খুলনা অঞ্চলের ৯ নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বেড়েছে

খুলনা প্রতিনিধি১৭:২৩, এপ্রিল ২১, ২০১৭

খুলনা অঞ্চলে নয়টি নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বেড়েছে। পরিবেশ অধিদফতর খুলনা বিভাগীয় দফতরের উদ্যোগে গত মার্চ মাসে এ পরীক্ষা করা হয়। নদীগুলো হচ্ছে- ময়ূর, বিল ডাকাতিয়া, ভৈরব, রূপসা, মধুমতি, দরাটানা, কাজীবাছা, কাকশিয়ালী ও গড়াই।

খুলনা অঞ্চলের ৩টি নদীখুলনা পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ময়ূর নদী গল্লামারী পয়েন্টে এ বছরের মার্চ মাসে লবণের মাত্রা পাওয়া গেছে ১.৭ পিপিটি (পার্টস পার থাউজেন্ড)। গত বছরের মার্চ মাসে এখানে লবণের মাত্রা ছিল ১.৪ পিপিটি। বিল ডাকাতিয়া নদীতে এ বছরের মার্চ মাসে লবণের মাত্র পাওয়া যায় ২.৩ পিপিটি। গত বছরের মার্চ মাসে এ হার ছিল ১.৮ পিপিটি।

পাশাপাশি, ভৈরব নদের নওয়াপাড়া ঘাটে এ বছরের মার্চ মাসে লবণের মাত্র রয়েছে ৭.১ পিপিটি। এখানে গত বছরের মার্চ মাসে লবণের মাত্রা ছিল ৫.৯ পিপিটি। ভৈরব নদের ফুলতলা ঘাটেও এ বছরের মার্চে লবণের মাত্রা পাওয়া গেছে ৭.২ পিপিটি। গত বছরের মার্চে এখানে লবণের মাত্রা ছিল ৬.১ পিপিটি।

অন্যদিকে, রূপসা নদীর লবণচরা ঘাটে এ বছরের মার্চ মাসে লবণের মাত্রা পাওয়া গেছে ৭.৯ পিপিটি। গত বছরের মার্চ মাসে এখানে লবণের মাত্রা ছিল ৭.৬ পিপিটি। বাগেরহাটের মধুমতি নদীতে এ বছরের মার্চ মাসে লবণ পাওয়া গেছে ০.৫ পিপিটি। গত বছরের মার্চে এ মাত্রা ছিল ০.৩ পিপিটি। দরাটানা নদীতে এ বছর মার্চে লবণের মাত্রা পাওয়া যায় ৩.১ পিপিটি। যা গত বছরের মার্চে ছিল ১.৩ পিপিটি।

এছাড়া, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজীবাছা নদীতে এ বছরের মার্চে লবণ পাওয়া গেছে ৮.২ পিপিটি। যা গত বছরের মার্চে ছিল ৬.২ পিপিটি। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকশিয়ালী নদীতে এ বছরের মার্চে লবণ পাওয়া গেছে ১৪.৩ পিপিটি। যা গত বছরের মার্চে ছিল ১৪.১ পিপিটি। কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে এ বছরের মার্চে লবণ ছিল ০.৬ পিপিটি। যা গত বছরের মার্চে ছিল ০.৩ পিপিটি।

খুলনা পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পানিতে ৫/৬ পিপিটি পর্যন্ত লবণ পরিবেশের জন্য সহায়ক। লবণের এই মাত্রায় টক ফল ধরে এমন গাছপালা ভালভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে এর বেশি হলে তা পরিবেশ ও অন্যান্য গাছের জন্য মারাত্মক। মাত্রাতিরিক্ত লবণ পানি জমিতে প্রয়োগ করলে ধান ও গমসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পানিতে অতিমাত্রায় সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকলে ক্লোরিন আয়ন শিকড় দিয়ে গাছের পাতায় পৌঁছে সালোক সংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘পানিতে লবণ বৃদ্ধি পেলে মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে উদ্ভিদের বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত। লবণপানি বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে আর্দ্রতা বাড়িয়ে তোলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গভীরতা না থাকার কারণে এ অঞ্চলের জলাধারগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে জলধারণ ক্ষমতা অনেক কম। ফলে পানির ঊর্ধ্বমুখী চাপ থাকে না। এ কারণে নোনা সহজেই প্রবেশ করতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে উজানে পানি কম আসার কারণেও সাগরের নোনা পানি অনেক উপর পর্যন্ত উঠে আসে।’ লবণের মাত্রা বৃদ্ধি কমাতে তিনি জলাধারগুলো খনন ও গভীরতা বৃদ্ধি, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার মত ব্যবস্থা করা, শুষ্ক মৌসুমে জলাধারে পানি থাকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘মাটিতে লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা হ্রাস পাবে। ফসল ভালো হবে না, অনেক সময় চারাও গজাবে না। স্যালাইন জোনে বাতাসেও লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এতে শহরের দালান-কোঠা, লোহার তৈরি স্থাপত্য, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মরিচায় নষ্ট হবে।’

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়ার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সেচের জন্য ময়ূর নদীর পানি ব্যবহার করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর পানিতে লবণ বেশি থাকে। এবার গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এ লবণ পানি ব্যবহার করলে ফসলের ক্ষতি হয়।’

/এমও/

লাইভ

টপ