Vision  ad on bangla Tribune

‘দুই এক দিনের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে’

বান্দরবান প্রতিনিধি১৪:৫৫, জুন ২০, ২০১৭

 

বান্দরবানে জেলা প্রশাসকের সংবাদ সম্মেলন (ছবি- বান্দরবান প্রতিনিধি)

 

দুই একদিনের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ’এরইমধ্যে ৭টি আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখনো ৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে বাকি ৫টিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ বান্দরবানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার সকালে (২০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক এ কথা বলেন। ঘুর্ণিঝড় মোরা (৩০ মে) এবং অবিরাম বর্ষণের (১২ জুন) ফলে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড় ধস নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঘূণিঝড় মোরা বান্দরবানের ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় আঘাত হানে। এতে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলিকদম ও লামা উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য উপজেলায় কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে মৌসুমী বায়ু প্রবাহের ফলে ব্যপক বৃষ্টিপাতের ফলে বান্দরবানের সব নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও পাহাড় ধস হয়েছে। পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে এ পর্যন্ত ৯ জনের প্রাণহানি ও ৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া মাটি চাপায় ৭টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এসময় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসকারী আড়াই হাজার মানুষ ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে  আশ্রয় নেয়। এছাড়া আরও ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া  হয়েছে। বর্তমানে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তারা ফিরে যাচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার ও আহত পরিবারকে ৫ হাজার করে নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আশ্রিতদের মাঝে ২ লাখ টাকার রান্না করা খাবার এবং ১শ ৬ মেট্রিক টন জি আর চাল ও নগদ ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা কেন্দ্রীয়ভাবে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৫৯ হাজার ৮২ পরিবারকে ১০ কেজি করে মোট ৫৯০.৮২০ মেট্রিক টন চাল আগামী ২৩ জুন থেকে বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়া ৩ লাখ টাকা জি ক্যাশ ও ৫০ মেট্রিক টন জি আর চাল মজুদ আছে বলেও তিনি জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে পাহাড় ধস  হতে পারে। অনেক সময় পাহাড়ের নিচে মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। অধিক বৃষ্টিপাতে উপড়ের অংশের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। এছাড়া অপরিকল্পিভাবে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের ফলেও পাহাড় ধস হয়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে এতো মানুষ, তারা পাহাড়ে বাসা না বাঁধলে কোথায় থাকবে। আমরা পাহাড়ে বাড়ি করতে কাউকে বাঁধা দেই না। শুধু পাহাড় ধসের কারণে পাহাড় থেকে একটু দূরে ঘর নির্মাণ করতে বলি।’

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মো. মাকসুদ চৌধুরী, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আলী আকবরসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিল।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে খুন করলেন ইমাম

 

 

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ