behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

রাষ্ট্রের চোখ সুন্দর হোক

তুষার আবদুল্লাহ১২:১২, মার্চ ১২, ২০১৬

তুষার আবদুল্লাহবনবিবি’র কথা মনে পড়ছে। গতবছর ঠিক এই সময়টায় বনবিবি’র কাছে ছিলাম। তাকে দূর থেকে দেখেছি বহুবার, কখনও গিয়েছি কাছ ঘেঁষে, কিন্তু অমন অন্তরঙ্গভাবে কখনও পাইনি। তার কেউড়া ফুলের সুবাস এখনও আমার শরীরে মাখা। কেউড়ার সেই আতর আর বনবিবি’র আদরে আজও আমি উষ্ণ। বনবিবিকে আমি পেয়ে ছিলাম পশুরের কূলে আর পশুর শ্যালা আর চিলা নদীর মোহনা থেকে।
তিন নদীর মোহনা থেকে বনবিবি’র শরীরের যে রূপ আমি দেখেছি, সেই রূপের নেশা আমার আজও কাটেনি।
তিন-নদীর মোহনার জনপদ জয়মনি। সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদ। জয়মনির কূলে দাঁড়িয়ে যেমন সুন্দরবনকে দেখেছি। তেমনি করমজল দিয়ে তার অন্তরে প্রবেশ করেছি।
অন্তরে প্রবেশ করেছি যত ততই আঁতকে উঠেছি, হয়েছি বিষন্ন। ক্রোধ তৈরি হয়েছে অসচেতন পর্যটকদের প্রতি। ক্ষোভ জন্মেছে বনবিভগের প্রতি। বনবিবি’র সেবক তারা। কিন্তু সেবকের মুখোশ পড়ে কীভাবে তারা বনবিবিকে হত্যা করছে, তার প্রমাণ সুন্দরবনের প্রতিছত্রে।
সুন্দরের সবুজ বুকে কংক্রিটের উঁচু টাওয়ার চোখে জ্বালা ধরিয়েছে। সুন্দরবনের মাঝে কংক্রিটের এই স্থাপনা কেন? সুন্দরকে উঁচু থেকে দেখার আর কি কোনও উপায় খুঁজে বের করা যেতো না? কেবল এই স্থাপনার কথাই কেন বলি, জয়মনিতে পশুর নদীর তীরে খাদ্য বিভাগের সাইলো স্থাপনাটিকেও মন মেনে নিতে পারেনি। সাইলো তৈরির আগে জয়মনি জনপদের যে প্রতিবেশ ছিল, বিনষ্ট হয়েছে তা। সাইলোকে ঘিরে এক প্রকার নগরায়ন শুরু হয়ে গেছে। হচ্ছে বন উজাড়। খুব কাছের অতীতেও যে পথে বাঘ এসে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতো। তারপর আবার পশুর নদী পেরিয়ে ঢুকে যেতো বনে। সেই জনপদে এখন ট্রাকের গর্জন। জয়মনির বাসিন্দারা অভিযোগ তুলে বলেছিলেন- বনের ওপর জীবিকা নির্ভর যাদের, তাদের যাপিত জীবন সুন্দরবনের মতোই বিপন্ন।
জয়মনিকে বছরান্তে স্মরণে এনে দিলো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেইবার যখন সুন্দরবনে দিন পনের'র ব্যবধানে দুইবার যাওয়া হয়েছিল, তখনও বনবিবি’র সন্তানেরা, সুন্দরবন ঘিরে থাকা মানুষেরা বলেছিলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনকে বিপন্ন করে তুলবে। যে বনবিবি সিডর, আইলাতে বুক চিতিয়ে আমাদের রক্ষা করেছে, তাকে হত্যা করা হবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে। বনবিবি যখন নিজেই বিপন্ন হবে, তখন সে কি করে এই অঞ্চলের মানুষের মুখে অন্ন জোটাবে, রক্ষা করবে জনপদ?

বলা হচ্ছে বাঘ তো আরও দূরে চলে যাবেই, নষ্ট হবে ডলফিনের অভয়ারণ্য। এই দুইয়ের নাম হয়তো আলোচনায় এসেছে, কিন্তু জানা অজানা আরও কত বৃক্ষ ও পশু, মৎস্য প্রজাতি যে বিলুপ্ত হবে, তা হয়তো হিসেবে তোলা যাবে না।

বাংলাদেশ জ্বালানি ক্ষুধার্ত দেশ। বিদ্যুতের চাহিদাকে স্পর্শ করতে পারেনি উৎপাদন। প্রাথমিক জ্বালানি গ্যাস সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ। সেই উদ্যোগকে সাড়া দিয়েছে সকল মানুষ। বিতর্ক কেবল ছিল কয়লা উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে। বাংলাদেশ কয়লা উত্তোলন নিয়ে সিদ্ধান্তে না গিয়ে আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এগোয়। এতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের আপত্তি থাকলেও সাধারণের আপত্তি ছিল না। বিদ্যুৎকেন্দ্র হোক, কিন্তু সেটা বনবিবি’র আঁচলে কেন?

এখন শুধু যে সুন্দরবন রক্ষায় পথে আন্দোলনকারীরা বলছেন তা নয়, সরকার, রাষ্ট্রের পক্ষের উন্নয়নের নীতি-নির্ধারকরাও বলছেন- উন্নয়ন প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিপন্ন করে। বাংলদেশের জনগণ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সহযোগী বরাবরই। তবে অবশ্যই পরিবেশ ও বনবিবিকে বিপন্ন করে নয়। সরকারকে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতে হবে সুন্দরের চোখে। সুন্দর চোখ নিশ্চয়ই সুন্দরবনকে হত্যা করে, ঘরে ঘরে আলো জ্বালাবার স্বপ্ন দেখবে না, দেখাবে না। তাই শুভকামনা রাষ্ট্রের চোখ সুন্দর হোক।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ