Vision  ad on bangla Tribune

গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি আড়াই লাখ মানুষের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি১৬:৪৩, জুলাই ১৭, ২০১৭

বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটের পানি কমতে শুরু করেছে (ছবি- প্রতিনিধি)

বৃষ্টি ও উজানের ঢল না থাকায় গাইবান্ধায় ব্রক্ষপুত্র-যমুনা নদীর পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতিরও সামান্য উন্নতি হয়েছে। কিন্তু পানিবন্দি হয়ে থাকা আড়াই লাখ মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও। সোমবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে এই চিত্র দেখা গেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকে পানি কমা শুরু হয়। এতে শনি ও রবিবার জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ডুবে থাকা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট জেগে উঠতে শুরু করে। এ দুই দিনে অন্তত ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পানি নেমে গেছে। ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া লোকজনও নিজেদের বাড়িঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে স্থানীয়রা জানান, তারা বিশুদ্ধ পানি ও খাবার পাচ্ছেন না। এছাড়া পানিবাহিত নানান রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন। পাটসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে।

ফুলছড়ি চরের গোলবান বেগম বলেন, ‘১০ দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছি। তবে গতকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। বাড়ির চার ঘরের পানি নেমে গেছে। এছাড়া বাড়ির উঠানের পানিও দুয়েক দিনের মধ্যে নেমে যাবে বলে আশা করছি।’ তবে হাতে কাজ না থাকায় অর্থ ও খাবার সংকটে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

হরিপুর চরের মোজাম্মেল মিয়া বলেন, ‘পানিবন্দি অবস্থায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে রয়েছি। পশু খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে রয়েছি। একটু পানি কমায় শনিবার রাতে ঘরে রান্না ও ঘুমানো সম্ভব হয়েছে।’

শ্রীপুর গ্রামের মোনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কি যে কষ্টে দিন কাটছে, তা আমি আর আমার আল্লাহ জানে। নদীর তীরে পানিবন্দি থেকে চরম দুর্ভোগ পোহালেও কেউ আজও খোঁজ নেয়নি। এছাড়া পাওয়া যায়নি কোনও ত্রাণ সহায়তা।’

মোল্লাচরের আয়নাল মিয়া বলেন, ‘পাশের উচু জায়গায় একঘরে স্ত্রী-সন্তান, গরু-ছাগল নিয়ে কেটেছে ১০ দিন। রবিবার সকালে স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। তবে ঘরের মেঝেসহ বাড়ির উঠানে কাদা থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যা দেখা দেওয়ায় গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বিপুল পরিমাণ জমির ফসল তলিয়ে যায়। পানি উঠায় চার উপজেলায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া কিছু নারী ও শিশু (ছবি- প্রতিনিধি)

সরেজমিনে জানা গেছে, জেলার ৬৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ২০টি পয়েন্ট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, কাতলামারী, রতনপুর, কঞ্চিবাড়ির কাইয়াহাট এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আতষ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে মাটির বস্তা ফেলে ভরাট করার কাজ করছে পাউবো। এদিকে, কামারজানিসহ বেশ কিছু এলাকা তীব্র নদী ভাঙনের মধ্যে রয়েছে। ভাঙনে গত সাত দিনে নদী তীরবর্তী এলাকার শত শত বসতবাড়ি, জমি, গাছাপালা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়েছে।

গাইবান্ধা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৯৪ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ও এক হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘সোমবার সকাল পর্যন্ত ব্রক্ষপুত্র-যুমনা নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই-তিন দিন পানি কমা অব্যহত থাকলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী ভাঙন ঠেকাতে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।’

/এমএ/

লাইভ

টপ