behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

৪০ দিন পর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ!

প্রভাষ আমিন১৬:২১, মার্চ ১৮, ২০১৬

ভালো নেতা কখনও তার অধস্তনদের বিপদের মুখে ঠেলে দেন না। নিজের বুক পেতে বিপদের মুখে দাঁড়ান। ড. আতিউর রহমানও হয়তো তার অধস্তন কাউকে বাঁচাতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর এই চেষ্টা করতে গিয়েই তিনি ভুল করেছেন। এত বড় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ঊর্ধ্বতনদের জানানোর বিলম্বের কথাটি তিনি স্বীকার করেছেন। দেরির কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ‘তদন্তাধীন বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে খানিকটা সময় লেগেছে।’ এই ‘খানিকটা সময়’ একমাসেরও বেশি। দেশের রিজার্ভের ৮০০ কোটি লোপাট সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে একমাসের বেশি সময় লাগাটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 আগেই বলেছি, এ ঘটনায় ড. আতিউরের মূল অপরাধ প্রধানমন্ত্রীকে জড়ানো। চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আগে জানিয়েছেন, তবে সেটাও প্রায় একমাস পর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক ডাইনামিক। প্রায় সব দিকেই তার নজর। এটা সবাই বুঝে গেছে। তাই কোনও ঝামেলা হলেই সবাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি সরকার চালান, দল সামলান, প্রধান বিরোধী দলের অভ্যন্তরীন কোন্দল মেটান, ছেলের জন্মদিনে পোলাও রান্না করেন, নাতী-নাতনিদের আবদার মেটান। সবকিছুই করেন তিনি নিপুণ দক্ষতায়। সবদিকে প্রধানমন্ত্রীর নজর আছে বলেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণেই বিশ্বব্যাংককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু সবকিছুর এই এককেন্দ্রিকতা সুশাসনের লক্ষণ নয়। সবাই যার যার কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীর চাপ কিছুটা কমে। তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সময় দিতে পারেন। গভর্নরের উচিত ছিল, ঘটনা জানার সঙ্গে-সঙ্গেই অর্থমন্ত্রীকে তা জানানো। তিনি তো অর্থমন্ত্রীকে জানাইনি, এমনকি পদত্যাগটাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরাবর। অর্থমন্ত্রী গভর্নরের এই ভূমিকাকে বর্ণনা করেছেন ‘অডাসিটি’ হিসেবে। গভর্নরের নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে আর পরে পরিস্থিতির তো কোনও বদল হয়নি। তাহলে তিনি আগে না করে, পরে পদত্যাগ করলেন কেন? কারণ তিনি বুঝে গিয়েছিলেন পদত্যাগ না করলে, তাকে সরিয়ে দেওয়া হতো। বাংলাদেশে সবাই মেঘ বুঝে ছাতা ধরতে উস্তাদ। গভর্নরের বিদায় অবশ্যম্ভাবী বুঝে সবাই তার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ড. আতিউরের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যখন ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ বললেন, অমনি সবাই সুর মেলালেন, ঠিক ঠিক, দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করার সৎসাহস কজনের আছে।

এই ঘটনায় অর্থমন্ত্রীর অদক্ষতার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর যখন অর্থমন্ত্রীকে পাত্তাই দেন না, তখন অর্থমন্ত্রীর পদে থাকাটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। আর রিজার্ভ লুটের ঘটনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গভর্নর পদত্যাগ করলে শেয়ারবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারির দায় অর্থমন্ত্রী নেবেন না কেন?

পদত্যাগের পর নিজ বাসায় আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে ড. আতিউর রহমান তার ৭ বছরের সাফল্যের ফিরিস্তি দিয়েছেন। তার সবই সত্যি। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সবচেয়ে স্থিতিশীল। রিজার্ভ ৬ বিলিয়ন থেকে ২৮ বিলিয়নে তুলে এনেছেন। টাকার মান বেড়েছে, মুদ্রাস্ফীতি কমেছে। এমন সফল একজন গভর্নরের এমন বিদায় কাম্য নয়। তবে তিনি বিদেশ সফর আর পুরস্কারের ব্যাপারে একটু বেশিই মনোযোগী ছিলেন। কিন্তু তার সব সাফল্য, সব অর্জন ম্লান হয়ে গেল তার ট্র্যাজিক বিদায়ে।

তবে আমরা যেন ড. আতিউর রহমানের বিদায় নিয়ে মগ্ন থেকে আসল বিষয় থেকে মনোযোগ না সরাই। আমাদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত কারা, কিভাবে রিজার্ভ লোপাট করলেন, তাদের চিহ্নিত করা, বিচার করা। রিজার্ভ অর্জন যেমন কৃতিত্ব, তা নিরাপদ রাখাও আমাদের দায়িত্ব।

লেখক:  অ্যাসোসিয়েট হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

 ইমেল: probhash2000@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ