Vision  ad on bangla Tribune

মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে ‘নিখোঁজ’ হয় জঙ্গি মোজাম্মেল

আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ০৩:০৭, জুলাই ১৮, ২০১৭

আশুলিয়ার নোয়াপাড়ায় গ্রেফতারকৃত ৪ জঙ্গির মধ্যে মোজাম্মেল হক ওরফে মাসুদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালের মোক্ষপুর ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা গ্রামে। ছয় মাস আগে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে, বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

মোজাম্মেলের ব্যবহৃত ট্রাংকমোজাম্মেলের বাবা আব্দুল মান্নান জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায় মোজ্জাম্মেল। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলো সে। মোজ্জাম্মেল ময়মনসিংহ সদরের তালতলা জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম মাদ্রাসায় হেদায়াতুন নাহু শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। তবে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমান তার প্রতিষ্ঠানে মোজাম্মেলের ছাত্র থাকার বিষয়টি ‘জানা নেই’ বলে জানিয়েছেন।

সানকিভাঙ্গা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার ৫ পুত্র ও ২ কন্যা। মোজাম্মেল পুত্রদের মধ্যে ছোট, তাকে ১০ বছর বয়সে ২০০৭ সালে ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া চরওয়াশপুর মাদরাসায় হেফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। মাত্র ৩ বছরে হেফজ শেষ করে ওই মাদরাসায় খারেজি লাইনে লেখাপড়া শুরু করে সে। পরে ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে এসে ময়মনসিংহ সদরের তালতলা জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম মাদরাসায় হেদায়াতুন নাহু শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

আশুলিয়ায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া মোজাম্মেলসহ ৪ জঙ্গিতিনি আরও জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্রয়ারি সানকিভাঙ্গা কেন্দ্রিয় মসজিদে ইসলামি মাহফিল উপলক্ষে মোজাম্মেল বাড়িতে আসে। মাহফিল শেষ করে পরের দিন দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে মাদ্রাসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। ৩ দিনের মাথায় আব্দুল মান্নান মাদ্রাসার হুজুরের কাছে ফোনে জানতে পারে মোজাম্মেল মাদ্রাসায় যায়নি। এরপর পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পায়নি।

এর প্রায় ২ মাস পর মোজাম্মেল মোবাইল ফোনে বড় ভাবি জেসমিনের কাছে সঙ্গে কথা বলে। ফোনে সে জানায়, সে বাড়ি থেকে যে টাকা পায় তা দিয়ে তার লেখাপড়ার খরচ চলে না, এজন্য সে শরীয়তপুরের এক মসজিদে ইমামতির চাকরি নিয়েছে এবং মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। এরপর তার বড় ভাই তোফায়েলের সঙ্গেও যোগাযোগ করে মোজাম্মেল একই কথা বলে। এরপর আর ফোনে মোজাম্মেলকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

মোজ্জাম্মেলের বাড়িপ্রতিবেশি আনসার আলী জানান, মোজাম্মেল গ্রামের বাড়িতে কম থাকতো। বাইরে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে এটাই তারা জানে। সে জঙ্গি হিসেবে গ্রেফতার হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় মোক্ষপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত কেউ তার এলাকায় ছিল না। মোজাম্মেল হক জঙ্গি হিসেবে গ্রেফতার হওয়ায় তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিউর রহমান জানান, মোজাম্মেল হকের জঙ্গি হিসেবে গ্রেফতার হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ করেনি। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

/এমও/

লাইভ

টপ