জাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী পুলিশ নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

Send
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:০৮, জুলাই ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২১, জুলাই ১৭, ২০১৭

জাবি শিক্ষার্থীদের ভিসি ভবন ঘেরাও (ফাইল ছবি)

উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী পুলিশ নয়; বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে পাওয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল ও মামলার বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নূর উদ্দিন। কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছে, মামলার বাদী পুলিশ তথা রাষ্ট্র। তাই মামলা প্রত্যাহারের এখতিয়ার তাদের হাতে নেই।

ওসি আব্দুল আউয়াল রবিবার (১৬ জুলাই) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাধারণত যিনি অভিযোগ করেন, তিনিই মামলার বাদী হয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন, তিনিই এ মামলার বাদী।’ মামলা প্রত্যাহার করতে হলে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও জানান তিনি।

আইনজীবি মো. নূর উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটির বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক। মামলা প্রত্যাহার করতে হলে বাদী ও বিবাদী দু’পক্ষের সম্মতিক্রমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় অথবা সরাসরি আদালতে আপসনামা দিতে হবে।’

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৪১, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ এবং ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা।

আইনজীবি মো. নূর উদ্দিন জানান, আগামী ৭ আগস্ট এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সোমবার (১৭ জুলাই) সকালে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বাদী হওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘মামলার বাদী রাষ্ট্র।’ এর বাইরে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

এর আগে রবিবার জরুরি সিন্ডিকেট সভার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটি রাষ্ট্রের হাতে চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’

গত ২৬ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসচাপায় নাজমুল হাসান রানা ও মেহেদি হাসান আরাফাত নামে জাবির দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, নিরাপদ সড়কসহ অন্যান্য দাবিতে পরদিন ২৭ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকালে অবরোধে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এর জেরে সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলেও অভিযোগ উঠে। ওই রাতেই ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মধ্যরাতে ১২ ছাত্রীসহ ৪২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন জামিনে মুক্তি পান তারা। বর্তমানে মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে।

মামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাদী হিসেবে বলা হয় রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকের নাম। কিন্তু পরে ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বার্ষিক সিনেট সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আশুলিয়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয় এবং এজাহার আমলে নিয়ে পুলিশ মামলা করে।’ ওই দিনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা শুরু হয়, মামলার বাদী পুলিশ তথা রাষ্ট্র। সেজন্য মামলা প্রত্যাহারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘বাদী যেই হোক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনাপত্তিপত্র দিলে মামলা প্রত্যাহার সম্ভব। কিন্তু প্রশাসন মামলা তোলার ব্যাপারে আন্তরিক নয়। এর মাধ্যমে তারা ক্রোধটাকেই ধরে রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের দিকে তাদের নজর নেই।’

/এমএ/  

লাইভ

টপ