behind the news
 
Vision  ad on bangla Tribune

‘খালেদা জিয়া ধ্বংস করেছিলেন, শেখ হাসিনা রেলের উন্নয়ন করেছেন’

রাজশাহী প্রতিনিধি০৭:৩৭, মার্চ ২০, ২০১৭

কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, (ডানে) খুলনার পথে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন করেছেন। আর খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে রেলকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। এ কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনেও বিএনপিকে প্রত্যাখান করবে মানুষ’— বলছিলেন রেলমন্ত্রী মজিবুল হক। রবিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী থেকে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধনের আগে তিনি এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে শতভাগ অবহেলিত ছিল। তিনি রেলের উন্নয়নে কোনও কাজই করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রেনের নতুন ইঞ্জিন ও বগি আনা, নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরাতন রেললাইন সংস্কার, সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রেলসেতু নির্মাণ করেছেন।’

মজিবুল হক আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রেলের প্রতি সুনজর দিয়েছেন। রেলের বাজেট ছিল ৫০০ কোটি টাকা। তার আন্তরিকতায় সেই অঙ্ক পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে এখন বছরে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একমাত্র তার অবদানে এই উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (সিএমই) ইফতে খায়েল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রাজশাহী থেকে এবার নতুন লাল-সবুজ কোচ নিয়ে নতুন রূপে আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করলো। ভারত থেকে আমদানি করা ১২টি নতুন বগি সংযুক্ত করা হয়েছে এতে।

কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক ও অন্য অতিথিরা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে সরাসরি খুলনাগামী পশ্চিমাঞ্চল রুটে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বেশ জনপ্রিয়। এতোদিন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস মাত্র ৯টি বগি নিয়ে চলাচল করতো। রবিবার থেকে অতিরিক্ত তিনটিসহ ১২টি বগি নিয়ে চলাচল করছে এটি। এতে যাত্রীর আসন ছিল ৬১৭টি।

এতোদিন নির্ধারিত আসনের চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি যাত্রী ঠাসাঠাসি করে এই ট্রেনে চলাচল করতেন। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মান বৃদ্ধির জন্য আসনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৬৬টি। এছাড়া ট্রেনটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (সিএমই)।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, শনিবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন ভোর সাড়ে ৬টায় খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস রাজশাহী পৌঁছাবে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে। এরপর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফের রাজশাহী ছেড়ে রাত ৮টায় খুলনায় পৌঁছাবে এটি।

এর আগে ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী পদ্মা, সিল্কসিটি ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসে নতুন লাল-সবুজ বগি যুক্ত করা হয়। ফলে রাজশাহী-ঢাকা রেল যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এবার খুলনা রুটে নতুন কোচ সংযুক্ত হওয়ায় ট্রেন যাত্রা আরও একধাপ এগিয়ে গেলো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে।

রবিবার ট্রেনটির উদ্বোধন শেষে রেলভবনে রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলে আরও ট্রেন প্রয়োজন। কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সির অভাবে ট্রেন বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশি ট্রেন ধারণের সক্ষমতা নেই সেতুর। জাপানের অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে আরেকটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে অতিদ্রুত। আমরা অনেকদূর এগিয়েছিও। এটা বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ আরও বেশি রেলের সুবিধা পাবে। এছাড়া চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হবে।’

এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা বেশকিছু রেলস্টেশন চালু হয়েছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এছাড়া পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৬৫০টি লেভেল ক্রসিং গেটের মানোন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেজন্য ১ হাজার ৮০০ গেটকিপার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।

/জেএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ