জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভা

Send
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:১৩, নভেম্বর ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৩, নভেম্বর ৩০, ২০১৬

জেলা পরিষদ নির্বাচনজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই ভাগে বিভক্ত জেলা কমিটি পৃথক সভা করে কেন্দ্রে তাদের পছন্দের তালিকা জমা দিয়েছে বলে জানা যায়। পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত সভাকে দুই পক্ষই অবৈধ বলে দাবি করছেন। জানা যায়, দলটির একাংশ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম সোলায়মান আলীর নাম চূড়ান্ত করলেও বাধ সাধেন অন্য পক্ষ। তাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে কেন্দ্রীয় সভাপতি বরাবর আবেদনও জানানো হয়।  
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার(২৫ নভেম্বর) জেলা আওয়ামী লীগের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি সামছুল আলম দুদু এমপিসহ জেলা কমিটির সদস্যবৃন্দরা। সেখানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিন জনের নাম প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত হয়। তারা হলেন বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী এবং দুই সহ-সভাপতি লুৎফে আকবর চৌধুরী ও অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলম।

অন্যদিকে শুক্রবারের ওই জরুরি সভাকে প্রত্যাখ্যান করেন দলটির জেলা কমিটির অপরাংশ। তাদের অভিযোগ, কোনও নোটিশ ছাড়াই দলের সাধারন সম্পাদক তার পক্ষের লোকজনদের নিয়ে শুক্রবার তার অস্থায়ী নিবাস জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে গোপন বৈঠক করেন। সেই অবৈধ বৈঠককে জেলা কমিটির সভা দেখিয়ে অনুপস্থিত অনেকের স্বাক্ষর জাল করে নিজেরসহ তার অনুগত আরও দুই জনের নাম দিয়ে প্রতারণামূলক একটি রেজুলেশন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। তারা জানান, ওই ঘটনার পর জেলা কমিটির অপরাংশের নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসে তথাকথিত ওই জরুরি সভার প্রতিবাদে একটি সভা করেন। তারা এর জন্য এস এম সোলায়মান আলীকে দায়ী করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তাঁকে মনোনয়ন প্রদান না করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে সকলের স্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত একটি আবেদন পত্র দলের সভাপতি বরাবরে পাঠিয়ে দেন। আবেদন পত্রে এসএম সোলায়মান আলীকে মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে তার বিপক্ষে দুর্নীতিসহ নানা ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে ওই আবেদনে তাদের পছন্দের কোনও নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

এদিকে জেলা কমিটির দুই পক্ষের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দলটির সাধারণ নেতা-কর্মীরা। পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য দুই পক্ষ থেকেই চাপ সৃষ্টি চলছে তাদের ওপর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান দুই গ্রুপের মধ্যে যে কোন্দল শুরু হয়েছে এরজন্য তাদের মত আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন দলের বর্তমান অবস্থার জন্য সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীকে দায়ী করে এ প্রসঙ্গে বলেন,ডাক বাংলোতে গোপন বৈঠক করার জন্যই নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সবাইকে নিয়ে পার্টি অফিসে মিটিং এর আয়োজন করা হলে উদ্ভুত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। জেলা আওয়ামী লীগের মিটিং হবে পার্টি অফিসে। কিন্তু সেটা হয়নি। পক্ষের মুষ্টিমেয় লোকজন নিয়ে মিটিং করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীর ব্যক্তিগত অস্থায়ী নিবাস জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে। যেখানে বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। অথচ মিটিং এর রেজুলেশনে তিনি নিজেকে জেলা পরিষদের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখিয়েছেন।তার কারণেই নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার পার্টি অফিসে সমবেত হয়ে সভা করেছেন। যেখানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর সহ-সভাপতি মোল্লা শামছুল আলম। 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী জেলা কমিটির অপরাংশের ওই সভাকে অবৈধ দাবি করে বলেন,ডাক বাংলো নয় জেলা কমিটির জরুরি মিটিং করা হয়েছে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে। যার স্বপক্ষে কাগজে কলমে প্রমাণ থাকারও দাবি করেন তিনি। যেখানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম দুদু এমপি। ওই সভায় মেজরিটির সমর্থনে তিনি সহ তিনজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন,কেন্দ্রের এক নেতার নির্দেশে জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ আহসান কবির এ্যাপ্লব ও দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম মিটিংয়ে না আসার জন্য ফোনে অনেক নেতাকে নিষেধ করেছেন। তারা পরের দিন পাল্টা মিটিং করবেন সেটাও জানিয়েছেন। 

জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ আহসান কবির এ্যাপ্লব ও দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন,জেলা কমিটির  জরুরি মিটিংয়ের বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়নি। তাই মিটিংয়ের বিষয়টি অন্য নেতাদের ফোন দিয়ে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কাউকে বাধা অথবা নিষেধ করা হয়েছে এমন অভিযোগ সত্য নয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু’র সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তার সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

/এইচকে/

লাইভ

টপ