কুমারপাড়ায় বৈশাখী আমেজ, তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা

উজ্জল চক্রবর্তী, নবীনগর থেকে ফিরে
১১ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:১৩আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:১৩

কুমারপাড়ায় বৈশাখী আমেজ, তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা পহেলা বৈশাখের আর মাত্র দুদিন বাকি। তাই বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং মৃৎ শিল্পীরা। বাহারি মাটির তৈরি খেলনা আর তৈজসপত্র তৈরিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।

এ দিকে, মাটির তৈরি এসব পণ্য কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে ভীড় করছেন কুমারপাড়ায়।

কুমারপাড়ায় বৈশাখী আমেজ, তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা মৃৎশিল্পী প্রফুল্ল পাল, অতীন্দ্র রুদ্র পাল জানান, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ। আবহমানকাল থেকে গ্রামগঞ্জে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্যগতভাবে এসব মেলার প্রাণ হচ্ছে মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া-পুতুলসহ বাহারি তৈজসপত্র। শিশুদের কাছে এসব খেলনার জুরি নেই। মূলত বৈশাখ থেকে গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মেলা-বান্নী শুরু হয়। চলে পুরো বছর জুড়ে। তাই তারা রং-তুলি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান।

তারা বলেন, বছরের অন্য সময় বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন তারা। কিন্তু চৈত্র ও বৈশাখ মাসটা তাদের জন্য ভিন্ন। এ সময় তারা মাটির বিভিন্ন বর্ণিল খেলনা আর তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। বেচাকেনাও অন্য সময়ের চেয়ে বেশ ভাল হয়।

কুমারপাড়ায় বৈশাখী আমেজ, তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফারুক মিয়া, নরসিংদী জেলার রায়পুরার মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে আসা পাইকার মো. সাজল মিয়া জানান, প্রতি বছরই চৈত্র মাসের শেষ সময়ে তারা নবীনগরের ভোলাচং-এ এই কুমার পাড়ায় আসেন। বাহারি রঙের খেলনা বিশেষ করে হাতি, ঘোড়া, গরু, পাখি, পুতুল, ব্যাংক, হাড়িপাতিল, চুলা ইত্যাদি কিনে গ্রামগঞ্জের মেলা-বান্নীতে তারা এসব পণ্য বিক্রি করেন। বৈশাখ থেকে শুরু করে মৌসুমের একটা বড় সময় জুড়ে তারা এসব পণ্য বিক্রি করে বেশ লাভবান হন।

এদিকে কুমার পাড়া এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাশ এবং প্রাক্তন শিক্ষক মন্তোষ চক্রবর্তী জানান, মৃৎ শিল্পীরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পৈত্রিক এ পেশাকে কোনও ক্রমে টিকিয়ে রেখেছে। নতুন প্রজন্মের কেউ তাদের পূর্ব পুরুষদের এই পেশায় আসছেন না। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তা না হলে এই শিল্প একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

কুমারপাড়ায় বৈশাখী আমেজ, তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আব্দুন নূর জানান, হাজার বছরের সংস্কৃতির ঐতিহ্যের অংশ মৃৎশিল্প। এই মৃত্তিকা শিল্পীদের টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলে বাঙালির ঐতিহ্য নষ্ট হবে। আমাদের সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে।

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার অন্যতম নবীনগরের ভোলাচং কুমারপাড়ায় অন্তত ৫০টি পরিবারের তিন শতাধিক মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

/বিএল/ 

আরও পড়ুন:

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যস্ত জামগ্রামের কৃত্রিম ফুল তৈরির কারিগররা

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি