ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:০৬, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২০, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৬

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁসুরের ধারায় উপমহাদেশ মাতানো ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৬ সেপ্টেম্বর)। তিতাস পাড়ের কিংবদন্তী এই সুর সম্রাটের স্মরণে তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা সভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে এ বছরের শুরুর দিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তাঁর স্মৃতিচিহ্ন ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিকর্মী ও আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘ মৌলবাদীদের তাণ্ডবলীলায় আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।সুর সম্রাটের যেসব স্মৃতিচিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আর ফিরে পাওয়ার নয়। তারপরও আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টম্বর) ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে’ আলোচনা সভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দিনভর মৌলবাদী চক্র সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে তাণ্ডব চালায়। পুরিয়ে দেওয়া হয় ওই সঙ্গীতাঙ্গন। ধ্বংস করা হয় প্রতিষ্ঠানে থাকা সব মূল্যবান নিদর্শন, আসবাবপত্রসহ সঙ্গীতের সব উপকরণ।

সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গণের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান সরকার বলেন, সুর সম্রাটের ভাই ওস্তাদ আয়াত আলী খাঁর হাত ধরে ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। জীবদ্দশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কুমারশীর মোড়ের এই জায়গায় বসেই সঙ্গীত চর্চা করেছেন সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ।  

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিখ্যাত এক সঙ্গীত পরিবারে ১৮৬২ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন খ্যাতনামা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী ও সরোদ বিশারদ। তার বাবা সঙ্গীতজ্ঞ সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁ ও মাতা সুন্দরী বেগম। আলাউদ্দিন খাঁর ডাক নাম ছিল আলম। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মাইসারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

ছোট বেলায় অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি সুরের সন্ধানে বাড়ি থেকে পালিয়ে এক যাত্রাদলের সঙ্গে যোগ দেন। এক সময় তিনি চলে যান কলকাতায়।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৯১৮ সাল থেকে ভারতের মাইসারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। আলাউদ্দিন খাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনায় কয়েকটি নতুন বাদ্যযন্ত্রও উদ্ভাবিত হয়। সেতারে সরোদের বাদন প্রণালী প্রয়োগ করে সেতার বাদনেও তিনি আমূল পরিবর্তন আনেন। এভাবে তিনি সঙ্গীত জগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। ভারত সরকার তাকে সর্বোচ্চ পদক ‘পদ্মভূষণ’ প্রদান করেন।

 

আরও পড়ুন- 

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির ফাঁসিতে যে কারণে চুপ ছাত্রশিবির
রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান: ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগ

/এমডিপি/এফএস/টিএন/

লাইভ

টপ