behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

বাধ্য হয়ে, সৎ সাহস বা স্বেচ্ছায় নয়

গোলাম মোর্তোজা১৪:৩১, মার্চ ১৬, ২০১৬

গোলাম মোর্তোজাড. আতিউর রহমান একজন সজ্জন মানুষ। প্রায় সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। ছোটদের স্নেহ করেন, বড়দের সম্মান-শ্রদ্ধা করেন। অন্য অনেকের মতো আমার সঙ্গেও তার স্নেহ-শ্রদ্ধার সম্পর্ক। তিনি গভর্নর হতে যাচ্ছেন, আগে থেকেই জানতাম। গভর্নর হয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তো বটেই, ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দিত হয়েছি। মাটি থেকে উঠে আসা মানুষটির যেভাবে গভর্নর পদ থেকে বিদায় নিতে হলো, তা শুধু তার নিজের জন্যেই দুঃখজনক নয়, আমাদের জন্যেও কষ্টকর।
মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে তার কাজ দিয়ে। ব্যক্তি আতিউর রহমান সজ্জন মানুষ, এই পরিচয়ে এক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা যাবে না। আতিউর রহমানের সঙ্কটকালে যে কথা বললাম, লিখলাম- সেটা গভর্নর আতিউর রহমানের কার্যক্রম নিয়ে। ব্যক্তি আতিউর রহমানকে নিয়ে নয়।
কোনও একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর প্রায় সবাই তার প্রশংসায় মেতে ওঠে, এটা আমাদের সমাজের রীতি হয়ে গেছে। আমি এমন রীতিতে বিশ্বাস করি না। যিনি যেমন ছিলেন, তার মূল্যায়ন তেমনই হওয়া উচিত।
ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেছেন, এখন অনেকেই তার প্রশংসা করছেন। পদত্যাগ করে তিনি মহান হয়েছেন, এখানে কেউ পদত্যাগ করেন না, তিনি করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন... ইত্যাদি কথা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে তার সময়ে অর্থনীতি ভালো হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে... ইত্যাদি। আসলে কি বিষয়গুলো এমন?
এ প্রেক্ষিতে কিছু কথা।
১. ড. আতিউর রহমান স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাকে সকাল ৯টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন, এটা ছিল অর্থমন্ত্রীর হুমকি। পদত্যাগ না করলে অর্থমন্ত্রী তাকে অপসারণ করতেন। এর জন্যে অর্থমন্ত্রী সম্মতি নিয়ে রেখেছিরেন প্রধানমন্ত্রীর।

সুতরাং স্বেচ্ছায়, সাহসিকতার সঙ্গে তিনি পদত্যাগ করেছেন, তথ্যটি সঠিক নয়।

২. গভর্নর হওয়ার আগের শিক্ষক-অর্থনীতিবিদ-এনজিও’র (তার নিজের একটি এনজিও আছে) আতিউর রহমান, আর গভর্নর আতিউর রহমানের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তার এই পরিবর্তন হয়ত তিনি নিজেও পুরোটা বুঝতে পারেননি। ব্যাংকিং না করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘোরাঘুরি করেছেন বেশি। পদত্যাগের পরে তিনি বলেছেন, নিজের সন্তানদের সময় না দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে সময় দিয়েছেন। বাস্তবে তিনি তা করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবেই তিনি ঘোরাঘুরিসহ অন্যান্য কাজে অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছেন। যা আসলে গভর্নরের কাজ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের কার্যক্রমে সময় কম দেওয়ায় সবকিছু তার জানা থাকেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা আছেন। অযোগ্য, অসৎ কর্মকর্তার সংখ্যাও অনেক। অসৎ, অযোগ্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি বা নিতে পারেননি। ফলে ভেতরে ‘চেইন অব কমান্ড’ ঠিক ছিল না।

৩. ‘চেইন অব কমান্ড’র সমস্যা তার নিজের ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগের সুযোগে তিনি প্রতিনিয়ত অর্থমন্ত্রীকে বাইপাস করেছেন। সর্বশেষ এই অর্থ চুরির সময়ে তা প্রকোটভাবে প্রকাশিত হলো। এটা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, বাংলাদেশের প্রায় কোনও প্রতিষ্ঠানের ‘চেইন অব কমান্ড’ ঠিক নেই। তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপের কর্মকর্তারা তার ওপরের দুই তিন ধাপ অতিক্রম করে কথা বলেন। এমন অবস্থা কোথায় কোথায়, কতটা প্রকোটভাবে আছে- তা কমবেশি প্রায় সবারই জানা। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকেরটা প্রকাশিত হলো।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ