নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক সুফিয়া বেগম নামে নারীর বাড়ির একটি কক্ষ দখল করে আওয়ামী লীগের কার্যালয় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চায়ের দোকান করা হবে বলে ওই ঘরটি প্রথমে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ওই কক্ষ দখলের পর সেখানে রঙ করে দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি শামীম ওসমানের ছবি।
সোমবার সকাল থেকেই ওই দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই সময় সুফিয়া বেগম প্রতিবাদ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি দখলকারীরা। উল্টো তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল এনায়েতনগর এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে যুবলীগ নেতা প্রসন চায়ের দোকান করতে আমার ছেলের কাছে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে রুমটি ভাড়া নেয়। কিন্তু পরে আমি জানতে পারি যে তারা চায়ের দোকানের জন্য না আওয়ামী লীগ অফিস বানাবে। এরপর আমি প্রসনের টাকা ফেরত দিয়েছি। কিন্তু রবিবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন প্রধান, যুবলীগ নেতা মমিনুল ইসলাম পুষন, সুলতান মাহমুদসহ ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ- যুবলীগ নেতাকর্মীরা আমার বাড়ির ওই কক্ষটি জোর পূর্বক দখল করে আওয়ামী লীগের অফিস বানানোর কাজ শুরু করে।’
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা মমিনুল আলম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি সুফিয়ার বাড়ির একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলাম চায়ের দোকান ঘর করার জন্য। কিন্তু আমরা চায়ের দোকান করবো না আওয়ামী লীগের অফিস বানাবো জেনে সুফিয়া আমার ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।’
গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী বলেন, ‘এনায়েতনগরের ওই আওয়ামী লীগের অফিসটির ব্যাপারে আমি সমর্থন করি না। সুফিয়া বেগম অগ্রিমের টাকা ফেরত দিয়েছে তা আমি জানি এবং মোবারক গংদের বলেছি বাড়ির মালিক যেহেতু ভাড়া দেবে না সেহেতু জোর করে ওখানে কিছু না করতে। তাছাড়া এমপি শামীম ওসমান এসব পছন্দ করেন না এবং তার নলেজেও এসব নেই।’
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনা আমার জানা নেই। তারপরও যদি কেউ জোর করে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কারও বাড়ি দখল করে অফিস নির্মাণ করে তাহলে তা গুরুতর অপরাধ করেছে। এটা অন্যায়, আমি এটা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।’
আরও পড়ুন:
ধর্ষণ থেকে ‘যৌন সংসর্গ’: তনু হত্যার তদন্ত কোন পথে
মা-মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে বহিষ্কার
/জেবি/এসটি/








