behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিএনপি কি পারবে দূষিত রাজনীতি থেকে বের হতে?

বিভুরঞ্জন সরকার১১:৫৩, মার্চ ২৯, ২০১৬

বিভুরঞ্জন সরকারদীর্ঘ ৭ বছর পর বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন গত ১৯ মার্চ ঢাকায় শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও সম্মেলনের জায়গা পাওয়া নিয়ে বিএনপির মধ্যে কিছুটা শঙ্কা ও অস্বস্তি ছিল। কিন্তু বাস্তবে সম্মেলন অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও অন্তরায় তৈরি হয়নি। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিরোধের কথাও কিছু কিছু প্রকাশ পেয়েছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়াবে। শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেছিলেন, সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোনও বিরোধ নেই। তবে যে কোনও বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকাটা স্বাভাবিক বিষয়’। দলের ভেতরের অবস্থা নিয়ে মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) যদি খুশি থাকেন, তাহলে বাইরে থেকে কারও নাক না গলানোই ভালো।
বিএনপির সম্মেলন নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল। বিএনপি দেশের একটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর আস্থা ও সমর্থন এই দলটির প্রতি রয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই একাধিকবার দেশে সরকার গঠনে সমর্থ হয়েছিলো বিএনপি। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ত্যাগের পর থেকেই বিএনপির দুঃসময় শুরু হয়েছে। দুর্যোগ- দুর্বিপাক দলটির সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে আছে। সারা দেশে সংগঠনের অবস্থাও এলোমেলো ও অগোছালো।  দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একাধিকবার দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা হয়নি। মির্জা আলমগীর দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তবে প্রবল বিরোধ-বিভেদের কারণেই বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নিয়মিত সম্মেলন ও কমিটি গঠন করা সম্ভব হয় না। যদি সম্মেলন হয় তাহলে কমিটি হয় না। আবার সম্মেলন না করেও যদি ওপর থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সেই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও হয়েছে।
বলা হয়েছিলো, ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের মধ্যে যারা বিএনপির রাজনীতি পছন্দ করেন না তাদের অনেকেও চেয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থেই শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা দরকার বিএনপির।
বিএনপির সম্মেলনের পর তারা হতাশ হয়েছেন। কারণ, সম্মেলন সফল হলেও নতুন কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। কাউন্সিলররা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপরই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন নতুন কমিটি গঠনের। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এবারের সম্মেলনে ‘ভারমুক্ত’ করা হবে গণমাধ্যমে অনেক খবর প্রচার হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেটা না হওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুব খুশি হতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। কেন সম্মেলনে শুধু দলের চেয়ারপারসন এবং সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুননির্বাচিত হওয়ার অনুমোদন দেওয়া ছাড়া নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলো না সে প্রশ্ন সব মহল থেকেই উঠছে। শোনা গিয়েছিলো, এবারের সম্মেলনে অনেক ‘চমক’ থাকবে। দলের নেতা-কর্মীরা নতুন উদ্যম ও উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে ছড়িয়ে পড়বে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি থেকে ‘বিতর্কিত’ নেতারা বাদ পড়বেন। যুক্ত হবেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশ্বস্ত ও তারুণ্যদীপ্ত নতুন নেতৃত্ব। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন বলে প্রচার-প্রচারণা ছিল। সম্মেলনে এসবের কিছুই হয়নি। তবে গঠনতন্ত্রের কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর ফলে এখন বেগম জিয়াকে বিএনপির হিটলার বলা যায়।

শোনা যাচ্ছে, দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়া দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করবেন। দলের পদ-পদবি পাওয়ার জন্য সম্মেলনের আগে থেকেই যে লবিং চলছিলো সম্মেলন শেষে তা আরও বেড়েছে। বেগম জিয়া কতদিন পর নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন সেটা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কমিটি ঘোষণা যত বিলম্বিত হবে বিএনপিতে একই সঙ্গে বাইরের অস্থিরতা ও ভেতরের স্থবিরতা তত বাড়বে বলেই মনে হয়।

বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে নতুন কমিটি যেমন ঘোষণা করা হয়নি, তেমনি  রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়েও কোনও নির্দেশনা দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের দেওয়া হয়নি। অথচ অনেকেই আশা করছিলেন বিএনপি জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার স্বার্থেই নতুন কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরবে। রাজনৈতিক দলের সম্মেলনে দলের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে মূল্যায়ন-পর্যালোচনা হওয়া একটি প্রচলিত রীতি। দলের গঠনতন্ত্রে প্রতি ৩ বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন করার বিধান থাকলেও এবার বিএনপির সম্মেলন হয়েছে ৬ বছর পর।

স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত ছিল যে এই সময়কালে দলটির সামগ্রিক কর্মকাণ্ড একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা অথবা মূল্যায়ন কাউন্সিলে উপস্থিত করা হবে। এটা করা হলে দলটির সবলতা ও দুর্বলতা দুটোই প্রকাশ পেতো এবং দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে সবলতাগুলোকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হতো। গত ৬ বছরে বা তার আগে থেকে বিএনপি যে রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল অবলম্বন করেছে তা ঠিক ছিল, না ভুল ছিল তার কোনও মূল্যায়ন বিএনপিতে নেই। কেন বারবার সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পরও তা সফল হয়নি সে আলোচনা দলের মধ্যে হয় না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে অনেক সমালোচনা দেশের মধ্যে আছে। বিএনপির ভেতরেও সবাই জামায়াতের প্রতি সমান অনুরাগী সেটাও নয়। আশা করা হচ্ছিলো, এবারের কাউন্সিলে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিএনপি পর্যালোচনা করবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে। এর কোনও কিছুই হয়নি। তাহলে বিএনপির সম্মেলনে কী হয়েছে ?

সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এক ঘণ্টা বিশ মিনিটের দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য। এই বক্তব্যে খালেদা জিয়া কিছু ‘ভবিষ্যৎমুখী’ পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তিনি ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেছেন, এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ। মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার মার্কিন ডলার। এজন্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দুই অংকে নিয়ে যেতে সৃজনশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ‘ভিশন ২০৩০’ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তার কোনও ব্যাখ্যা বা রূপরেখা বেগম জিয়া না দিলেও অনেকেই মনে করছেন বেগম জিয়া আওয়ামী লীগের ‘ভিশন ২০২১’ থেকে প্রাণিত হয়েই এটা করেছেন। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ‘নকল’ করে বা ধার করে বিএনপি যদি কর্মসূচি নেয় তাহলে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা খুব খুশি হবে কি? তবে ভালো কোনও কিছুর অনুকরণ করা দোষের কিছু নয় বলেও অনেকেই মনে করেন।

খালেদা জিয়া তার বক্তৃতায় আর যেসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, তার মধ্যে আছে, সংসদ হবে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবিধানে ‘গণভোট’ পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মত আছে। দলের মধ্যে তিনি একক ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে চান- এটা অনেকের কাছেই স্ববিরোধী বলে মনে হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানী-গুণী- মেধাবী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হলেই দেশের রাজনীতিতে যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করছে তা দূর হবে বলে মনে করার কারণ আছে কি? বেগম জিয়ার এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে ক্ষমতায় যেতে হবে। এজন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কিন্তু দলীয় কোনও ফোরামে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এ সব ঘোষণা দেওয়ায় মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এগুলো কথার কথা নয়তো? তাছাড়া ক্ষমতায় গিয়ে তিনি যে এগুলো বাস্তবায়ন করবেন তারইবা নিশ্চয়তা কী? ক্ষমতার বাইরে থেকে ভালো-ভালো প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে সেসব বেমালুম ভুলে যাওয়ার রেকর্ড বেগম জিয়ার রয়েছে।

বেগম জিয়া বলেছেন, ‘দেশের প্রায় সবাই একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল, গণতান্ত্রিক সরকার চায়। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন। কীভাবে এটি হতে পারে, সে ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে পৌঁছাতে চাই। তাহলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকবে না। আন্দোলনেরও কোনও প্রয়োজন হবে না’। বেগম জিয়ার এই বক্তব্য অনেকেরই নজর কেড়েছে। মনে করা হচ্ছে, বেগম জিয়া আন্দোলনের পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসেই রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আগ্রহী। কিন্তু সম্মেলনের প্রকাশ্য অধিবেশনে এই ভাষণ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রুদ্ধদ্বার দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই আগামীতে নির্বাচন হবে। সেজন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। হাসিনা-মার্কা নির্বাচন নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। হাসিনা- মার্কা নির্বাচনে বিএনপি যাবে না’। বেগম জিয়ার এই বক্তব্যটি আগের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? আগে বলেছেন সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে চান। আর পরে যা বলেছেন তা পুরোপুরি সিদ্ধান্তমূলক। কার বা কাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আগামী নির্বাচন হাসিনাকে ছাড়াই হবে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব সঙ্গত প্রশ্নই তুলেছেন। দলীয় এক সভায় তিনি বলেছেন, ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচন বলতে খালেদা জিয়া কী বোঝাতে চাইছেন?

২১ আগস্টের মতোই আবার গ্রেনেড হামলা বা আবার হত্যার পরিকল্পনা করছে কি না? সেটাই হচ্ছে আমার প্রশ্ন’।

এই প্রশ্ন আরও অনেকেরই। হাসিনাবিহীন নির্বাচনের কথা বলে বেগম জিয়া প্রকৃতপক্ষে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের রাজনীতিতে জিইয়ে রাখার ওপরই জোর দিয়েছেন বলে কেউ যদি মনে করেন, তাহলে তার দোষ দেওয়া যাবে না। অবশ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীর তার নেত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে চাই। অর্থাৎ নির্বাচনকালে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকবে সেটাই আমাদের চাওয়া। সেসময় সেই নিরপেক্ষ সরকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অর্থাৎ তিনি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। সেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সব মহলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে’।

দেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনও সুযোগ নেই। কাজেই বিএনপি কিভাবে আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে চায় এবং চাইলেই সেটা কিভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে সেসব বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ না করে ‘শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই আগামী নির্বাচন হবে’ ধরনের কথা বললে তা নিয়ে আর আলোচনার কোনও সুযোগ থাকে কি? বিএনপিকে এটা মনে রাখতে হবে যে, তারা যেমন দেশের একটি বড় দল, আওয়ামী লীগও তেমনি একটি বড় দল। বিএনপি যা চাইবে তাই যে হবে না কিংবা হয় না তার প্রমাণ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমরা পেয়েছি। আন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে কাবু করার ক্ষমতাও যে বিএনপির নেই সেটাও সবাই দেখেছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে খালেদা জিয়া সুবচন আওড়ানোর মতো বলেছেন, ‘আমরা কি কেবলই ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করবো? আমরা কি কেবল এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হেনস্তা ও ধ্বংস করে দিতে চাইবো? রাজনীতি তো দেশের জন্য, মানুষের জন্য। এই দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে মানুষের ওপর জবরদস্তির শাসন চালিয়ে লাভ কী? এই দূষিত রাজনীতির চক্র থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে’। বেগম জিয়া এই কথাগুলো কার উদ্দেশ্যে বলেছেন? তিনি নিজের বিবেকের কাছে যদি এই প্রশ্নগুলো তুলতেন এবং দেশের রাজনীতির চক্রকে ‘দূষিত’ করার ক্ষেত্রে তার নিজের এবং তার দলের ভূমিকা কতটুকু সেটা যদি খুঁজতেন তাহলে কতই না ভালো হতো। কিছু কথা তিনি বলেছেন কিন্তু এগুলো যে তার কথার কথা নয় তা প্রমাণ করার জন্য কিছু কাজও করতে হবে। কথায় এবং কাজে যখন মিল খুঁজে পাওয়া যাবে তখনই তা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ