behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

যৌন হয়রানির প্রতিবাদে আত্মহত্যার অভিযোগ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি০৪:২৯, এপ্রিল ২২, ২০১৭

আত্মহত্যার প্রতীকী ছবিজয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নান্দাইলদিঘী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনিশা বেগম মুনি (১৭) প্রতিবেশী বখাটের যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে। 

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলার উৎরাইল গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোজাহার আলীর মেয়ে মুনিশা বেগম স্থানীয় নান্দাইলদিঘী কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কলেজে যাতায়াত করার সময় প্রতিবেশী বখাটে যুবক শাহিন হোসেন (২৪) প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত। বিষয়টি মুনিশা তার বাবা-মাকেও জানায়। মুনিশার বাবা মোজাহার হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম বিষয়টি শাহিনের পরিবারের কাছে অভিযোগ করলেও তারা আমলে নেয়নি। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বাবা-মা’র অনুপস্থিতিতে মুনিশা বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় শাহিন তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। মুনিশার বাধার কারণে শাহিন বাড়ি থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরে বাড়ি আসলে মুনিশা তার মাকে পুরো ঘটনা জানায়। কিন্তু শাহিনের ওই যৌন হয়রাণীর ঘটনা মুনিশাকে দগ্ধ করে। পরে অভিমানে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে মুনিশা আত্মহত্যা করে। রাতে মা মনোয়ারা বেগম ঘরের দরজা বন্ধ দেখে মুনিশাকে ডেকে কোনও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় দরজা খুলে ঘরে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ মুনিশার লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় মুনিশার বাবা মোজাহার হোসেন বাদী হয়ে বখাটে শাহিন, তার বাবা মন্টু মিয়া এবং মা ফাহিমা খাতুনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মুনিশার মা মনোয়ারা বেগম জানান, মুনিশা কলেজে যাতায়াত করার সময় বখাটে শাহিন সবসময় তাকে কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি শাহিনের বাবা-মাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমার মেয়েটা জীবন দিয়ে তার প্রতিবাদ জানাল। 

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন,লাশ উদ্ধারের পর তা ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় মুনিশার বাবা মোজাহার হোসেন বাদী হয়ে শাহিন ও তার বাবা-মাকে আসামি করে মামলা করেছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

/এসএনএইচ/

 

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ