শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় হিলি স্থলবন্দরে আটকে আছে তিনশ চালবাহী ট্রাক

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:২৬, আগস্ট ১২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৬, আগস্ট ১২, ২০১৭

হিলি স্থলবন্দরে আটকা আছে তিনশ চালবাহী ট্রাকচাল আমদানিতে বিদ্যমান ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। গত ছয় দিন ধরে হিলি স্থলবন্দরের ভেতর আটকে আছে ৩১০/৩২০টি চাল বোঝাই ট্রাক। ফলে পণ্য লোড আনলোডসহ ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এভাবে চাল খালাস বন্ধ থাকলে বন্দরে বড় ধরনের পণ্যজট সৃষ্টি হতে পারে।

দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রুত চালের মজুদ বাড়াতে চাল আমদানিতে পুরোপুরি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে একটি চিঠি দেওয়ার হয়েছে। গত ৭ আগস্ট মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই হিলি স্থলবন্দরে চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।

চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে কয়েকটি ট্রাক করে চাল আমদানি হতো। পরে গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধারণ করায় বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বেড়ে যায়। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮০/৯০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। সম্প্রতি চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার নিয়ে জটিলতায় আবারও বন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমে ৪০/৫০ ট্রাকে দাঁড়ায়। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত জুলাই মাসে এক হাজার ৬৮৯টি ট্রাকে ৫৭ হাজার ৪৮১ টন চাল আমদানি হয়। আর চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ১৫ হাজার টনের মতো চাল আমদানি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম জানান, চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় আমদানিকারকরা চাল খালাস করছেন না। ফলে বন্দরের ভেতরে চালের ট্রাক আটকা পড়ে আছে। আমদানিকারকরা ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাস না নিয়ে শুল্কপ্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মামুনুর রশিদ লেবু ও রাজিব দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবেন এমন আলোচনা চলছে গত কয়েকদিন ধরে। এর ওপর গত ৭ আগস্ট সোমবার এ সংক্রান্ত খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না। কারণ সরকার চাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। ফলে বন্দরে তিন শতাধি চালের ট্রাক আটকা পড়ে আছে।

তারা আরও জানান, এছাড়াও শুল্কপ্রত্যহারের এমন খবরে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকাকরকরা। এর ওপর আবার গত বুধবারে চাল আমদানিতে শুল্কহার ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ৫ ভাগ করতে মন্ত্রীসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছ বলে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর কোন কাগজপত্র বা আদেশের কপি কাস্টমসে আসেনি। এতে করে আমদানিকারকরা দ্বিধায় আছেন।

বর্তমানে চাল আমদানিতে যে ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে। ফলে প্রতি কেজি চালে ৩ থেকে সাড়ে ৩টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। এখন সরকার যদি এই ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।

হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৯০/১শ’ ট্রাক চাল আমদানি হতো এবং প্রতিদিনই সেসব চাল বন্দর থেকে খালাস হয়ে যেতো। কিন্তু চাল আমদানিতে আরোপিত ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবে সরকার এমন খবর প্রকাশের পর গত সোমবার থেকেই হিলি স্থলবন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা।

/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ