতে যাওয়া মোটেই বিজ্ঞ কাজ হয়নি। বরঞ্চ এমন পথে আন্দোলন করতে গিয়ে তারা নানামুখি সমালোচনা এবং জনসমর্থন হারানোর মুখে গিয়ে পড়েছিলো। এখন ধীরে চলার যে পথ তারা বেছে নিয়েছে তাই উত্তম পথ।
গণতান্ত্রিক দল গণতান্ত্রিক পথে চলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। গণতান্ত্রিক দলের বিপ্লব হচ্ছে নির্বাচন। বিএনপিকে এখন তার রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তন আনার কথাও চিন্তা করতে হবে। বিএনপি ইসলামপন্থী দল নয়। শরীয়া অনুসারে দেশ চালাবে সে মত  কোনও প্রতিশ্রুতি বিএনপি নেত্রী কখনও দেননি বা তাদের ঘোষণাপত্রেও নেই। ভবিষ্যতে বিএনপি যদি নিজেকে সুষ্ঠুভাবে গুছিয়ে নিতে পারে তবে দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনীতিই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

বিএনপির জন্ম হয়েছে স্বাধীনতার পর। অহেতুক বিএনপি পাকিস্তান সময়ের কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে নিজে যে পাপের শরীক ছিলো না সে পাপের বোঝা টানতে উদ্যোত হয়েছে। বিএনপির এখন উচিৎ ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থী দলগুলো থেকে বের হয়ে আসা। ইসলামকে সাধারণ মুসলমান প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে কিন্তু ইসলামিক দলগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। দু-একটা ব্যতিক্রম ছাড়া, তাদের তেমন কোনও ভোটারও নেই।

হাফেজ্জী হুজুরের ১ কোটি মুরিদ আছে বলে জানি অথচ তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ১৪ লাখ।

বিএনপি মানুষের মুক্তচিন্তার সঙ্গে নিজেকে দায়বদ্ধ না করলে বিএনপির অবস্থাও ভাল হবে বলে মনে হয় না। বিএনপিকে কারণে অকারণে ভারতের বিরোধিতা করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। বন্ধুত্বের মাঝে কোনও কিছু করা সম্ভব হলে সেখানে কটু কথা বলে অহেতুক ক্লেশ সৃষ্টি করে লাভ কী? ভারততো প্রতিবেশী বড় রাষ্ট্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান রয়েছে।

নেতৃত্ব যারা দেয় তারাইতো তাদের জন্য সত্ত্বা সৃষ্টি করে। নেতৃত্বে মানুষের মন আকৃষ্ট করলেই নেতৃত্বকে মানুষ মূল্যায়ন করে। অসাধু উদ্দেশ্যে নিয়ে নেতৃত্বের পক্ষে ছলাকলা কখনও শোভনীয় নয়। নেতৃত্ব ইতিহাস সৃষ্টি করতে না পারুক, তবে ইতিহাসের সঙ্গে তাল রেখে পা ফেলায় অভ্যস্ত হতে হবে, না হয় পিছিয়ে পড়া অনিবার্য। আমি বিএনপিকে বক্তব্য পরিবর্তনের কথা বলেছি এজন্য। নেতাদের কথায় যুগের চেতনাকে প্রশ্রয় দিতে হবে। যুগের চেতনা না মেটালে রাজনীতি কোলাহলপূর্ণ হবে না।

বিএনপির জন্য খুবই চিন্তার বিষয় হলো মূখ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো। কোনও কোনও মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি হতে পারে। তারেক জিয়ারও শাস্তি হতে পারে। তখনই আরম্ভ হবে উভয় নেতার বিশেষ সংকটপূর্ণ সময়। এবং রাজনৈতিক জীবনের ধৈর্য স্থিতির পরীক্ষা। বেগম জিয়া পূর্বেও জেলে ছিলেন। জেল চীরস্থায়ী নয়। দণ্ড তাকে নির্বাচন থেকে হয়তো বিরত করতে পারবে কিন্তু রাজনীতি থেকে বিরত করার কোনও আইন নেই। সব অবস্থায় তিনি যদি সংগঠন ও রাজনীতিকে ধ্যান-জ্ঞান করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তবে ভবিষ্যৎ নিষ্ফলা হবে না।

বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্র দলের ৭৩৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পরও এতো অসন্তোষ থাকলো কেন বুঝা মুশকিল। সংগত কারণেই বিজ্ঞ ব্যবস্থা ছিলো দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা। দীর্ঘ ১৩১ বছর কংগ্রেস চলছে ১১ জন কার্যকরী সংসদ-এর সদস্য নিয়ে। হাজার হাজার সৈন্য যুদ্ধ করে আত্মত্যাগ করে। যুদ্ধ শেষে ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয় একজনকে। ঘরে ঘরে ফিল্ড মার্শাল উপাধিতো দেওয়া যায় না। বহু বিষয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনীতির নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে। কারণ একটা বড় দল রাজনৈতিক নিয়ম নৈতিকতা ভঙ্গ করলে অপর দলগুলোর পক্ষে নিয়ম মেনে চলা মুশকিল হয়ে পড়ে। তখন দলকে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মোকাবেলা করতে হয়। অসন্তোষ মানব প্রকৃতির সহজাত প্রবৃত্তি। অসন্তোষকে প্রশ্রয় দিলে ঠুনকো বিষয়েও অসন্তোষ মাথাছাড়া দেয়।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রাজনীতিকে বাণিজ্যকরণ করেছে এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। ক’দিন আগে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে এ কথাটি বলেছেন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেছে রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের কব্জায় রাখার জন্য। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে আওয়ামী লীগ ও গড্ডালিকা প্রবাহে ঘা ভাসিয়ে দিয়েছেন। তাদের উপায়ও ছিলো না। না হয় তারা প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ে যায়। জাতীয় জীবনে দুর্নীতির যে লাগামহীন অবস্থা বিরাজ করছে তার জন্য রাজনীতির বাণিজ্যকরণই সিংহ ভাগ দায়ী। অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একজন ত্যাগী শিক্ষিত কর্মীর পক্ষে নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ত্যাগী শিক্ষিত কর্মীরা এখন রাজনীতির ক্ষেত্র ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। তাদের শূন্যস্থান পূরণ করছে সমাজের ব্যবসায়ী শ্রেণি এবং তাদের সঙ্গে আসা সমাজের ‘টাউট-বাটপাররা’। যে কারণে রাজনীতির ক্ষেত্র কুস্তির অখড়ায় পরিণত হয়েছে।

বিএনপিকে রাজনীতি বাণিজ্যকরণের পথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেব। বিএনপি নেত্রীকে জাতি চূড়ান্ত সম্মানের আসনে বার বার বসিয়েছে এখন তিনি যদি জাতিকে রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন তবে তিনি যে জাতির প্রতি ঋণাবদ্ধ তার কিছু হয়তো পুষিয়ে দেবেন। রাজনীতিকে এখন বিএনপি নেতাদের রাজনীতির পথে চালানের কথা চিন্তা করতে হবে। বিদ্বেষের রাজনীতি আর নয়। বিদ্বেষ যদি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দেওয়া হয় তবে সমাজের পক্ষে বিদ্বেষ হজম করা কঠিন হবে। বিদ্বেষের ভারে সমাজ ভেঙে পড়বে। এ বিকলাঙ্গ ভাবনা কখনও একজন রাজনীতিবিদের হতে পারে না। রাজনীতিবিদের উপলব্ধিতে থাকা উচিৎ রাজনীতি শুধু একটি কেতাবি বিষয় নয়। এটি একটি নৈতিক বিষয়ও। নৈতিক অপরিহার্যতা এবং নৈতিক সম্পূর্ণতার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে রাজনীতির সঙ্গে। আর রাজনীতি অর্থনীতির বংশবদ হলে সব মূল্যবোধই কলুষিত হয় পরে।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক

anisalamgir@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ