behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

তথাকথিত 'উন্নয়ন' বনাম মানুষ হত্যা

গোলাম মোর্তোজা১১:৫৭, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

গোলাম মোর্তোজাআমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য-বিশ্বস্ত-প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষি বলেন, 'এভাবে বলে-লিখে লাভ কী? কেন শুধু শুধু বিপদ ডেকে আনছো?'
কোনও উত্তর দিতে পারি না। অথবা যে উত্তর দিতে পারি, তার হয়ত কোনও মূল্য নেই! যা ঘটতে দেখি তাই তো বলি, তাই তো লিখি। ঘটছে যেমন, দেখছি তেমন- আর লিখতে বা বলতে গিয়ে অন্য কিছু...? ভেতর থেকে সাঁয় পাই না। মাঝে মাঝে ভাবি, কোনও কিছু নিয়ে এত ভাববো না। ভাবতে গেলে ক্ষুব্ধতা মুক্ত থাকতে পারি না। যেমন- এপ্রিল রাত থেকে বিক্ষুব্ধ। শরীর-মনে প্রভাব পড়ছে। ক্ষুব্ধতা দূর করতে পারছি না। কত তুচ্ছ কারণে, অসত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ৪ জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হলো। মানুষ হত্যা করা হলো 'উন্নয়ন' নামক শব্দটির দোহাই দিয়ে।
'উন্নয়ন' এবং মানুষ নির্যাতন-হত্যা নিয়ে কিছু কথা।
১. চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। এস আলম গ্রুপ কিছু জমি কিনছে, অধিকাংশ দখল করছে। সরকার অধিগ্রহণের নামে দখল প্রক্রিয়ায় এস আলম গ্রুপকে সহায়তা করছে। তারা প্রথমে বলেছিল মোবাইল সেট তৈরির ফ্যাক্টরি করবে, জুতার ফ্যাক্টরি করবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে, তা কখনও বলেনি। অল্প কিছুদিন আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের।
লবণ চাষ, চিংড়ি ঘের বা কৃষি জমি যাদের একমাত্র সম্বল, তাদের জমি দখল-অধিগ্রহণ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। যারা জমির মালিক তারা প্রতিবাদ করবেন না, চুপচাপ দেখবেন? তোমার 'উন্নয়ন' হবে বলে আপনি তার জমি নিয়ে নেবেন, জমি হারানো মানুষ তা বিশ্বাস করবেন? যারা তথাকথিত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে গুলি করে মানুষ হত্যা সমর্থন করছেন, আপনি বা আপনারা গ্রামবাসীর অবস্থানে থাকলে কী করতেন? এস আলম গ্রুপকে স্বাগত জানিয়ে বলতেন, আসেন আসেন আমার জমি নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেন, সব হারিয়ে আমি আপনার শ্রমিক হবো?
২. বাংলাদেশ ছোট দেশ, জমি কম- মানুষ বেশি। সেই মানুষের জমি নিয়ে নিতে চাইলে প্রতিবাদ-আন্দোলন হবে, তা খুব স্বাভাবিক বিষয়। বাঁশখালির মানুষও স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। প্রথমে তাদের ধোকা দিয়েছেন জুতার ফ্যাক্টরি করার কথা বলে। কোনও পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়া এখন করছেন কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এলাকার দরিদ্র মানুষের দখলে থাকা খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে দিচ্ছেন এস আলম গ্রুপকে।
উন্নয়নের কথা বলে তাদের নিজেদের  জমি জোর করে দখল করে নিতে চাইছেন। জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন না, তাদের আস্থায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন না। কেন তা করছেন না? কারণ আপনি জানেন, রাষ্ট্র জানে, যে 'উন্নয়ন'র কথা বলা হচ্ছে তা আসলে একজন ব্যক্তির 'উন্নয়ন' জমি হারানো গ্রামবাসীর 'উন্নয়ন' নয়। তাদের জন্য বিপর্যয়। ফলে আপনি এলাকায় কিছু টাউট-দালাল তৈরি করেছেন। মাস্তান বাহিনী তৈরি করেছেন। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর মাস্তান বাহিনী একাকার হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারি দল আপনার নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং গুলি করে জমির মালিক গ্রামবাসীকে হত্যা করতে একটুও দ্বিধা করছেন না।

৩. সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন '৩ পক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত'। গণমাধ্যমের অবস্থানও বিস্ময়কর। ঢাকার পরে চট্টগ্রামেই প্রায় সব গণমাধ্যমের ব্যুরো অফিস আছে। অথচ এত বড় হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রায় কোনও গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেল না। হত্যাকাণ্ডের আগে গত দুই মাস ধরে পঁচিশ ত্রিশ হাজার গ্রামবাসীর মিছিল -আন্দোলনও স্থান পায়নি গণমাধ্যমে।

কথিত  ৩ পক্ষ কারা-

ক. এস আলম গ্রুপের মাস্তান বাহিনী।

খ. স্থানীয় ছাত্রলীগ - আওয়ামী লীগ এবং

গ. জমির মালিক গ্রামবাসী।

সাধারণভাবে পক্ষ ৩টি নয়, ৪টি।

ঘ. সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বাস্তবে পক্ষ ২টি। এস আলম গ্রুপ, তার মাস্তান বাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় ছাত্রলীগ - আওয়ামী লীগ- সবাই মিলে একটি গ্রুপ। আরেকটি গ্রুপ জমির মালিক সাধারণ-দরিদ্র গ্রামবাসী। এই সম্মিলিত গ্রুপ গুলি করে দরিদ্র গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে।

৪. এভাবে গুলি করে মানুষ হত্যা করতে হলো কেন? গুলি কী পুলিশ করলো না অন্য কেউ? গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ঠেকানোর জন্য এস আলমের মাস্তান-দালাল গ্রুপ মাঠে নামে। এতে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ বন্ধ হয় না।

ঘটনার আগের দিন এস আলম গ্রুপের মাস্তানদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের ওপর আক্রমণ করে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় একটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজি। নিজেরা মারামারি করে মামলা দেয় ২৩ জন গ্রামবাসীর নামে। ১১ জন গ্রামবাসী জমির মালিককে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ২ এপ্রিল রাতে ধরে নিয়ে যাওয়া গ্রামবাসীকে ৫ তারিখ পর্যন্ত আদালতে নেওয়া হয়নি। আদালতে নেওয়ার কথা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। গ্রামের মহিলাদের ওপরও নির্যাতন চালায় মাস্তান বাহিনী। গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে।

৩ এপ্রিল ২৫ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে ৬০-৭০ জন মাস্তান সশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় আসে। এদের দেখে গ্রামবাসী আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ মিছিল শুরু করে ২০ থেকে ২৫ হাজার গ্রামবাসী। সেই মিছিলে অস্ত্রধারী কোনও সশস্ত্র লোক ছিল না। কারও কারও হাতে (সবার হাতে নয়) লাঠি ছিল। এখানে বলে রাখা দরকার, পুলিশ এখন বলছে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। বাস্তবে এমন কোনও ঘোষণার কথা গ্রামবাসীকে জানানো হয়নি। আর গ্রামবাসী মিছিল করছিল প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। হঠাৎ করেই একটি স্বাভাবিক প্রতিবাদ মিছিলের ওপর গুলি চালানো শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য,  মোটরসাইকেলে আগতরা প্রথমে গুলি চালানো শুরু করে গ্রামবাসীর প্রতিবাদী মিছিলে। গ্রামবাসী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গুলির জবাব দেয়। গ্রামবাসীর ইটপাটকেলে সেখানে এস আলম গ্রুপের পক্ষে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যদের কয়েকজন আহত হন। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি গুলি চালায়। গ্রামবাসীর দুর্বল প্রতিরোধ মুহূর্তে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারা দৌড়ে পালাতে থাকেন। পেছন থেকে গুলিবর্ষণ বন্ধ হয় না। ৪ জন নিহত হন, আহত হন কয়েক'শ।

এই মোটরসাইকেলে আগত আরোহী-মাস্তান কারা? তা বুঝতে নিশ্চয়ই কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। পুলিশ এখন বলছে, তারা গুলি চালায়নি। তাহলে পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করল কে? গ্রামবাসী ভাড়া করে মাস্তান এনে, গুলি করে নিজেদের হত্যা করিয়েছে? পুলিশের বক্তব্য প্রায় তেমনই! দরিদ্র গ্রামবাসী ভাড়া করে অস্ত্রধারী মাস্তান এনেছে, এস আলম গ্রুপ, ছাত্রলীগ -আওয়ামী লীগ এবং পুলিশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে? এমন যুক্তি দিয়েও কথা বলা যায়!!

যার স্বজনদের গুলি করে হত্যা করেছেন, তাদের নামেই মামলা করেছেন? ছয় সাত হাজার মানুষ আসামি?

এই কি মানবতা, এই কি মানুষের কাজ?

রাষ্ট্রের জনগণের লাখ লাখ কোটি টাকা চুরি -পাচারের দায়ে অভিযুক্তরা পুরস্কৃত হয়। এতটা অনায্য কি প্রকৃতিও সহ্য করবে?

৫. অনেকেই বলেন, এখনও বলছেন বিদ্যুৎ না হলে 'উন্নয়ন' হবে কীভাবে? খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উন্নয়নের জন্যে বিদ্যুৎ অপরিহার্য।

হাজার হাজার মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই 'উন্নয়ন' হয়ে যায়- এই ধারণা যে সঠিক নয়, তা বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের সামনে কিছু ইতিহাস আছে, তা স্মরণ করতে হবে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে ১০০ মেগাওয়াট মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার এই কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করেছিল। এর জন্যে কতটা লাভবান হয়েছিল দেশ? কতটা মূল্য দিতে হয়েছে দেশকে?

কয়েক হাজার একর আবাদি জমি পানিতে ডুবে যায়। লক্ষাধিক পাহাড়ি পরিবার উদ্বাস্তু হয়। ৪০ হাজার চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে ভারতের অরুণাঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়। পাহাড়িদের বিদ্রোহের সূচনা এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই। স্বাধীন বাংলাদেশকে এর জন্যে কতটা মূল্য দিতে হয়েছে, তা আমাদের সবারই কম-বেশি জানা আছে।

হিসেব করে দেখা যায়, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আসে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে তার যা মূল্য আর আবাদি জমি-মানুষের দুর্ভোগের মূল্য বহুগুণ বেশি। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে তথাকথিত ‘উন্নয়ন’হয়নি। জমি হারানো পাহাড়িদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, তারা ‘নিঃস্ব’ হয়েছেন, দেশ ত্যাগ করেছেন । অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তথাকথিত ‘উন্নয়ন’ হয়নি।

৬. ফুলবাড়ির কয়লা প্রকল্প এশিয়া এনার্জিকে দেওয়ার জন্যে অনেক ‘উন্নয়ন’র গল্প শোনানো হয়েছে। হিসেব করে দেখা গেছে কয়লা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে তোলার চেয়ে আবাদি জমির থেকে প্রাপ্তি অনেক গুণ বেশি। তারপরও ‘উন্নয়ন’র গল্প বলে, দালাল-টাউট তৈরি করে বাঁশখালির মতোই গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াতের ঘটানো সেই হত্যাকাণ্ডের বিপক্ষে ফুলবাড়ির মানুষের পক্ষে সেদিন অবস্থান নিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। যদিও ক্ষমতায় এসে তা ভুলে গেছেন। শুধু তাই নয়, একই পদ্ধতিতে বাঁশাখালিতে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটলো শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে।

৭. সুন্দরবন ধ্বংস করেও তথাকথিত ‘উন্নয়ন’র গল্প শোনানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন জরুরি, বিদ্যুৎ উৎপাদন অপরিহার্য। মানুষ হত্যা করে বিদ্যুৎ বা তথাকথিত ‘উন্নয়ন’ নয়। যে ‘উন্নয়ন’র জন্যে মানুষ হত্যা করতে হয়, সেই ‘উন্নয়ন’ মানুষের জন্যে নয়।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে পাহাড়িদের উন্নয়ন হয়নি, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন হয়নি। এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বাঁশখালি গ্রামের মানুষের উন্নয়ন হবে না। সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা তথাকথিত উন্নয়ন হতে পারে না।

৮. বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। গুলি করে মানুষ হত্যা করে নয়, মানুষকে আস্থায় নিয়ে। হ্যাঁ, বিদ্যুৎ আকাশ থেকে পড়বে না, উৎপাদনই করতে হবে। যে মানুষ দেশের মালিক, সেই মানুষকে হত্যা করে দেশি-বিদেশি কোম্পানির উন্নয়ন’র নামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। মানুষ হত্যা করে ‘উন্নয়ন’- তার জন্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি।

জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে, লুটেরা শ্রেণির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আর যাই হোক উন্নয়ন হতে পারে না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তথাকথিত উন্নয়ন’র কথা বলে মানুষ হত্যা করা যাবে না। এই অধিকার কোনও সরকারের নেই।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ