তনু হত্যাকাণ্ডের ১০ মাস: এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে অপরাধীরা

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
২০ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:৪২আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:৪২

সোহাগী জাহান তনু তনুর জামা-কাপড়ে লেগেছিল তিনজন পুরুষের শুক্রাণু, কিন্তু সেগুলো কোন কোন ধর্ষকের?—এই প্রশ্নটা এখনও করছেন তার হতভাগ্য পিতা ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম। কিন্তু তাদের প্রশ্নের উত্তর মেলেনি গত দশ মাসেও। মিলবে এমন আশ্বাসও এখন আর পাচ্ছেন না কারও কাছ থেকে।

আজ শুক্রবার পূর্ণ হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ১০টি মাস। কিন্তু এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত না হয়েছে কোনও অপরাধী শনাক্ত, না জমা পড়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কোনও চার্জশিট। অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন সংশয় দেখা দিয়েছে তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে।

গত বছরের ২০ মার্চ প্রাইভেট পড়াতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একজন সেনা কর্মচারীর বাসার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন সোহাগী জাহান তনু। সে রাতেই সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় কুমিল্লা সিআইডি। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, আদালতের আদেশে সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদনটি দ্বিতীয় ময়না তদন্তকারী মেডিক্যাল বোর্ডকে সরবরাহ করলেও তিন সদস্যের ওই মেডিক্যাল বোর্ড তনুর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট করতে পারেনি। এদিকে এ মামলার দুজন তদারক কর্মকর্তা সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান ও শাহরিয়ার রহমানের বদলির পর, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন সিআইডি-কুমিল্লার পুলিশ সুপার ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখনও আসামি শনাক্ত করতে পারেনি সংস্থাটি। এছাড়াও দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করতে না পারায় হতাশ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে তনুর পরিবারে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হচ্ছে, তাদের সাজাও হচ্ছে। কিন্তু তনুর খুনিরা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। আমরা কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিপক্ষে না। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

কুমিল্লা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রাশেদা আখতার বলেন, ‘তনু হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। এর বিচার হলে দেশে নারী নির্যাতন কমবে। আমরা তনুর হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচার দাবি করছি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলছে। তাই তদন্তাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’

/এআর/টিএন/

আরও পড়ুন- নূর হোসেনকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন যারা

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী