behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মেধার বিকাশে ইতস্তত: কেন?

মাহমুদুর রহমান১১:০৮, এপ্রিল ০১, ২০১৬

মাহমুদুর রহমান‘ছুটি’ গল্পে রবিঠাকুর কৈশোরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো বালকের যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা সত্যিই অসাধারণ। চরিত্রায়ণ এতটাই নিখুঁত পর্যবেক্ষণের ফল, যে কোনও ১২-১৩ বছরের বালকের মুখোচ্ছবি অনায়াসে বসিয়ে দেওয়া যায়। অন্তত বসানো যেত। সময় এবং সামাজিক বিবর্তনে তার পরিবর্তন হবে এটি স্বাভাবিক। বৈশ্বিক গড় আয়ু বাড়ছে আর যত তর্ক হোক না কেন, যতই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসুক, যতই বা পুষ্টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ভ্রু কুচকান না কেন সত্য এই, নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তি বান্ধব এবং বহুগুণে মেধাবী। সামাজিক বিবর্তনের এই আরেক কারণ। শান্ত বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে যেমন নারীরা পুরুষ শাসিত বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করেছেন, বালক-বালিকারাও তাদের পিছু নিয়েছেন। অনেকে বলেন শিশুদের অভয়চিত্ব পদচারণ নারীদের উৎসাহ জুগিয়েছে। সনাতনি হিন্দু পরিবারে মেয়ে-ছেলেরা ঘোমটা টানতেন, পরপুরুষের সামনে আসতেন না। একইভাবে মুসলিম পরিবারেও পর্দানশীনতাকে বিরাজ করতো। ঘোমটার সাংকেতিক আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে আমাদের নারীকুল । ইউরোপিয় নারীদের একই রকমের না হলেও বাধা-নিষেধ যে ছিল তার সাংকেতিক প্রতিবাদ জানানো হলো হেনরিক ইবসেন-এর ‘ডলস হাউস’- এর নায়িকা নোরা চরিত্রায়ণে।
এই নারীরা আজ সমাজে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিজেদের স্থান করে নিচ্ছেন। শিক্ষা বঞ্চিতরা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ঋণ-এর বদৌলতে ক্ষমতায়নে দিক নির্দেশনামূলক ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেছেন। নতুন প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ছিল নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার। চারিদিকে তথ্য প্রযুক্তির প্রসারে এই প্রজন্ম যেমন খুঁজে পাচ্ছেন উদ্ভাবনের সুযোগ, তেমনি পাচ্ছেন কর্মসংস্হান, তৈরি পোষাক শিল্প যেভাবে নিজ গতিতে এগিয়েছে, এই গোষ্ঠী আরও প্রখর। বাধাকে বাধা মানেন না তারা, পাশ কাটাবার কৌশল রপ্ত করেছেন তারা। বিপত্তিকে এমন করেই অতিক্রম করেন তারা, যা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। নামে নামে বহু উদাহরণ দেওয়া যায়, কিন্তু নাম দিয়ে তো তাদের আসল পরিচয় পাওয়া যাবে না। তারা বিপদে নালিশ করেন না, হেসে উড়িয়ে দেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দিকে তাকিয়ে তারা, শুধু দেশ নিয়ে ব্যস্ত নন।
উদ্ভাবন পুরনো ধ্যান-ধারনা দিয়ে আসবে না, উদ্ভাবনকে বরং স্তিমিত করবে। ব্যর্থতা ছাড়া সফলতা আসবে না, আসা ঠিক নয়- তাতে সাফল্য পাকাপোক্ত হয় না। সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। উদ্ভাবনের দায়িত্ব এদেরকে দেওয়া হোক। স্কুল কলেজের মতো কিছু বিশেষজ্ঞ তাদের দেখ-ভাল করবেন আর অভিজ্ঞতার ছাতা তুলে ধরবেন। তাহলে রবিঠাকুরের বৈশাখী আমন্ত্রণ অর্থবহ হবে।

‘ওঁরে নবীন, ওঁরে আমার কাঁচা

আধ মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা...'

ওরাই নবীন, আমরাই আধমরা। ওদের ঘাঁ মারতে দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- তারা তৈরি।

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ