Vision  ad on bangla Tribune

অপহরণের পর আটকে রেখে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি২১:৫৭, মে ১৯, ২০১৭

ধর্ষণরাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে অপহরণের পর দুমাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৯ মার্চ কাউখালী থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। গত ৪ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর গত ১০ মে রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলমের (৩০) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিন পার্বত্য জেলায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক টুকু তালুকদারের সেহযোগীতায় গত ১৬ মে নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী কিশোরীকে রাঙামাটিতে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়।              
বুধবার (১৭ মে) ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কিশোরীর সঙ্গে সরাসরি কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সে জানায়, স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ বিক্রিই তাদের পারিবারিক পেশা। অনেকেই তাদের বাসায় মদ কিনতে ও খেতে আসে। নুরুল আলমও  নিয়মিত আসতো। তবে সে মদ খেতো না, ইয়াবা খেতো।
কিশোরী জানায়, একদিন নুরুল আলম  আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আমি সরাসরি না করে দিলে সে হুমকি দেয়, আমার ছবি তুলে সে  ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে। আমাদের মদ ব্যবসা বন্ধ করে দেবে বলেও ভয় দেখায়। আরেকদিন সে আমাদের বাসায় আসে। তখন বাবা-মা কেউ বাসায় ছিলেন না। সেদিন আলম আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য চেষ্টা করে। ভয়ে আমি ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যাই। পরে এ ঘটনা বাবাকে বলেছি।
কিশোরীর ভাষ্য,নূরুল আলমরা খুবই প্রভাবশালী। থানা পুলিশও তাদের ধরে না। আলমের কাছে পিস্তল আছে। সে বাবাকে ভয় দেখিয়েছে।

সে আরও জানায়, গত ৯ মার্চ বিকালে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উপজেলার ঘাগড়া-কাউখালী সড়কে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখন পেছন থেকে আমার মুখ চেপে ধরে সিএনজিতে তুলে নেয় আলম।।এরপর আমি আর কিছু জানি না। যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি, আলম এবং তার এক বন্ধুর স্ত্রীসহ সবাই দাঁড়িয়ে আছে। সেই রাতে আমাকে আলমের বন্ধুর বাড়িতে রাখা হয়। পরের দিন রাতে কালাম মাস্টারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাড়ির আশেপাশে অনেক ঘর ছিল। আমি অনেকবার চিৎকার করেছি। আলমের ভয়ে কেউ আমাকে উদ্ধার করতে আসেনি।

কিশোরী অভিযোগ করে, আলম একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে আমাকে আটকে রেখে গত দেড়মাস ধরে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছে। বাড়ি যেতে চাইলে সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতো। প্রতিদিন এক যুবক এসে আমাকে খাবার দিয়ে যেত। গত ৪ মে ওই যুবক খাবার দিতে এসে তার মোবাইল ফোন ভুলে ফেলে রেখে যায়। সেই ফোন দিয়েই আমার ভাইকে ফোন করি। পরে পরিবারের লোকজন ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাকে উদ্ধার করে।

ওই কিশোরী জানিয়েছে, থানায় মামলা করতে গেলে প্রথম দিকে পুলিশ গড়িমসি করে। আমার বাবাও  ভয়ে মামলা করতে রাজি ছিলেন না।পরে পাড়ার লোকজন বাবাকে সাহস জোগায়। এরপর আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক টুকু তালুদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা আইন সহায়তা কেন্দ্র যাতে মামলাটি পরিচালনা করে সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেবো। মেয়েটির ডিএনএ ও প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দোষী ব্যক্তিকে শিগগির গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে পুলিশ।’

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম  বলেন, ‘আমরা আসামি ধরার চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই সে ধরা পড়বে।’

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ