behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের পর এবার ভারতের পালা

প্রভাষ আমিন১৭:১৩, মার্চ ০৫, ২০১৬

Probhash Aminঅনেকেই খেলার সঙ্গে রাজনীতি না জড়ানোর পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলার আগে। ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের কাছ থেকে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি আমরা। কিন্তু সত্যিটা হলো, এই এতদিন পরও বাংলাদেশের অনেকেই হৃদয়ে পাকিস্তানকে ধারণ করেন। বাংলাদেশের অনেকেই পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে মাঠে যান, পাকিস্তানের হয়ে গলা ফাটান, আফ্রিদিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্ল্যাকার্ড বহন করেন। আমিও নীতিগতভাবে খেলার সঙ্গে রাজনীতি না মেলানোর পক্ষে। বাংলাদেশের কারও কাছে পাকিস্তানের খেলা ভালো লাগতেই পারে। ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার- তাদের সময়ে পেসার হিসেবে বিশ্বসেরা ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাপারে আমার ঘৃণাটা এতই তীব্র যে খেলার সঙ্গে রাজনীতি না মেলানোর তত্ত্বে নীতিগতভাবে বিশ্বাস করলেও মন থেকে মেনে নিতে পারি না। আমি দুঃখিত, আমি অতটা নির্মোহ থাকতে পারি না।
পাকিস্তানকে সামনে পেলেই ঘৃণার বিষ উঠে আসে। আর মার্চ মাসে এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারানোর যে আনন্দ তার তুল্য কিছু নেই। সিরু বাঙালি নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২০ জুন পাকিস্তানি হায়েনা সৈন্যদের মৃত্যুগুহা থেকে ফিরে যে আনন্দ পেয়েছিলাম, গত রাতে মাশরাফি বাহিনীর পাকিস্তান বধে তার চেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি। আমার যদি তেমন ক্ষমতা থাকত, ওদের প্রত্যেককে আমি তাহলে একটা করে বাড়ি উপহার দিতাম।’
মানুষের আবেগের আসলে কোনও বলা-কওয়া নেই। মুখে বললেই, খেলার সঙ্গে রাজনীতি না মেশানোর মতো নির্মোহ হওয়া সম্ভব নয়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা তো রাজনৈতিক কারণেই।
১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ম্যাচ অমন উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণেই। তাই বললেই রাজনীতিকে দূরে রাখা যায় না। 

ভালো ব্যাটসম্যান থাকলে আপনি ম্যাচে পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারবেন, কখনও কখনও দু’একটা জয়ও পেতে পারেন। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আধিপত্য নিয়ে জিততে হলে চাই স্ট্রাইক বোলার। এতদিন বাংলাদেশের জয় ছিল ‘পুতু-পুতু’ স্পিননির্ভর। মাশরাফিই প্রথম তাতে ‘পৌরুষ’ আনেন। আর তার নেতৃত্বে গত বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের জয়ের রথ তীব্র গতিতে এগুচ্ছে।

গতবছর ভারতের বিপক্ষে চার পেসার নিয়ে খেলতে নেমে বাংলাদেশ বিশ্বকেই নতুন বার্তা দিয়েছে। মাশরাফি, মুস্তাফিজ, তাসকিন, আল আমিন- এখন যে কোনও ব্যাটসম্যানের জন্যই আতঙ্ক। মুস্তাফিজ নেই বলে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে হাহাকার ছিল, তা নিমেষেই মিলিয়ে গেছে তাসকিন, আল আমিন আর মাশরাফির গতিতে। পাকিস্তানের বোলিংও দুর্ধর্ষ। তাই ১৩০ রানে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমেও কিছুটা সংশয় ছিল। সব সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন মাশরাফি নামের এক সুপারম্যান। সেই ম্যাচের ঘোষিত ম্যান অব দ্যা ম্যাচ সৌম্য সরকার। তবে আমার বিবেচনায় ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ সাকিব আল হাসান। ম্যাচের ১৬ বল বাকি থাকতে ১৩ বলে ৮ রান করা সাকিব আউট হতে পেরেছিলেন বলেই না বাংলাদেশ জিততে পেরেছে। সাকিব আরও এক ওভার টিকলে বাংলাদেশকে আবার কাঁদতে হতো। বাংলাদেশের অনেক জয় এসেছে ‘বাংলাদেশের জান সাকিব আল হাসান’-এর অলরাউন্ড নৈপূণ্যে। সাকিব শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বেরই সেরা অলরাউন্ডার। বিশ্বেও সব লীগেই তার ডাক পড়ে। তবে এবারের এশিয়া কাপে সাকিব যেন নিজেরই ছায়া। পাকিস্তানের ম্যাচে আউট হওয়ার পর যা করেছেন, তা নিশ্চয়ই প্রবল হতাশা থেকে। কিন্তু তাতে এই গৌরবের রাতেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাথা হেট হয়েছে। ভাগ্য ভালো, শেষ পর্যন্ত তিরস্কারেই পার পেয়েছেন।

তবে সেই ম্যাচে আরও একজন ‘ম্যান’ ছিলেন, তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ নন ম্যান অব দ্য কান্ট্রি- মাশরাফি বিন মুর্তাজা। ১৬ বলে ২৬ রানের কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মিঠুনকে না পাঠিয়ে নিজেই ক্রিজে আসেন। নেমেই এখন পাকিস্তানের একমাত্র অস্ত্র মোহাম্মদ আমিরকে পরপর দুই বলে চার মেরে মুঠো ফসকে যেতে বসা জয়কে আবার আয়ত্বে নিয়ে আসেন মাশরাফি। দায়িত্ব নিয়ে অমন ঝুঁকি নিতে বুকের পাটা লাগে, দেশপ্রেম লাগে। যা মাশরাফির চেয়ে বেশি কারও নেই। একেই বলে নেতা। সত্যিকারের নেতা বলেই মাহমুদুল্লাহকে দিয়েছিলেন জয়সূচক রান নেওয়ার সুযোগ। কারণ ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের মহাকাব্যিক পরাজয়ে শেষ বলে স্ট্রাইকে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। শেষ বলে চার মারতে না পারার আক্ষেপ পুষে রেখেছিলেন চার বছর। আরেকটি জয় দিয়েই তা ভোলার উপলক্ষ্য পেলেন। মাশরাফি শুধু এই ম্যাচে নয়, সাম্প্রতিক বাংলাদেশের বদলে যাওয়ারও নায়ক। আমার ক্ষমতা থাকলে আমি মাশরাফিকে বাংলাদেশের আজীবন নন প্লেয়িং ক্যাপ্টেন করে রাখতাম। মাঠে তার উপস্থিতিটাই বদলে দেয় দলের মানসিকতা।

শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করেছি, পাকিস্তানকে বিদায় করেছি, এবার ভারতের পালা। প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত আমার সবচেয়ে প্রিয়। বিশেষ করে গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত যেভাবে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়ে জিতিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই উত্তেজনার বারুদে ঠাসা। আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অন্যরকম উত্তেজনা হতো, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। কিন্তু পাকিস্তান আস্তে আস্তে ক্রিকেটের দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। রাষ্ট্র হিসেবেই পাকিস্তান যেভাবে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে, মনে হয় না তাদের ক্রিকেট আর কোনওদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। বরং শিগগিরই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা চলে আসবে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে।

পাকিস্তানের সঙ্গে একতরফা ম্যাচ খেলতে আর কোনও দেশই আগ্রহ পাবে না। ফাইনালের টিকেট নিয়ে যে পাগলামি শুরু হয়েছে, তা আর কোন দেশে আছে? কোন দেশে ক্রিকেটের জন্য, দেশের জন্য এত ভালোবাসা আছে?

গতবছর বাংলাদেশ সফরে এসে মুস্তাফিজের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে গেছে ভারত। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে হারলেও টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাসে টগবগে বাংলাদেশের সামনে ভারত খুব একটা সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয় না। ভারতের ব্যাটসম্যানরা স্বস্তিতে থাকতে চাইবেন যে মুস্তাফিজ নেই। তবে মাশরাফি, তাসকিন, আল আমিনরাই নিশ্চয়ই তাদের স্বস্তিটুকু কেড়ে নেবে। বোলিং একদম ঠিক আছে। তবে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে উন্নতি করতেই হবে। তামিম ইকবাল নিশ্চয়ই তার প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারতকে পেলেই জ্বলে উঠবেন। মুশফিকও তার সেরাটা দেখানোর অপেক্ষায় আছেন। আর পরীক্ষিত পারফরমার সাকিব নিশ্চয়ই তার সব অপমানের শোধ নেবেন ফাইনালেই।

আগের লেখায় লিখেছিলাম, বাংলাদেশ এখন আর কাউকে ভয় পায় না। সত্যি বাংলাদেশ কাউকেই ভয় পায় না, ভারতকে তো নয়ই। টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েই। গো ইস্ট, গো ওয়েস্ট: বাংলাদেশ ইজ দ্য বেস্ট।

লেখক:  অ্যাসোসিয়েট হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

 ইমেল: probhash2000@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ