behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

ফেসবুকে শিশু-কিশোর কী করে!

উদিসা ইসলাম০৯:৩৬, মার্চ ১৮, ২০১৬


  

 

২.

১২ বছরের সিয়ামকে জিজ্ঞেস করা হলো সারারাত ফেসবুকে কি করো? আনলিমিটেড ফান। বাসায় কিছু বলে না? জানেই না। জানে না কীভাবে? বাবা-মা রাত করে বাসায় আসে, এসে দেখে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। কিন্তু ফোনে ইউজ করি। আমার ক্লাসের কোচিং এর সব বন্ধুরাই থাকে। কী নিয়ে আলাপ করো, একটু লাজুক হাসি হেসে বলল, অনেককিছু। মেয়েদের নিয়ে ফান করি। ওরা যে আমাদের মতো শক্তিশালী না এগুলো নিয়ে ফান কার্টুন ভিডিও বানায় বড় ভাইয়েরা সেগুলো দেখি। আমাদের সিক্রেট অনেক পেজ আছে।

আজকালের নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবার শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দেওয়া এবং ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার শিশু কিশোরদের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে এমনটা এযুগে বলা সম্ভব না। কিন্তু এর মধ্যে আপনার শিশু কোন বয়সে কোনটা করবে তার দিকনির্দেশনা দেওয়ার কোনও না কোনও জায়গাতো থাকতে হবে। আপনার ৯ বছর বয়সী মেয়ে বা ছেলে পর্নোগ্রাফি দেখলে তাকে বুঝাতে হবে এটা যৌনসম্পর্কের উদাহরণ না। এই দায়িত্বটা কতটা পালন করেন আজকালের অভিভাবকরা। আর করলেও নয়বছরের মস্তিস্ক আপনার পরিণত বয়সের ব্যাখ্যা বুঝবে কিনা সেটা একবার ভাববেন কি?

আমরা শৈশব কেড়ে নিয়েছি ওদের। শিশুরা মেশে বাবা মায়ের বন্ধুদের সাথে। তার জন্য রাখিনি তাদের নিজেদের জগত। ফেসবুকে তারা যাদের সাথে যোগাযোগ করছে তারা সমবয়সী না। এমনকি বড়দের সাথে মিশতে নিজেকে বড় বানিয়ে নিয়ে মিশছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে শিশুতোষ বলে যে সময়টা তার জীবনের জন্য জরুরি, সেটা সে হারাবে। হারিয়ে ফেলছে প্রতিনিয়ত। সব বাবা-মা একরকম তা বলছি না। কিন্তু বড় অংশ যখন সেইদিকে যান তখন সমাজে যারা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসান না তারা হঠাৎই নিজেদের এলিয়েন ভাবতে থাকেন।

শেষ করি একটা গল্প দিয়ে। একদেশে এক রাজাকে তার এক চ্যালা বুদ্ধি দিলো: রাজা মশাই, আপনি মানুষ, আপনি সেরা। অন্যরাও যদি মানুষ হয় তাহলে কি করে আপনি আলাদা? রাজার মনে ধরলো কথাটা। এখন উপায়? মোসাহেব কহিলেন, সামনের বৃষ্টিতে সবাইরে বাধ্যতামূলক ভিজতে হবে, আর এই পানি গায়ে লাগলে সবাই শুয়োরে পরিণত হবে। রাজা মশায় একাই মানুষ। তেমনই হলো। এরপর চারপাশে শুয়োর ঘোরে, রাজা মশায় মানুষ। রাজা একাকিত্বে ভোগেন, কাঁদেন, মানুষ হিসেবে গর্ব বোধ করেন কিন্তু সঙ্গীতো কেউ নেই। একসময় একটা বটগাছের নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানি গায়ে মেখে রাজা মশায়ও শুয়োর হয়ে তার একাকিত্ব ঘোচান। রাজার মতো ‘আমার গায়ে না লাগলেই হলো’ ভাবনা বাদ দিয়ে সবাইকে নিয়ে ভাবার এখনই সময়। সমাজ ভাঙছে।

লেখক: সাংবাদিক, বাংলা ট্রিবিউন

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ