behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

পলাশে কোটি টাকা নিয়ে উধাও ঋণদান সমিতি

নরসিংদী প্রতিনিধি০৫:১৫, এপ্রিল ২২, ২০১৭

নরসিংদীনরসিংদীর পলাশে পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ক্যানভাস সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সংস্থা। সংস্থাটি নামমাত্র সঞ্চয়ের বিপরীতে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণদান ও অধিক মুনাফা অর্জনের ফাঁদে ফেলে এ টাকা সংগ্রহ করে। এখন চরম হতাশায় পড়েছেন গ্রহকরা। কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।

গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে উপজেলার ওয়াপদা এলাকার হাসান আলীর বাড়ির দু’তলা ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে অফিস স্থাপন করে ক্যানভাস সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতিটি অফিস স্থাপন করার পর থেকে ওয়াপদা নতুন বাজার, পলাশ বাজার, জনতা, প্রাণ কোম্পানির গেইট ও ঘোড়াশালসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রহকদের নামমাত্র সঞ্চয়ের বিপরীতে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব দেয়। প্রতি লাখে দুই থেকে তিন হাজার টাকা মাসিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের আমানত সংগ্রহ করে সংস্থাটি।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কোনও প্রকার নোটিশ ছাড়াই আত্মগোপনে চলে যায় সমিতির দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের মধ্যে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা এসে অফিসের নিচে জড়ো হয়ে হতাশা ব্যক্ত করছেন। কোটি টাকা আমানত নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে অধিকাংশ গ্রাহক।

সমিতিতে কর্মরত স্থানীয় মাঠকর্মী লিপি বেগম ও তারেক রহমান জানান, প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে ম্যানেজার ও সিনিয়র কর্মকর্তারা পালিয়েছেন। ফলে আমরা বিপাকে পড়েছি।

পলাশ ওয়াপদা এলাকার গ্রাহক নিলুফার আক্তার জানান, ক্যানভাস সমিতিতে আমার ৪ লাখ টাকা এফডিআর ছিল। এ মাসে আমার মেয়াদ শেষ হয়েছিল। টাকাগুলো অনেক কষ্ট করে জমিয়েছিলাম।

পলাশ বাজার এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মতিন ও প্রসাধনী দোকানদার চন্দন দাস জানান, অধিক মুনাফার আশায় পাঁচ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলাম। এখন সবই শেষ।

একইভাবে পলাশ বালুচর পাড়া এলাকার নাছরিন, মানসুরা, ওয়াপদা এলাকার আক্তারুজ্জামানসহ অনেক গ্রাহকই এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি রিপন হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কাদির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পলাশ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহিন সুলতানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ক্যানভাস সমিতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে অনুমতি নিয়ে জেলাব্যাপী শাখা স্থাপন করেছিল। সমিতিটি পূণরায় চালু করার জন্য সমবায়ের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

/এসএনএইচ/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ