behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন যুগের পদধ্বনি

আনিস আলমগীর১৮:৫০, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬

Anis Alamgirআমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্র্যাম্প মেক্সিকো থেকে আসা অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধ করতে মেক্সিকো সীমান্তে-সীমান্তে দেয়াল তোলার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ট্র্যাম্প আসলে খ্রিস্টানই নন। রিপাবলিকান সমর্থকেরা ধর্মপরায়ণ পোপ ফ্রান্সিসের কথার কী প্রতিক্রিয়া জানান,  আগামী ককাস বা প্রাইমারিতে তা বোঝা যাবে। গোড়া ক্যাথলিকেরা সাধারণত রিপাবলিকানদের ভোট দেয়। কারণ, তারা গর্ভপাত আর সমলিঙ্গ  বিয়েবিরোধী। ট্র্যাম্প বলেছেন, ইসলামিক টেরোরিস্টদের লক্ষ্য হচ্ছে ভ্যাটিকান। ভ্যাটিকান আক্রান্ত হলে তখন পোপ ফ্রান্সিস প্রার্থনায় বসবেন যেন ট্যাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
রিপাবলিকান অন্য প্রার্থী ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও ট্র্যাম্পের সঙ্গে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তাকে জনপ্রিয় রিপাবলিকান গভর্নর নিকি হ্যালি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে উভয় প্রার্থীকে রিপাবলিকান দল সমর্থন করে না, দল সমর্থন করে জেব বুশকে। জেব বুশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছেন। তবে এখনও জাতীয় জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী টেড ক্রুজ সামান্য ব্যবধানে ট্র্যাম্পের চেয়ে এগিয়ে।
ডেমেক্র্যোটিক পার্টির মনোনয়নের লড়াইয়ে হাডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে হিলারি ক্লিনটন আর ভারমন্টের সিনেটর স্যান্ডার্সের মাঝে। তরুণ ভোটারেরা স্যান্ডার্সের নির্বাচনি প্রচারণা মাতিয়ে তুলেছেন। ধনবৈষম্যে জর্জরিত আমেরিকান সমাজের আমূল সংস্কারের ধ্বনি তুলেছেন স্যান্ডার্স। সমাজতন্ত্রের কথা বলছেন।গত শতকের পাঁচ দশকে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের কথা উচ্চারণ করা ছিল আমেরিকান সমাজে মহাপাপ। ডালাস কন্ট্রিন-এর মূল কথাই ছিল তাই। যুগের দাবি মেটাতে গিয়ে স্যান্ডার্স এখন সমাজতন্ত্রের কথাই বলছেন। ১৯৭০ সালেই উদারনৈতিক অর্থনীতিবিদ কেনিথ গলব্রেইথ ডেমোক্রেটদের পরামর্শ দিয়েছিলেন সমাজতন্ত্রের কথা বলার জন্য যদিওবা তখন ডেমোক্রেটরা গলব্রেইথ-এর কথা শোনেননি। এখন কিন্তু সিনেটর স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারিতে প্রচার প্রচারণায় সমাজতন্ত্রের কথাই সরাসরি বলছেন এবং তরুণরা তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও দেখাচ্ছেন।

এক সময়ে আমেরিকানদের কাছে যা নিষিদ্ধ ছিল এখন আর তা নেই। অবশ্য তার একটা সঙ্গত কারণও আছে। ধনবৈষম্যে সমাজের একটা শ্রেণি পিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য নিত্যযুদ্ধ। এসব সমস্যার সমাধানে আমেরিকার সমাজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমেরিকানেরা রাষ্ট্রের কাছে কোনও কিছু প্রত্যাশা না করে নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছেন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের।

আমেরিকার করপোরেট হাউসগুলোর প্রচণ্ড বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে ৪৫০টি এলাকায় পৌর মালিকানাধীন ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ১৭টি রাজ্যের রাজ্য পরিষদের রাষ্ট্রীয় মালিকায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিল উত্থাপিত হয়েছে। করপোরেট হাউস, বৃহত্তর ব্যাংক- পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মাঝে মানুষের কোনও উপকারে আসছে না তাই সরকারি বা জনমালিকানা ব্যবস্থা নীরবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। রাজ্য সরকার স্থানীয় পৌর করপোরেশনগুলো পরীক্ষার ক্ষেত্রে হিসেবে কাজ করছে। এখন যে দিকে মানুষ ধাবিত হচ্ছে, যে প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোক,  মানুষের গতিরোধ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

১৯৩০ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত আমেরিকা কতগুলো প্রোগ্রেসিভ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছিল এবং এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল বৈষম্য কমিয়ে আনা। ইউরোপের দেশগুলোয় অনুরূপ কোনও কর্মসূচি কখনও ছিল না। আমেরিকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করেছিল ইউরোপের দেশগুলোর অনেক আগেই। আমেরিকায় ১৯৬০ সালে ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি ছিল ১০ ডলার। ১৯৬৯ সালে ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১১ ডলার। এখনও পর্যন্ত  সে মজুরি অব্যাহত রয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে যার ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ২০১৬ সালে এসে ৭ ডলার। এমনকি ডেমোক্রেট পার্টির দুজন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বারাক ওবামার দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তারাও নিম্নতম মজুরি বাড়ানোর কোনও উদ্যোগ নেননি।

আমি আগেই বলেছি গত শতকের তিন দশক থেকে আমেরিকার কর ব্যবস্থা ছিল কল্যাণমূলক। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের পর রিপাবলিক দলের রিগ্যান যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখন তিনি কর ব্যবস্থা পুনঃবিন্যাস করেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৮০ সাল সর্বোচ্চ আয়ের ওপর ৮২% কর আরোপ করা হয়। সর্বোচ্চ আয়ের সীমানা ছিল বছরে এক মিলিয়ন ডলারে ওপর। অর্থাৎ কেউ যদি নেট মুনাফা এক মিলিয়ন ডলারের ওপর করেছে তবে তাকে ন্যূনতম ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার কর  দিতে হয়েছে। ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৮০ এর দশকে করের হার ৯১% গিয়ে পৌঁছে ছিল। ১৯৮০ সালে অর্থাৎ যে বছর রিগ্যান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, সে বছরও ৭০% কর দিয়েছেন কর দাতারা। এ কারণে ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ বছর সম্পদ ওয়ার্ল্ড স্ট্রিটের করপোরেটদের হতে গিয়ে পুঞ্জিভূত হতে পারেনি। সরকারের হাতে প্রচুর অর্থ ছিল দায়দেনাও হয়েছে কম।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর প্রশ্ন উঠে দেশের উন্নয়নে ভাটার টান পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানির আর জাপানের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আমেরিকাকে চুঁই চুঁই। এমত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট রিগ্যান কর ব্যবস্থার পুনঃবিন্যাস করলেন। দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে রিগ্যান কর স্থির করলেন ২৮%। আগে যে ব্যবস্থা ছিল, তা বিলুপ্তির পর করপোরেট হাউসগুলোর হাতে পুনরায় সম্পদ পুঞ্জিভূত হতে লাগল, যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এখন আমেরিকার সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ প্রবল।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমাত্র ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী স্যান্ডার্স ঘোষণা করেছেন তিনি কর ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রগতির ধারায় ফিরিয়ে আনবেন। নিম্নতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলার করবেন। বিনা খরচে  স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার একটা সুরাহা করার উদ্যোগ নেবেন। গ্র্যান্ড রিপাবলিকানদের নিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা রাজনীতিতে ব্যক্তিগত টাকার ব্যবহারের সীমানা তুলে দিয়েছেন।এতে সুবিধা হয়েছে ট্যাম্প আর হিলারির। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের, ব্যক্তিগত অঢেল পুঁজির ব্যবহার হিলারিকে হয়ত বিজয় চিনিয়ে নিতে সুযোগ এনে দেবে আর স্যান্ডার্স হয়তো সুবিধা নাও করতে পারে। তবে তিনি যে ঢংকা বাজিয়ে দিলেন তা বন্ধ করা কারো পক্ষে আর সম্ভব হবে না।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক

anisalamgir@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ