behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

স্থানীয় সরকারের বীজতলা নষ্ট করা যাবে না

তুষার আবদুল্লাহ১৪:২৬, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬

Tushar Abdullahতৃণমূলে আবারও নির্বাচনি হাওয়া। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে তৃণের ধাপ ইউনিয়ন পরিষদ। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সব নির্বাচন দলীয় মোড়ক পেলো।
লর্ড রিপনের সময় থেকে ইউনিয়ন বোর্ড, ইউনিয়ন কাউন্সিল, ত্রাণ কমিটি, ইউনিয়ন পঞ্চায়েত এবং আজকের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এর কাঠামোটি প্রশাসন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। প্রশাসনের আজ্ঞাবহ হয়েই কাজ করেছেন ইউনিয়নের চেয়াররম্যান ও সদস্যরা। সাধারণ ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন ইউনিয়নের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা। নিজ ওয়ার্ড বা গ্রামের সব মতের মানুষ দ্বারা নির্বাচিত হতেন সাধারণ সদস্যরা। চেয়ারম্যানরাও তাই।
দলীয় বিভক্তি যে ছিল না তা নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভক্তি থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে ভোটগ্রহণ হতো অনেকটাই ব্যক্তি ও পারিবারিক ইমেজে। এই দুটো দিক ইউনিয়ন নির্বাচনে গুরুত্ব পেতো। এখন দলীয় পরিচয়ে ও প্রতীকে নির্বাচন হওয়াতে গ্রাম পর্যায়ে রাজনৈতিক বিভক্তি স্পষ্ট হবে। ব্যক্তি পরিচয়কে ছাপিয়ে যাবে রাজনৈতিক পরিচয়। দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন হওয়ার নেতিবাচক দিকগুলো ভোটের মাঠে এখনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোথাও-কোথাও নিয়েছে সাংঘর্ষিক রূপ। নির্বাচনের রাজনৈতিক আচরণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচনকে দ্বান্দ্বিক অবস্থানে নিয়ে গেছে। জাতীয় রাজনীতির দুষ্ট আচরণগুলো ভোটযুদ্ধে প্রবল হয়ে উঠছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল থেকে যারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন, তারা ৫ জানুয়ারির কৌশলে কোনও প্রতিপক্ষ রাখতে চাচ্ছেন না।
এই ‘না চাওয়া’ নিয়ে মাঠে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিএনপির বিরোধ দেখা দিচ্ছে। বিএনপির দিক থেকে অভিযোগ- তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দল থেকে যারা প্রার্থী হচ্ছেন, তারা হুমকি ও ধমক দিয়ে প্রতিপক্ষকে বসিয়ে দিচ্ছেন। এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। কিন্তু বরাবরের মতো সেই অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের কোনও স্পর্শকাতরতা নেই।
তারা এখনও মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ফলে প্রথম ধাপের যে নির্বাচন ২২ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে সেখানে সহিংসতার আশঙ্কা যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে শুদ্ধ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।

যদিও রাষ্ট্র বা সরকারের দিক থেকে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৃণমূলের মাধ্যম হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রামীণ মানুষকে সেবা দেওয়ার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ উন্নয়ন ও সেবার অনেক ধারণা প্রস্ফুটিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দিক থেকে। কিন্তু ২০১৬ তে ছয় দফাতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে যে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে, সেটা ইউনিয়ন পরিষদ নিবাচনকে শক্তিশালী ও সেবার আধার করার পরিপন্থী। এখনও সময় আছে, নির্বাচনের পরিবেশ নির্মল রাখতে ক্ষমতাসীন দলকে যেমন সংযমী থাকতে হবে, তেমনি সংবেদনশীল হতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

যদিও পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাছে কাঙ্ক্ষিত সংবেদনশীলতা দেখা যায়নি। তারা প্রশাসন ও ক্ষমতাযন্ত্রের ভাষায় কথা বলেছে। এতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তার ইমেজ সংকটের মুখে পড়েছে। সেই ইমেজ তারা এবার পুনরুদ্ধার করতে পারবে সেই ইশারা নেই। তবে ক্ষমতাসীন দলের দায়ও কম নেই। তাদের বুঝতে হবে একক প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রশ্রয় আগ্রাসী আচরণেরই পরিচয় দেবে। গণতন্ত্র মনস্কতাকে স্বাগত জানাবে না। নির্বাচনি মাঠের এই হাওয়া স্থানীয় সরকারের বীজতলাকে কেবল ক্ষতিগ্রস্তই করবে।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ