পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাঙামাটি বনরূপা ত্রিদিব নগর কাঁচা বাজার ও পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। জেলার দূর-দূরান্ত থেকে বিজু বাজারে আসছে হাজার হাজার মানুষ। বিজুর দিন অতিথিদের আপ্যায়নে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ব্যস্ত সবাই।
রাঙামাটি সমতা ঘাটের বনরূপা ত্রিদিব নগর বাজারে দেখা যায়, কলা, বেগুন, করলা, কাঁঠাল, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি কিনছেস ক্রেতারা। অতিথি আপ্যায়নের জন্য মুদি দোকানেও ভীড় দেখা যায়।
ত্রিদিব নগর বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি স্নেহাশীষ চাকমা (আশীষ ) চাকমা জানান, বিজু হচ্ছে চাকমাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব। এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে এক হয় চাকমারা।
ত্রিদিব নগর সমাজ কল্যাণ সমিতি, ছদক ক্লাব এর সহযোগিতায় ও ত্রিদিব নগর বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে ৮ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিজু বাজারের দিন আয়োজন করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তা কর্মী ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ ও ১২ এপ্রিল হবে ত্রিদিব নগর বাজারে মূল বিজু বাজার।
বনরূপা বিএম কমপ্লেক্সের ‘দেশ’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল হোসেন জানান, বৈসাবি উপলক্ষে রাঙামাটির বাজারগুলো এখন ক্রেতায় ভরপুর। পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা দোকানে ভিড় করছে বেশি। বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকও কিনছে তারা।
বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, বৈসাবি ও বৈশাখের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে শহরের নিউ মার্কেট, বিএম কমপ্লেক্স, আলিফ মার্কেট ও রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ির বিপণি বিতানগুলো নতুন নতুন পোশাকে সাজানো হয়েছে। দোকানগুলোতে বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্যে আঁকা ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিস ও গেঞ্জি সবার নজর কাড়ছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বৈশাখী হাওয়া লেগেছে। সেখানেও নতুন নতুন পোশাক উঠেছে। বিভিন্ন শোরুমে চলছে বৈসাবি অফার।
১২ এপ্রিল পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হচ্ছে বৈসাবি’র মূল আনুষ্ঠানিকতা। চাকমা সম্প্রদায়ে এটিকে ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ে ‘হাঁড়িবসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ে সূচিকাজ বলে।এ দিন প্রায় সব পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি গোষ্ঠীর নিজস্ব সামাজিক উৎসবের মধ্যে চাকমা গোষ্ঠীর বিজু হলো অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দিন। মোট তিনদিন বিজুর উৎসবে মেঠে ওঠে চাকমারা। প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’। পানিতে ফুল ভাসিয়ে অতীতের সব দুঃখকে বিদায়ের মাধ্যমে নতুন দিনকে স্বাগত জানায় যার নাম ‘ফুল বিজু’। ফুল বিজুর পরের দিন মূল বিজু। মূল বিজুর দিনে বিভিন্ন জায়গায় ও প্রতিবেশীর বাড়িতে কিশোর-কিশোরীরা ঘুরতে যায়। বিজুর দিন চাকমাদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার ‘পাঁজন’ পরিবেশন করা হয়। মূল বিজুর পরে ‘গোজ্জে-পোজ্জে’ দিন। যার বাংলা অর্থ ঘোরাঘুরির দিন।
/বিএল/
আরও পড়ুন:
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যস্ত জামগ্রামের কৃত্রিম ফুল তৈরির কারিগররা








