যে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল সাফাত ও সাদমান

Send
তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট
প্রকাশিত : ০১:১৫, মে ১২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৪, মে ১২, ২০১৭

রশীদ ভিলাবনানীতে ধর্ষণ মামলার দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেটের জালালাবাদ থানার যে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার মালিক লন্ডন প্রবাসী মামুনুর রশীদ। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘রশীদ ভিলা’ নামে পরিচিত। সাফাতের মামা ওই দুই আসামিকে সেখানে আত্মগোপনের জন্য নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বাড়িটির কেয়ারটেকার নুরুন্নবী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাফাতের নানাবাড়ি সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকায়। তার নানা মতিন মিয়া এক সময় পেপসি কোম্পানির ডিলার ছিলেন। সেই থেকে তাকে ‘পেপসি মতিন’ বলে সবাই চেনে। আর মাসুম আহমদ হলেন মতিন মিয়ার ছেলে। তিনিও একজন ব্যবসায়ী। বাসার মালিক মামুনুর রশীদ সাফাতের নানা মতিন মিয়ার আত্মীয়। দীর্ঘদিন থেকে মতিন মিয়া ও মামনুর রশীদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। মতিন মিয়া এ ঘটনার পর তার নাতিকে রক্ষা করার জন্য বাসার মালিক মামুনুর রশীদের সাথে কথা বলে তার ছেলে মাসুমকে দিয়ে বুধবার (১০ মে) রাত ১১টায় রশীদ ভিলায় পাঠান। ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিন তলা ভবনের পুরো বাড়িই খালি। বছরের বিভিন্ন সময়ে মামুনুর রশীদের পরিবারের কেউ আসলে এখানে কয়েক সাপ্তাহ থাকেন বলে কেয়ারটেকার নুরুন্নবী জানিয়েছেন।

বাড়ির কেয়ারটেকার নুরুন্নবীর মোবাইল ফোনে লন্ডন থেকে ফোন করেন মামুনুর রশীদের ভাগ্নে ‘মোবাশ্বির’ নামের এক ব্যক্তি। এসময় মোবাশ্বির প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে জানান, ‘মতিন মিয়ার নাতি হলো সাফাত। তাদের সঙ্গে মামার (বাসার মালিক মামুনুর রশীদ) রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক। সেই সুবাদে মামার সঙ্গে কথা বলেই সাফাতের মামা মাসুম আহমদ তাদের দুজনকে নিয়ে ওই বাড়িতে রাখেন।’ গ্রেফতারকৃত সাফাত ও সাদমান যে ধর্ষণ মামলার আসামি এ বিষয়টি জানেন কিনা, প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রবাসী। দেশের কোনও খবর রাখিনা নানা ব্যস্ততার কারণে। মতিন মিয়ার নাতি সাফাত ও সাদমান যে ধর্ষণ মামলার আসামি, তা আমাদের কারও জানা ছিল না। জানলে তাদেরকে বাসায়ও উঠতে দেওয়া হতো না।’

রশীদ ভিলার এই রুমেই ছিল সাফাত ও সাদমান

রশীদ ভিলার কেয়ারটেকার নুরুন্নবী জানান, “যাদেরকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে তাদেরকে রেখে গেছেন ‘মাসুম’ নামের এক ব্যক্তি। তিনি সাফাতের মামা বলে পরিচয় দিয়েছেন। বাসায় তাদেরকে রেখে যাওয়ার পর তারা বাসার ভেতরেই খাওয়া-দাওয়া করেছে। বাসা থেকে বের হয়নি। কোনও কিছু প্রয়োজন হলে তারা আমাকে ডাকতো। আমি জানতাম না যে তারা অপরাধী। এমনকি এ কথা কেউই আমাকে বলেনি। লন্ডন থেকে ফোন পাওয়ার পর তাদেরকে বাসায় উঠতে দেই।” তিনি আরও জানান, ‘তাদের মধ্যে সবসময় ভয় ভয় দেখা যাচ্ছিল। রুমের ভেতরে তারা পর্দা লাগিয়ে দরজা বন্ধ করে থাকতো। আর ভেতরে তারা মোবাইল ফোনে কথা বলছিল।’

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা (গণমাধ্যম) জানিয়েছেন, কারা এ দুই আসমিকে বাসায় নিয়ে গিয়েছিল, তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। সাফাত ও সাদমানকে তারা আশ্রয় দিয়ে অপরাধ করেছেন। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে গেছে পুলিশের একটি বিশেষ দল। এছাড়াও সিলেটের সীমান্ত এলাকাতে সর্তক থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সাফাতের অন্যান্য সহযোগীরা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে। তাদের কাছ থেকে কোন কিছু জব্দ করা হয়েছি কিনা জানতে চাইলে তিনি তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে রাজি হননি।

পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাদমান

এর আগে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত, সাদমানসহ পাঁচজন সোমবার (৮ মে) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার টিল্লাপাড়ার ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্টে’ রুম ভাড়া নিতে গিয়েছিল। কিন্তু রুম ভাড়া দেওয়ার আগে হোটেলের কর্মচারীরা তাদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড চাইতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাফাত। এরপর সাফাত ও তার সহযোগীরা তড়িঘড়ি করে ওই হোটেল ছেড়ে চলে যায়।

উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

/এসএ/ 

লাইভ

টপ