যে কারণে মানিক সাহা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ সাজা হয়নি আসামিদের

Send
হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
প্রকাশিত : ২১:১৯, নভেম্বর ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৫, ডিসেম্বর ০১, ২০১৬

খুলনার সাংবাদিক মানিক সাহা (একুশে পদকপ্রাপ্ত) হত্যা মামলার রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশা করেছিলেন বাদীপক্ষ, সাংবাদিকসমাজসহ অনেকে। কিন্তু যথাযথ সাক্ষ্য না পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে স্পষ্টভাবে এ কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

রায় ঘোষণাকালে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় বলেন, ‘বারবার সমন ইস্যু করার পরও মানিক সাহার পরিবারের সদস্যরা সবাই সাক্ষ্য দেননি। আবার সাক্ষ্য দেওয়ার পরও জানা তথ্যগুলো আদালতে উপস্থাপনে আগ্রহী ছিলেন না তারা। সহকর্মী সাংবাদিকদের সাক্ষ্য তেমন সহায়ক ছিল না। সব মিলিয়ে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আইনজীবী বলেন, ‘প্রায় এক যুগ ধরে বিচার চলে সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যা মামলার। তবে মানিক সাহার কন্যা মৌমিতা বিদেশে থাকায় এবং প্রবীণ সাংবাদিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ খুলনায় না থাকায়, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। মানিক সাহার ছোট ভাই বার বার সমন দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আদালতে হাজির হলেও, তিনি জানা তথ্যগুলো আদালতে উপস্থাপন করতে আগ্রহী হননি। আইনজীবীরা প্রশ্ন করে করে তথ্য বের করার চেষ্টা চালান।’

মানিক সাহা

খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, ‘মানিক সাহা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বিচারক যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। সাক্ষীরা জানা তথ্যগুলো আদালতে নির্ভয়ে উপস্থাপন করলেই মামলার রায় প্রত্যাশিত হতে পারতো। তবে বিচারের আদেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছি না। এ সাজার মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার ও আইনের কঠোর অবস্থানের একটি বার্তা অপরাধীদের কাছে যাবে বলে মনে করছি।’

খুলনা আদালতের অতিরিক্ত পিপি এম এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথ না হওয়ার কারণেই চাঞ্চল্যকর মানিক সাহা হত্যা মামলায় এমন রায় হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ আরও ভালো হতে পারতো। আর পরিবার ও আপনজনেরা ঠিকমত সাক্ষ্য দিলে সর্বোচ্চ সাজা পাওয়া সম্ভব হতো।’

খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজাসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পুলিশের দুর্বল তদন্তের কারণে মানিক সাহা হত্যার নেপথ্যের নায়করা চিহ্নিত হয়নি। ফলে তাদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি।’

পুলিশের প্রহরায় মানিক সাহা হত্যা মামলার আসামিরা

খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করার পরই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে। রায় পর্যালোচনার পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড না হওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।’

সাংবাদিক মানিক সাহার ভাই প্রদীপ সাহা বলেন, ‘মানিক সাহা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ও নেপথ্যের নায়কদের চিহ্নিত করতে পারেনি রাষ্ট্র। মানিক সাহা হত্যা মামলার বাদী রাষ্ট্র। তাই রাষ্ট্রকেই এগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’

উল্লেখ্য,২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি  খুলনা প্রেসক্লাবের কাছে ছোট মির্জাপুরে প্রবেশের সড়কে পৌঁছানোর পর ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তের বোমা হামলায় সাংবাদিক মানিক সাহা নিহত হন। দুইদিন পর ১৭ জানুয়ারি খুলনা সদর থানার এসআই রনজিৎ কুমার দাস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

/এফএস/আপ- এপিএইচ/

আরও পড়ুন:
‘প্রত্যাশিত রায় পাইনি’
সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যায় ৯ জনের যাবজ্জীবন

লাইভ

টপ