হিলারি ‘আফা’ আসছেন!

Send
মাসুদা ভাট্টি
প্রকাশিত : ১৭:০৭, মার্চ ১৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, মার্চ ১৪, ২০১৬

Masuda-Vatti-Cহঠাৎ করে নয়, বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ সেই শুরু থেকেই। আমরা যদি প্রাক-ঔপনিবেশিক আমলের দিকে তাকাই তাহলেও দেখতে পাই যে, এই ব-দ্বীপে খাদ্য, নারী আর নিরাপদে বসবাসের জন্য সুদূর ইউরোপ এবং আরবভূমি থেকে দস্যু-তস্করেরা এসেছে। ধর্মের নামে কচুগাছের মতো মানুষ কাটতে কাটতে উত্তর দিক থেকে এসেছে দখলদার বাহিনী।
এদেশের নরম পলিমাটির মতো মানুষ তাদেরকে মেনে নিয়েছে কিংবা একটু রূঢ় কথায় বলতে গেলে, তাদেরকে প্রতিরোধের সাহসই হয়তো পায়নি। পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শক্তির দীর্ঘ দু’শো বছরের শাসনকাল বাংলাকে কেন্দ্র করেই ভারত উপমহাদেশের দখল নিয়েছে। ততোদিনে পৃথিবী একটু আধুনিক হয়ে উঠেছিল বিধায় ব্রিটিশ রাজত্ব ধর্ম দিয়ে বিভেদ তৈরি করে শাসনব্যবস্থায় বজায় রাখতে চাইলেও সেটা সম্ভব হয়নি তাই তারা বিদায় নিয়েছে কিন্তু ভারত উপমহাদেশকে স্থায়ী বিভক্তিও দিয়ে গেছে। কিন্তু একমাত্র পাকিস্তানিদের ক্ষেত্রে বাঙালির যে সম্মিলিত বিরোধ তা বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদেরকে একটি নতুন মাত্রা দিতে পেরেছে। এর আগ পর্যন্ত বাঙালি জাতিসত্ত্বার এই দৃঢ় ও স্বাধীনচেতা অভিব্যক্তিটি ঠিক লক্ষ্য করা যায়নি, মোটা দাগে বড় দু’টি ধর্মবিশ্বাসীদের একত্রিত প্রয়াস পাকিস্তান-বিরোধিতাতেই মৌলিকত্ব লাভ করেছিল। কিন্তু আজকের লেখার বিষয়বস্তু সেটা নয়, বরং বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক দখলদারীদের বা মোড়লদের কর্মকাণ্ড যে এখনও প্রবলভাবে সক্রিয় সেকথাটিই আজকের লেখায় তুলে ধরতে চাইছি।
ভূরাজনৈতিক গুরুত্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুবিধাজনক সেকথা অত্যন্ত পুরোনো। কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরত্বপূর্ণ কিছু আছে কিনা বাংলাদেশকে গিয়ে আন্তর্জান্তিক বিরোধিতার সেটি খুঁজে বের করা এখন অতীব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাত্তরে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে যে বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল আমেরিকা কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইস্যুতে পাকিস্তানকে মাঝে রেখে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার তা কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ভেতর দিয়ে সম্পূর্ণতা লাভ করেছিল।

আজকে আমরা একথা বলতেই পারি যে, ত্রিশ লাখ শহীদের বিনিময়ে বাঙালি যদি স্বাধীনতা অর্জন করে থাকে তাহলে ৩০ লাখ শহীদের লাশের বিনিময়েই চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব পাকা হয়েছিল এবং সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ছিল সেই দুই বন্ধুর মিলিত প্রয়াস। কিন্তু গণহত্যার পাপে তৈরি বন্ধুত্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের শেষে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতোই অর্থনৈতিকভাবে জড়িয়েছে ততোই দু’পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং এখনতো সম্পর্ক এমন এক বৈরিতায় পৌঁছেছে যে, দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে যে কোনও মুহূর্তে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজতে পারে।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ