ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরী: বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি ঢুকে কারখানায়

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৩৯, জুলাই ১৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৩, জুলাই ১৮, ২০১৭

ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর রাস্তার বেহাল দশানারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক হোসিয়ারি শিল্পনগরী থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও এই এলাকার উন্নয়নে মনোযোগ কম বলে অভিযোগ শিল্পমালিকদের।বিসিকের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা। খানাখন্দে ভরা এ রাস্তায় চলাফেরা করাই দায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি উপচে ঢুকে যায় কারখানার ভেতরে। শ্রমিকরা বলছেন, টানা বর্ষণে তলিয়ে থাকা রাস্তায় চলতে গিয়ে গর্তে পড়ে তাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। কাপড়চোপড় ভিজিয়ে কারখানায় গেলেও রেহাই নেই, সেখানেও থাকে ড্রেনের উপচানো পানি।

শিল্পমালিকরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী সার্ভিস চার্জের ৮০ শতাংশ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের কথা থাকলেও গত সাত বছরে এক টাকার উন্নয়ন হয়নি বিসিক শিল্পনগরীতে।

ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে ছোট বড় মিলিয়ে ৪০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোয় কাজ করেন কমপক্ষে  দুই লাখ শ্রমিক। প্রতি বছর এ শিল্পনগরী থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার পণ্য বিদেশে রফতানি করা হয়। ১৯৮০-৮২ সালে এখানে বিসিক হোসিয়ারি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এখন এটি গার্মেন্টস পল্লীতে পরিণত হয়েছে। এখানে হোসিয়ারি শিল্পের আর কোনও কারখানা নেই।

সম্প্রতি বিসিক হোসিয়ারি পল্লীতে গেলে কথা হয় নেভি গার্মেন্টের শ্রমিক সারোয়ার হোসেন, রেশমি আক্তার ও সোনিয়া বেগমের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘শিল্পনগরীর প্রবেশপথ ভাঙাচোরা। রাস্তার ইট সুরকি ও পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এতে আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।’ শ্রমিকরা জানান, ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে নাকাল হতে হয় শিল্পনগরীতে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে। কাদাজলে একাকার হয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্যানটেক্স গার্মেন্টের শ্রমিক রোকসানা আক্তার বলেন, ‘কয়েকদিন আগে টানা বর্ষণের কারণে বিসিকের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। সে সময় গার্মেন্টে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক গর্তে পড়ে আহত  হয়।’

ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর রাস্তা খানাখন্দে ভরাবিসিকি শিল্পনগরীতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য মোহিন বলেন, ‘বিসিক শিল্পনগরীর পঞ্চবটি রাস্তা থেকে বিসিকের এক নম্বর রোড ও দুই নম্বর রোডে প্রবেশপথ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট রাস্তা ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে ভাঙাচোরা রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে রাতের বেলায় দায়িত্ব পালন করতে আমাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।’

বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি ও বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এই শিল্পনগরী থেকে সরকার যে রাজস্ব পায় এবং বিসিক যে সার্ভিস চার্জ আদায় করে তার সিকিভাগ উন্নয়নও হয়নি এ শিল্পনগরীর।’ তিনি বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে এখানে বিসিকি এক টাকার উন্নয়ন প্রকল্পও হাতে নেয়নি। বিসিকের রাস্তাঘাট যানবহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে প্রায় ছয় মাস ধরে। কিন্তু বিসিক রাস্তা মেরামতের কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।বিসিকের পানি নিষ্কাশনের যে ড্রেন ব্যবস্থা রয়েছে, তা খুবই অপ্রতুল। এক থেকে দেড় ফুট গভীর ও এক ফুট প্রশস্ত ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় না। প্রয়োজন গভীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়া, ড্রেনের ওপর স্ল্যাব না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’ তিনি বলেন,‘শিল্প সচিবের সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সার্ভিস চার্জের ৮০ শতাংশ ব্যয় হবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারে। অথচ গত সাত বছরে এক টাকারও উন্নয়ন কাজ হয়নি এখানে।’

বিসিক হোসিয়ারি শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন বলেন, ‘হোসিয়ারি শিল্পের  যে পরিকল্পনা ছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি শিল্পমন্ত্রী বিসিক পরিদর্শন করে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোকে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারে বাজেট তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হয়ে এলেই শিল্পমালিকদের চাহিদা মেটানো যাবে।

/এএম/ এপিএইচ/

আরও পড়ুন: আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে ‘বখরা’ দিয়েই ফতুর যমেকের কর্মচারীরা

লাইভ

টপ