বাপ-দাদার জমি ফেরত ও হত্যার বিচার দাবি সাঁওতালদের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি০৫:১২, আগস্ট ১২, ২০১৭

সাঁওতালদের বিক্ষোভরংপুর চিনিকলের আওতাধীন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা-ফার্মের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা পৈত্রিক জমি ফেরত, হামলা, আগুন, লুটপাট ও গুলি করে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা সাঁওতাল পল্লীতে হামলার নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলসহ জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

শুক্রবার বিকালে (১১ আগষ্ট) ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আদিবাসী সাঁওতাল পল্লী জয়পুরপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন পরিষদ, জন উদ্যোগ এবং আদিবাসী বাঙ্গালী সংহতি যৌথভাবে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাসক। আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক জেলা সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী বাঙ্গালী সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সিপিবি জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদ জামান রব্বানী, জন উদ্যোগ গাইবান্ধার সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সিপিবি নেতা তাজুল ইসলাম, কামরুল হাসান জিলানী, মিতা হাসান প্রমুখ।

সাঁওতালদের বিক্ষোভ সমাবেশবক্তারা বিশ্ব আদিবাসী দিবসে তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষেণে সকল আদিবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বক্তারা গোবিদগঞ্জের বাগদা ফার্মের হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করে বলেন, ৬ নভেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনা ঘটে। সাঁওতালদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ঘরের লুটপাটসহ গুলি করে তিন সাঁওতালকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ঘটনার ৯ মাস অতিবাহিত হলেও মামলা কিংবা পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বক্তারা অবিলন্বে হামলা ও তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ডের আসামি গাইবান্ধা-৪  (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলসহ সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের জন্য সংগৃহীত সাঁওতাল ও বাঙ্গালিদের নিকট থেকে যে শর্তের ভিত্তিতে এক হাজার ৮শ’ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল তা অকার্যকর হয়ে গেছে। কারণ সেখানে আখ চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসল আবাদ ও স্থানীয় দুর্বৃত্তদের কাছে লিজ দেওয়ায় অশুভ চক্রান্তের কারণে সেই শর্ত মিল কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই ভঙ্গ করেছেন। এখন ওই শর্তের ভিত্তিতেই বাগদাফার্ম এলাকার সম্পত্তির মালিক আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙ্গালিরা।

প্রসঙ্গত, রংপুর চিনিকলের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকার জমিতে বসতি গড়ে তোলা সাঁওতালরা। গত বছরের ৬ নভেম্বর পুলিশ পাহাড়ায় চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী বসতি গড়ে তোলা জমিতে আখ রোপন করতে যায়। এসময়  সাঁওতালদের সঙ্গে পুলিশ, চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীর সংঘর্ষ বাঁধে।  সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ও সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে মামলা দুটি বিচারাধীন।

/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ