Vision  ad on bangla Tribune

স্বাধীন মনির হত্যাকাণ্ডঅন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আকুতিতেও মন গলেনি সন্ত্রাসীদের

তানভীর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ০৩:২১, অক্টোবর ২০, ২০১৬

নিহত স্বাধীন মনিরের স্ত্রী ও স্বজনদের আহাজারি‘আমাদের চোখের সামনে আমার স্বামীকে মারধর করার সময়ে সন্ত্রাসীদের পায়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাই। আমি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বার বার বলার পরেও সন্ত্রাসীদের মন গলেনি। চোখের সামনে আমার স্বামীকে তারা কোপাল। বাধা দিলে আমাদেরও মারধর করে। পায়ে ধরেও মন গলাতে পারলাম না খুনীদের।’

বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় এভাবেই বিলাপ করে ঘটনার বর্ণনা দেন স্ত্রী পারভীন আক্তার মেঘলা । তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন জনতা লীগ সভাপতি শেখ স্বাধীন মনির হোসেনের (৩৬) স্ত্রী। বুধবার বাসায় গিয়ে সন্তান সম্ভাবা এ গৃহবধূকে বার বার মূর্ছা যেতেও দেখা গেছে। কোনও কিছুতেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছিল না। জানান, হামলায় আহত হলেও বার বার চোখে ভাসছে হামলা ও ধারালো অস্ত্রের কোপানোর সেই বীভৎস দৃশ্য।

বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শেখ স্বাধীন মনির হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার রানিহত জনতা লীগ সভাপতি স্বাধীন মনিরতে তিনিসহ তার স্ত্রী মেঘলা ও মেঘলার অপর বোন রেখা আক্তারকে কুপিয়ে জখম করা হয়। মনির হোসেন মারা গেলেও অপর দুইজনকে চিকিৎসা দিয়ে ফতুল্লার পাগলার বাড়িতে আনা হয়। আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মনির হোসেনের লাশ আনা হয় বাড়িতে।
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি হামলার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা পাগলার সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মির হোসেন মিরুর স্বাধীন মনির হোসেন গ্রুপের বিরোধ আছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মনির হোসেন তার স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোন রেখাকে এক আত্মীয়ের বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। তারা পাগলা ওয়াসা লেগুনা এলাকায় আসার পর মীর হোসেন মীরু বাহিনীর লোকজন তাদের পথরোধ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা প্রথমে মনির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায়। তখন তার স্ত্রী মেঘলা ও রেখা চিৎকার করলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও কুপিয়ে জখম করে। তখন আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। রাতে আহত অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকালে মনির মারা যান।
পারভীন আক্তার মেঘলা বলেন, ‘মীরুর বড় ভাই আলমগীর, তার ভাগিনা শাকিল ও সহযোগী জনিসহ কয়েকজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। আমার ১০ বছরের মেয়ে স্বর্ণালী আক্তার ও আমার বড় বোন রেখাসহ আমি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও তাদের বাধা দেই। হাতে পায়ে ধরে মনিরের প্রাণ ভিক্ষা চাই। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে চুলে ধরে ধাক্কা দিয়ে দূরে ফেলে দেয়। আর আমাকে ও রেখাকে চাপাতি দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে চলে যায়।’

মেঘলা দাবি করেন, মীরু কারাগার থেকে নির্দেশ দিয়েছে মনিরকে হত্যা করার। সেই নির্দেশেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে অভিযোগ করেন তিনি।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ জালাল বলেন, ‘আমাদের তদন্ত চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

/এএ/

 

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ