Vision  ad on bangla Tribune

চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দু’টি বাড়িতে নিষ্ফল অভিযান

চট্টগ্রাম ব্যুরো১৯:৪১, মার্চ ২০, ২০১৭

কর্নেলহাট সিডিএ আবাসিক এলাকায় পুলিশি তল্লাশির প্রস্তুতিচট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দু’টি বাড়িতে তল্লাশি শেষ করেছে পুলিশ। জেলার আকবর শাহ থানার কর্নেলহাট ও উত্তর কাট্টলিতে অবস্থিত বাড়ি দু’টিতে তল্লাশি চালালেও কিছুই পাওয়া যায়নি। সোমবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুই বাড়িতে তল্লাশি শেষ করা হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম পুলিশের উপ-কমিশনার ফারুক উল হক।
দুই বাড়িতে তল্লাশি শেষের খবর জানিয়ে ফারুক উল হক বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবিরোধী ব্লক রেইড চলছে। এরই অংশ হিসেবে আকবর শাহ থানার ওই দুই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযানে বাড়ি দুইটিতে তল্লাশি চালিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি।’
দুইটি বাড়ির মধ্যে উত্তর কাট্টলির বাড়িটিতে তল্লাশি চালায় সোয়াত। সাধারণ অভিযানে সোয়াতের ব্যবহার না থাকলেও ওই বাড়িতে কেন সোয়াতকে কাজে লাগানো হয়েছিল—এ প্রশ্নের জবাবে ফারুক উল হক বলেন, ‘আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই সোয়াত টিমকে সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। অনেক সময় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে হামলা হয়ে থাকে। এতে আমাদের সদস্যরা হতাহত হন। এ ধরনের কোনও হামলা এড়াতেই আমরা নিরাপত্তার খাতিরে সোয়াত টিমকে সঙ্গে নিয়েছিলাম।’
উত্তর কাট্টলিতে তল্লাশি শেষে চলে যাচ্ছে পুলিশপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলি এলাকার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার সামনে ইশান মহাজন ঘাট রোডের একটি বাড়ি ও একই থানার কর্নেলহাটের সিডিএ আবাসিক এলাকায় ‘মমহ নিবাস’ নামের আরেকটি বাড়িকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। এসময় পুলিশের সোয়াত টিমও সঙ্গে ছিল।
বাড়ি দুইটির মধ্যে প্রথমে তল্লাশি চালানো হয় উত্তর কাট্টলি এলাকার বাড়িটিতে। পাঁচ তলা বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কিছু পায়নি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) নাজমুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, বাড়িটিকে জঙ্গিরা আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমরা অভিযান চালিয়েছি। তবে তল্লাশিতে কোনও জঙ্গিকে ওই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।’ পরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশের কাছে থাকা তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কর্নেলহাটের ‘মমহ নিবাস’ নামের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়ে কিছুই পায়নি পুলিশ।
দুই বাড়ির মধ্যে উত্তর কাট্টলি এলাকার বাড়িটির মালিক শ্রীশ সাহা। তিনি কর্ণফুলি গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির সাবেক জিএম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চার বছর আগে আমি অবসরে যাই। তখন এই বাড়িটি তৈরি করেছি। এখানকার সব ভাড়াটিয়াই আমার পরিচিত। তাদের মধ্যে কোনও জঙ্গি নেই বলেই আমি জানি।’ ওই বাড়ির সব ভাড়াটিয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেও জানান তিনি।
ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়া সাবেক পিডিবি কর্মকর্তা সুনীল কান্তি সেন বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে এই বাড়িতে আছি। তবে এখন পর্যন্ত এখানে কোনও ধরনের জঙ্গি তৎপরতা চোখে পড়েনি।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ভোরে সীতাকুণ্ডের প্রেমতলায় ‘ছায়ানীড়’ নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ঢাকা সোয়াত টিমের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে এক নারীসহ নব্য জেএমবির চার সদস্য নিহত হয়। পরদিন আরও এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয় ওই বাড়ি থেকে। এর আগে বুধবার (১৫ মার্চ) বিকালে সীতাকুণ্ডেরই আমিরাবাদ নামাবাজার এলাকায় ‘সাধনকুটির’ নামের আরেক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের সঙ্গে তিন মাস বয়সী একটি শিশু ছিল।
/টিআর/টিএন/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ