যে দালানগুলো ভেঙে যাচ্ছে

মাহমুদুর রহমান১৮:১৫, মার্চ ২৫, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানলছে সে তার মতো, নির্লিপ্ত, অকুণ্ঠচিত্তে। এমনই তার গতি, গড়ছে নতুন, ভাঙছে পুরনো। তার নেই পিছুটান,  তার বোধোদয় নেই, ভাষা তার একটিই—ধাবমান। জ্ঞান-গরিমা তুচ্ছ তার কাছে, যদিও তথাকথিতে জ্ঞানলব্ধ প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো সংসারের কৃতিত্ব নিচ্ছে মানুষ। প্রকৃতি হাসে এই তথাকথিত জ্ঞানের মূর্খতায়। প্রকৃতি কাঁদে এই জ্ঞানের হিংস্র ধ্বংসলীলায়।  জীবন বা প্রকৃতি কারও কাছ থেকে শিক্ষা না নিয়ে কপটতা জড়ানো ঔদ্ধত্যে নিজের ধ্বংস মানব জাতি নিজেই ডেকে নিচ্ছে। পৃথিবীর সব রহস্য উন্মোচিত হওয়ার নয় যত আকর্ষণীয় সেই সম্ভাবনা বিজ্ঞানের। প্রকৃতির সুরক্ষা থেকে যত দূরে মানুষ যাবে, ততই বৈরিতার মুখামুখি হব আমরা।
কী এমন তাড়নায় কথিত ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যে, একান্ত গোপনীয়তা খুঁজি? ইট-আস্তরে ঘেরা বন্দিশালায় নির্মল বাতাস বিতাড়িত করে কৃত্রিম শীতলতার পরশ আগলে ধরি, প্রকৃতিকে মাটির টবে বন্দী করে ছিটেফোঁটা সম্পর্কের বন্ধন করি। তারই মাঝে আশা হয়ে ফুটে থাকে ছোটছোট উদাহরণগুলো। ছোট্ট রংপুর শহরের গলির মাথায় চা-সিগারেটের সাধারণ দোকানি যখন ক্রেতাকে প্রশ্ন করে—‘আমার বোনটি কেমন আছে?’ তখন মনটা বিষণ্নতায় মুষড়ে যায়। কই, এমন করে পরিচিত ঢাকার দোকানিতো বলে না? প্রশ্ন যখন করে—‘বোনটি এখানেই, নাকি মায়ের কাছে?’ তখন মনটি হুহু করে কেঁদে ওঠে। কুশল বিনিময়ের দিনগুলো কোথায় গেল? টের পাওয়া গেল না আকাট্য সত্য। ধাবমান জীবনের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা হয়েছি হত-দরিদ্র। কাগজ বা ধাতুর তৈরি অর্থের ক্ষেত্রে নয়, মন-মানসিকতার দিক দিয়ে।
রংপুরের আরেকটি দোকানে অ্যাকোয়েরিয়ামে বন্দি সোনালি মাছগুলো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। কাচের অন্য পাশে দাঁড়ানো মানবকল্যাণ দেখে কি ব্যঙ্গ করছিল। যেন তাদের অনুক্ত বক্তব্য ছিল। ‘তোমরা-আমরা বন্দি, তবে তুমি একা,  আর আমরা একত্রে।’ নিঃসঙ্গতা ঠেলে জনসমাগমের আলিঙ্গন খুঁজে নিলেও, একাকিত্ব গেল না। বড় হিংসা হলো দোকানির। অট্টালিকায় বন্দি নয়, প্রাকৃতিক তাপ-শীতলতায় কাটে তার জীবন। স্বাতন্ত্র্য তো তাই হওয়ার কথা। মনে পড়ল সেই কবিতা। কংক্রিটের দানবগুলো বেরিয়ে চলেছে, আশ্রয় মিলছে অনেকের। মনের দালানকোঠা ভেঙে চলেছে আশ্রয় কোথায় পাই? সেই কবিতার রূঢ় সত্য আবার স্মরণে এলো।
Happy the man whose wish and care
A few paternal acres bound
Content to breathe his native air
In his own ground

 লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ