বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়ে আউশ ধান চাষে ব্যস্ত ভোলার কৃষকরা

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:০২, জুলাই ১৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০২, জুলাই ১৮, ২০১৭

আগাম বর্ষা ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে রবি মৌসুমের ফসল ঘরে তুলতে পারেননি ভোলার কৃষকরা। বিশেষ করে ডাল জাতীয় শস্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা বিশাল লোকসানের মুখে পড়ে। এখন বিনামূল্যে সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ পেয়ে রবি মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে ওঠার জন্য ভোলার কৃষকরা এখন ব্যাপকহারে আউশ ধানের আবাদ করছে। এছাড়া বোরো ধানেও তারা পেয়েছে বাম্পার ফলন। বেশি দামে আউশ ধান সংগ্রহের সরকারি ঘোষণা এবং বিনামূল্যে সার ও বীজ পাওয়ায় কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় দিন-রাত ফসল ফলানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

গত বছর রবি মৌসুমে অনেক কষ্ট আর হতাশায় কাটিয়েছে ভোলার ‍কৃষকরা। আগাম বৃষ্টি আর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায় অধিকাংশ ফসল। যে কারণে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ফসল পায়নি কৃষকরা। যা পেয়েছে তাতে চাষের খরচের টাকাও ওঠেনি। শোধ হয়নি ঋণের টাকা। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারিভাবে কোনও সাহায্যও পায়নি। তবে এবার ভোলার কৃষকরা ৪৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করে ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিকটন ধান পেয়েছে। যার পরিমাণ গত বছরের চেয়ে ৯২ হাজার মেট্রিক টন বেশি। কিন্তু তাতেও কৃষকরা রবি মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আবাদকৃত আউশ ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।

ভোলা সদরের ইলিশা এলাকার কৃষক মো. ইসমাইল, মো. গফুর, মো. ইলিয়াছ ও আলমগীর হোসেন, রাজাপুরের কৃষক মো. জামাল ও আবদুল বাছেত জানান, গেলো রবি মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনও ফসল পাননি তারা। যা পেয়েছে তাতে চাষের খরচের টাকাও ওঠেনি। শোধ হয়নি ঋণের টাকা।

তারা আরও জানান, এবার বোরো চাষে ভালো ফলন পেলেও রবি মৌসুমের লোকসান তারা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই এবার বিনামূল্যে সার ও বীজ পাওয়ায় আউশ ধানের আবাদে তারা ব্যস্ত সময় পার করছে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে ভোলার কৃষকরা সাধারণত আউশ ধানের আবাদ বেশি একটা করে না। এবার আউশ আবাদের জন্য ভোলার ৭ হাজার ৬০০ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হয়েছে।
তাছাড়া ৯৬০ টাকা মন দরে ধান কেনার সরকারি ঘোষণা পেয়ে চলতি মৌসুমে ভোলায় ৮৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ করেছে কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর এক লাখ ৩১ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন আউশ ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

কৃষকদের সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন ও কোস্ট ট্রাস্টের সমন্বয়কারি মিজানুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর নানা ধরনের রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ মোকাবিলা করে কৃষকরা যাতে আউশ ধানে বাম্পার ফলন পেয়ে রবি মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে সেজন্য দরকার কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দেওয়া। এজন্য তারা কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের দাবি জানান।

/এআর/

লাইভ

টপ