Vision  ad on bangla Tribune

পাঁচ মাসেও মেলেনি ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের পুনঃময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম২৩:৩৩, মে ১৯, ২০১৭

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহের পুনঃময়নাতদন্তের প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও পুনঃময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে এই ছাত্রনেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হওয়া ‘হত্যা’ মামলার তদন্তও থেমে আছে।

আজ শুক্রবার (১৯ মে) দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর ৬ মাস পার হচ্ছে।  গত ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে  তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে (ঢামেক) দিয়াজের মরদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে গঠিত তিনজনের প্রতিনিধিদল পুনঃময়নাতদন্ত করেন। দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত শেষে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সোহেল মাহমুদ বলেছিলেন, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এখনই কিছু বলতে চান না তারা। পুরো তদন্ত শেষে এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের পর প্রায় পাঁচ মাস গত হয়েছে। কিন্তু এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, দিয়াজ আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুনঃময়নাতদন্তের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপতালের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ময়না তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে সংগৃহিত নানান আলামতের পরীক্ষানিরীক্ষা শেষ হয়েছে। শিগগিরই তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের সময় হাটহাজারী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি - তদন্ত) মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে ছিলেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে তার বক্তব্য নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এখনও তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়নি। তবে শিগগিরই তার বক্তব্যও রেকর্ড করা হবে।’

এদিকে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জমা না হওয়ার কারণে ঝুলে আছে মামলার তদন্ত কাজও। আদালত থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তের কাজ শেষ করেছি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। ওইটা হাতে পেলে পরবর্তী কাজ শুরু করবো।’ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় ইতোমধ্যে আদালতে সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ২৩ নভেম্বর দিয়াজের প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চসিক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। প্রতিবেদনে দিয়াজের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবারসহ চবি ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের কোনও মিল নেই। এরপর আদালতের নির্দেশে দিয়াজের লাশ কবর থেকে তুলে ঢাকায় দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। কিন্তু আজও সেই প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

এর আগে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে গত ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

/এমএ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ