Vision  ad on bangla Tribune

ভূতটা সর্ষের মধ্যেই!

প্রভাষ আমিন১২:২৯, মার্চ ১৪, ২০১৬

প্রভাষ আমিনবাংলাদেশের ৮০০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কিছু টাকা গেছে শ্রীলঙ্কায়। বেশিরভাগ টাকা গেছে ফিলিপাইনে। সেখান থেকে ক্যাসিনো হয়ে নাকি হংকং চলে গেছে। টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে সবাই আশাবাদী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ধার হলেও ৪/৫ বছর লাগবে। তবে আমি অত আশাবাদী নই। হয়তো দায়ীদের চিহ্নিত করা যাবে, তৎপর হলে শাস্তিও দেওয়া যাবে। কিন্তু টাকা ফিরে পাওয়া নিয়ে সন্দেহ আছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা জানি না, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে, টাকা একবার হাতবদল হলে ফিরে পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশে হুন্ডি কাজল থেকে শুরু করে যুবক, ডেসটিনি, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, শেয়ারবাজার- কোনও টাকাই ফিরে পাওয়া যায়নি। হাজার হাজার অসহায় প্রতারিত মানুষের বোবা কান্না এখনও গুমরে ফেরে বাতাসে। সমস্যাটা এতদিন ছিল ব্যক্তি পর্যায়ের, এখন শুরু হয়েছে রাষ্ট্রীয় লুটের এবং তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।
ক’দিন আগে এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর এবার তো রীতিমত কাঁপাকাঁপি দশা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮০০ কোটি টাকা জুয়ার টেবিলে চলে গেছে। কী ভয়ঙ্কর! আগে মানুষ ঘরে টাকা রাখতো। অল্প টাকা হলে মাটির ব্যাংকে, বেশি হলে সিন্দুকে। পরে ব্যাংক টাকা রাখার নিরাপদ ব্যবস্থা হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করে। ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড আসার পর সবাই আরও নিশ্চিন্ত হন, যাক এখন আর কাগজের টাকা বহন করতে হবে না। প্লাস্টিক মানি মানে স্মার্ট কার্ড নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘোরাফেরা করা যাবে। কিন্তু ছিনতাইকারীরা ওভারস্মার্ট। তারা লোকজনকে ধরে এটিএম বুথে নিয়ে অস্ত্রের মুখে পাসওয়ার্ড দিয়ে টাকা তুলিয়ে নিয়ে যেতো। আর এখন তো স্কিমিং মেশিন বসিয়ে গ্রাহকের তথ্য চুরি করে তার অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেয় জালিয়াতরা। আর এখন নিছক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট নয়, রাষ্ট্রের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়ার উদ্যোগ। লোকজন আবার মাটির ব্যাংকে টাকা রাখার কথা ভাবতে শুরু করেছে।
এটিএম জালিয়াতির পর একটা জিনিস পরিষ্কার, বাংলাদেশ যতটা ডিজিটাল হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা ততটা শক্ত হয়নি। অধিকাংশ ব্যাংকই ইচ্ছামত ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড সার্ভিস চালু করেছে। যেখানে সেখানে এটিএম বুথ বসিয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্যও যে বিনিয়োগ দরকার সেটা তাদের মাথায় আসেনি। তাই আইটি খাতে সার্ভিস অনেক বেশি হলেও লোকবল ছিল এবং আছে একেবারেই কম। তাই তো দেশি-বিদেশি চক্র মিলে গ্রাহকদের টাকা তুলে নিয়েছে। তবে এটিএম কেলেঙ্কারি থেকে একটা ব্যাপার আবারও পরিষ্কার হয়েছে, ভূতটা সর্ষের মধ্যেই আছে। ব্যাংকাররা জড়িত না থাকলে এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমি অত প্রযুক্তিবান্ধব নই। তাই কীভাবে সুইফট কোড পাঠিয়ে নিউইয়র্ক রিজার্ভ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ লোপাটের ব্যবস্থা হয়েছিল, তার কারিগরি ব্যাখ্যা দিতেও পারবো না, বুঝতেও পারবো না। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারছি, জালিয়াতরা বেশ আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছিল।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ