behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

৭ খুনের সব আসামির ফাঁসির দাবি পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের

তানভীর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ২০:৩৩, নভেম্বর ৩০, ২০১৬

সাত খুননারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলা পরিচালনা নিয়ে আসামিদের হুমকির পরও মামলার আইনি কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরাসহ বাদী, বাদী পক্ষের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষ। এবার নিহতের পরিবার, বাদী, বাদী পক্ষের আইনজীবীসহ রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা তথা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবেন। এর আগে মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষও তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে সকল আসামিদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান রেখেছিলেন।
বুধবার শেষ হয় আলোচিত সাত খুন মামলার আইনি কার্যক্রম। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিচার কাজের আইনি কার্যক্রম অভিযুক্ত ৩৫ আসামির সকলের পক্ষে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল অপহরণের পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল চার্জশিট, ওই বছরের ১২ নভেম্বর ভারত থেকে নূর হোসেনকে দেশে আনা, আদালতে সাক্ষীদের চোখ রাঙানি, বাদী পক্ষকে হুমকি, অন্যতম আসামি র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা তারেক সাঈদের অসুস্থতার নাটকে হাসপাতালে ভর্তি, কাঠগড়ার ভেতরে নূর হোসেনের মারামারি সহ অনেক নাটকীয়তাও হয়েছে মামলা চলাকালে। সব শেষে আগামী ১৬ জানুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন যে আদালতেই চলে পুরো মামলার কার্যক্রম।
মামলা পরিচালনা করা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে মাত্র ৮ মাসেই মামলার আইনি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। যুক্তিতর্ক ও আসামিদের জেরাতে রাষ্ট্রপক্ষ তথা আমরা আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে মামলায় অভিযুক্তরা সবাই সাতজনকে অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যা, গুমসহ পুরো কার্যক্রমে জড়িত। সেহেতু আমরা আদালতকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতেও দাবি জানিয়েছি। আমরা আশা করি আদালত সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেবন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেভাবে ৭জনকে হত্যা করা হয়েছে তা খুবই মর্মান্তিক ও নৃশংস। এ সাত খুনের ঘটনায় নিহত পরিবারগুলো এখনও কাঁদছে। সাত খুনের মামলার সুষ্ঠু বিচার হবে এ প্রত্যাশা শুধু নারায়ণগঞ্জবাসীর না, সমগ্র বাংলাদেশের। আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থা থেকেই আমার প্রত্যাশা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। কারণ সাক্ষ্য প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে।’

সাত খুনের ঘটনায় নিহত সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি যিনি একটি মামলার বাদী তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাত খুনের পর থেকেই বিচার চাওয়ায় আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপরও আমরা মামলার কার্যক্রম চালিয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। আমরা চাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড যেন দেয় আদালত।’

মামলার অন্য বাদী নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল বলেন, ‘দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রত্যাশা করছি।’

নিহত গাড়ি চালক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নুপুর বেগম মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি বিধবা হয়েছি। আমার সন্তান বাবাকে হারিয়েছে। সরকার এর সুষ্ঠু বিচার করে আসামিদের ফাঁসি দেবে।’

নিহত লিটনের ভাই রফিক মিয়া বলেন, ‘আমরা স্বজন হারিয়েছি। আমরাই এ দুঃখ বুঝি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।’

নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের বলেন, ‘আমারা ভুক্তভোগী পরিবার। আমাদের প্রত্যাশা সারাদেশবাসী জানে। তাই আদালতের কাছে প্রার্থনা যাতে এমন একটা রায় দেওয়া হয় যাতে করে আর কোনও বাবাকে তার সন্তান হারাতে না হয়। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।’

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। এতে দুটি মামলাতে সাক্ষী করা হয়েছে ১২৭ জন করে। মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন ২৩ জন। আর পলাতক আছেন ১২জন। তবে ৩৫ আসামির পক্ষেই চলে মামলার কার্যক্রম।

/এইচকে/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ