গাইবান্ধার ৭১ ইউপির ৪৭টিতে আ.লীগের পরাজয়, মূলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

Send
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫১, জুন ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৫, জুন ০৫, ২০১৬


ইউপি নির্বাচন ২০১৬গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার মোট ৮২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭১টি ইউনিয়নে নির্বাচনের ফলাফলে ৪৭টিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী মনোনয়ন ভালো না হওয়ায় এমন ফলাফল হয়েছে বলে ধারণা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ইউনিয়ন ৮২টি। এরমধ্যে ষষ্ঠ দফার নির্বাচনের মাধ্যমে ৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু চারটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকায় ৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা ও মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় অবশিষ্ট ৮টি ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।
নির্বাচন হওয়া এই ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৪টি, বিএনপি সাতটি, জাতীয় পার্টি নয়টি, জাসদ তিনটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮টিতে জয়লাভ করে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী ৬ জন। আওয়ামী লীগ ৭১টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। কিন্তু ৪৭টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় ঘটে।

ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, প্রার্থী মনোনয়ন ভালো না হওয়া, দলীয় প্রার্থীকে অসহযোগিতা ইত্যাদি কারণে এই পরাজয়।

গাইবান্ধা সাদুল্লাপর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফুল ইসলাম মিন্টু বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নৌকার পরাজয় হয়েছে। এছাড়া উপজেলা ও জেলা কমিটির কিছু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীকে মদদ দিয়েছেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নে পরাজিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুম হাক্কানী বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত ছাড়াই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার সুযোগ পায়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমার মূল্যায়ন করেনি। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, দল ক্ষমতায় রয়েছে। এলাকার উন্নয়ন করে মানুষের আস্তাভাজন হওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নেতাকর্মীরা তা কাজে লাগাতে পারেনি। এছাড়া কোনও কোনও ইউনিয়নে টাকা নিয়েও এলাকায় জনপ্রিয় নন- এমন ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে গোটা জেলায় আওয়ামী লীগের বিপর্যয় ঘটলো।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক মণ্ডল বলেন, দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং এলাকায় জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়া দলের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামস-উল-আলম রবিবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, প্রার্থী মনোনয়নে জেলা কমিটি দায়ী নয়। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির প্রস্তাব কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, জেলার গাইবান্ধা সদর উপজেলায় আ.লীগ ৩, বিএনপি ২, জাপা ২, জাসদ ১, আ.লীগ বিদ্রোহী ১ ও স্বতন্ত্র ৪, সাদুল্লাপুরে আ.লীগ ৪, জাপা ২, আ.লীগ বিদ্রোহী ২ ও স্বতন্ত্র ৩, সুন্দরগঞ্জে আ.লীগ ৫, বিএনপি ২ ও স্বতন্ত্র ৫, গোবিন্দগঞ্জে আ.লীগ ৭, বিএনপি ১, জাপা ২, আ.লীগ বিদ্রোহী ২ ও স্বতন্ত্র ৩, পলাশবাড়ীতে আ.লীগ ১, জাসদ ১ ও স্বতন্ত্র ৩, সাঘাটায় আ.লীগ ৩, বিএনপি ১, জাপা ১, জাসদ ১ ও স্বতন্ত্র ৩ এবং ফুলছড়িতে আ.লীগ ১, বিএনপি ১, জাপা ২, আ.লীগ বিদ্রোহী ১ ও স্বতন্ত্র ১ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: তনুর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রতিবেদন মেডিক্যাল বোর্ডকে দেওয়ার নির্দেশ 

/এআর/এএইচ/

লাইভ

টপ