বন উজাড়, ধ্বংসের মুখে অর্ধশতাধিক ছড়া-ঝিরি

জসিম উদ্দিন মজুমদার, খাগড়াছড়ি
১১ জুন ২০১৬, ০৯:৫৭আপডেট : ১১ জুন ২০১৬, ০৯:৫৮

শুকিয়ে যাওয়া ছড়া

খাগড়াছড়িতে বিরামহীন গতিতে বনভূমি উজাড় এবং পাহাড় ধসের ফলে ধ্বংসের মুখে পড়েছে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার অর্ধশতাধিক ছড়া-ঝিরি। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী পানি ও মাছের সংকটে পড়েছে। পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা পরিবেশ বিপর্যয়। তবে প্রশাসন বলছে, আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে তারা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলার ৯ উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদের প্রাণ ছিল এসব ছড়া, ঝিরি, খাল ও নদী। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এসব ছড়া-ঝিরি-ঝর্ণা থেকে তাদের দৈনন্দিন পানি-মাছ ও অন্যান্য চাহিদা মেটাতো। কিন্তু ক্রমাগত বন উজাড়ের কারণে পানির এসব উৎসস্থল এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন উজাড়ের ফলে বেড়েছে ভূমি ক্ষয়। এ কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে ছড়া, গিরি-ঝিরি ও ঝর্ণা। যার ফলে নদীতেও নেই তেমন পানি। ক্রমেই তীব্র হচ্ছে পানি ও মৎস সংকট।

খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া এলাকার অনিল ত্রিপুরা বলেন, এক সময় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের পানির এবং মাছের চাহিদা পূরণ করতো ছড়া ও ঝিরি থেকে। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। গাছ লাগিয়ে ছড়া ও ঝিরিগুলোর আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি করেন তিনি।

পানি সংকট

বাবুছড়া এলাকার পরিতোষ চাকমা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের চারদিকে ছড়া ও ঝিরি ছিল। আগে তারা ছড়া, ঝিরি ও ঝর্ণা থেকে সুস্বাদু মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী শিকার করতেন। এখন পানি নেই বললেই চলে। কিছু-কিছু স্থানে অল্প পরিমাণে পানি আছে। যেখানে জাল মারলেও কিছু পাওয়া যায় না।’

খাগড়াছড়ি সদরের গঞ্জপাড়া এলাকার মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, আগে তারা চট্রগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি লঞ্চে আসতেন। নদীর সঙ্গে সংযোগ ছিল বিভিন্ন ছড়া ও ঝিরির। এসব ছড়া ও ঝিরির পাড়ে বিভিন্ন বন্য প্রাণী দেখা যেতো। এখন এসব আর দেখা যায়না। কারণ সব শুকিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক বন উজাড় ও পাহাড় ধ্বসে ছড়া-ঝিরি ও নদী ভরাট হয়ে গেছে।

পরিবেশ কর্মী প্রদীপ চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি জনসাধারণের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে পাহাড়ি ছড়া, ঝিরি ও অন্যান্য পানির উৎসস্থল। কিন্তু বন বিভাগের ও জেলা প্রশাসনের অবহেলায় বন উজাড়ের কারণে এসব ধ্বংসের মুখে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাদেরকে বাঁচাতে হলে পাহাড়, পাহাড়ের গাছপালা বাঁচাতে হবে।

ছড়া

বন উজাড়ের বিষয়ে বন বিভাগের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে আশার কথা শুনিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল আমিন বলেন, জেলা প্রশাসন বসে নেই। তারা পাহাড় কাটা এবং বন উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিভিন্ন আইনে ব্যবস্থা নিচ্ছে। খাগড়াছড়িকে সবুজাব করতে এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

আরও পড়ুন

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও রায়পুরে লিয়াকত আলী খানের নামে স্কুল!

বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে সম্প্রীতির ইফতার

/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি