ব্যানারে সীমাবদ্ধ শব্দ

Send
মাহমুদুর রহমান
প্রকাশিত : ১০:২০, মার্চ ১৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭, মার্চ ১৮, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানএকটি সময় ছিল যখন রিকসা-চালককে ভাড়া জিজ্ঞেস করলে তারা বলত, ‘ন্যায্য ভাড়া দিয়েন’। ওই সম্মানসূচক কথাগুলোর তাৎপর্য ছিল বিশাল। আরোহীর বিচার-বিবেকের ওপর আস্থার ভিত এতই মজবুত যে আশা অনুযায়ী ভাড়া না পেলেও তেমন উচ্চ- বাচ্য হতো না। সামাজিক সম্মুখ যাত্রায় কেন জানি সেই সম্মান আর আস্থা কোথায় মুখ থুবরে পড়ে গেছে। দেশপ্রেম, আস্থা, ন্যায্যতা কথোপকথনের মুক্ত ডানা থেকে সরে এসে ব্যানারের সীমাবদ্ধতায় আটকে গেছে। তাই বিশ্বস্ততার প্রতীক ব্যাংক ট্যাগ লাইনে আস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে বাধ্য হয় এই আশায়, যে নিরাশার সাগরে বিশ্বাসের ছিটে-ফোটা রেশ যদি ধরে রাখা যায়।
ন্যায্য এমনই শব্দ যার পরপরই চলে আসে তার বিপরীত অর্থ অন্যায্য। সেটা যে অস্বাভাবিক তাও বলা যাবে না। বাংলার কিছু শব্দ ওরকমই । অন্যায্য কিছু হচ্ছে বলেই তো ন্যায্যতা নিয়ে প্রসঙ্গ ওঠে। বহুকাল ধরে ন্যায্য মূল্য শব্দগুলো সবার মনেই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কম বা ন্যায্য দামে পণ্য বা সেবা ক্রয় মনের কাছের প্রিয় বিষয়। কষ্টার্জিত আয়ের সাশ্রই ব্যয় সবারই লক্ষ্য, বিশেষ করে দুর্মূল্যর বাজারে।
ব্যবসার পুরোনো সেই হিসেব-লাভ করতে হবে, কিন্তু কতটা লাভ? অত্যাবশ্যকীয় এবং সৌখিন পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত: ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার। যে পণ্য না কিনলেই নয়, তা বাড়তি দামে কিনে বা কম ব্যবহার ছাড়া গতি নেই। শৌখিনতা, বিশেষ করে যারা সেই বিলাসিতা করার সামর্থ রাখেন, এমনই ইচ্ছে যার সীমানা কেবল ব্যক্তির ইচ্ছে শক্তি। নিত্য প্রয়োজনীয়তা পণ্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং দুর্লভ চাহিদা-চালানের অসম সমীকরণ সমাধানে রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। উদ্দেশ্য সাধারণ জনতা হলেও মূলত: লাভবান হন মধ্যবিত্ত সমাজ।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ