behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

রাউধা ইস্যুতে বিব্রত ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী০১:৩৬, এপ্রিল ২২, ২০১৭

রাউধা আথিফমালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের মৃত্যুর ঘটনায় বিব্রত বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তাদের কাছে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, মৃত্যুর ১২ দিন পর সহপাঠী ও ভারতের কাশ্মীরি মেয়ে সিরাত পারভীন মহাসুদকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ। ফলে এ ঘটনা নিয়ে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের নাম প্রচার হচ্ছে। এনিয়ে চিন্তিত কলেজের কর্তৃপক্ষ।  এছাড়া গত ২১ মার্চ নাশকতার অভিযোগে কলেজের ২৯ শিক্ষার্থীকে আটক করেছিল পুলিশ। আর কয়েকমাস পর শুরু হবে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া। আর এই ভর্তির আগে এ সমস্যার দ্রুত সামাধানের পথ খুঁজচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ফলে দ্রুত সুরাহা হচ্ছে না বিষয়টির।

ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের একাডেমি কর্মকর্তা কামারুজ্জামান মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কলেজে মোট ৫০৮ শিক্ষার্থী রয়েছেন। যার মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থী ৪২ জন। নতুন ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।’

এদিকে গত ১০ এপ্রিল রাজশাহী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন রাউধার বাবা ডা.  মোহাম্মদ আথিফ। তিনি বিভিন্ন সময় বলেছেন, মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে রাউধাকে জুস খেতে দিয়েছিল তার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদ।

অপরদিকে, রাউধার মৃত্যুর আগে ও পরের দিনের সিসিটিভির ফুটেজ কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখালেও ওই রাতের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। রাউধার লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল এবং দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে লাশ নামানোর কোনও প্রমাণ কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, রাউধাকে ঝুলতে দেখে সিরাত পারভীন একাই লাশ নামিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এছাড়া মৃত্যুর আগে রাত ১১টার দিকে রাউধা হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল। তার সঙ্গে সিরাত পারভীনও ছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে রাউধা একাই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল। এসব প্রশ্ন সামনে রেখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা রাউধার মৃত্যুর মোটিভ খুঁজছেন।

কলেজের সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ রিয়াদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে। আমরা সাধ্যমত তাদেরকে সহযোগিতা করছি। আমরাও চাই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাউধার বাবা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কলেজে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এক্ষেত্রে রাউধার বাবার বক্তব্য তেমন প্রভাব পড়বে না।’

রাউধার হত্যা মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল মনির বলেন, ‘বাদী মালদ্বীপের আর বিবাদী ভারতের কাশ্মীরের। দুজনই বিদেশি। এক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই। তবে রাউধা ও সিরাত একই কলেজের শিক্ষার্থী। মৃত্যুর ঘটনাস্থলও কলেজ হোস্টেল। প্রথম ময়নাতদন্তে এটাকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে। আবার লাশ উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হবে। এই ময়নাতদন্তে অন্য রির্পোট আসলে ঘটনার মোড় ঘুড়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাদী-বিবাদী যেহেতু বিদেশি তাই মামলার কার্যক্রমে কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা উচিত। যাতে তাদের সুনাম নষ্ট না না।’

রাউধা মৃত্যুর দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে চেষ্টা করছি। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে এখন পর্যন্ত কোনও অসহযোগিতা পায়নি। এখানে তদন্ত প্রভাবিত করার কোনও সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলে। গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউধা আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে বোর্ড ময়না তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের জন্ম ১৯৯৬ সালে ১৮ মে। তিনি রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাউধা পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণে আরও পাঁচ মডেলের সঙ্গে রাউধাও ছিলেন।

/এসএনএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ