রাজশাহীতে বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:৪৯, আগস্ট ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩, আগস্ট ১৪, ২০১৭

রাজশাহীতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানিকয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে রাজশাহীর দুই উপজেলার বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত, ভেসে গেছে মাছ। এতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা গেছে, রবিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা ধূরইল ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের তানোর সীমানার এলাকার শীব ও বারনই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে থাকায় হাজার হাজার বিঘা জমির ধান, সবজি ক্ষেত, পুকুর, পান বরজ তলিয়ে গেছে। সেইসাথে বেড়িবাঁধ ভেঙে ভীমনগর, মেলান্দি, বেলনা, ঘাসিগ্রাম, বাজে দেওপুর, দেওপুর, মহিষকুন্ডি, ডাঙ্গা পাড়া, পালশা, গোয়ালপাড়া, আমরাইল ও শিবপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
রবিবার সন্ধ্যার দিকে মোহনপুর উপজেলার বেড়িবাঁধ পরির্দশন করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ, মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শুক্লা সরকার, কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার, ইউপি চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন ও আজাহারুল ইসলাম বাবলু।
মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। তালিকা হাতে পেলেই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য জানা যাবে।’
এদিকে, রবিবার সকালে রাজশাহীর বাগমারায় উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বীরকয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে করে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
বাগমারা উপজেলার হলুদঘর গ্রামের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি বিলের মধ্য দিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেছে। এতে হলুদঘর, খয়রা, মন্দিয়াল সাঁইপাড়, বীরকয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে। আমার নিজের এবং আশপাশের গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ জনের পানের বরজ পানিতে ডুবে গেছে।’ ফসলি উড়তি ধান, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, তার গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে পানি প্রবেশ করে উপজেলার আরও চারটি ইউনিয়নে পানি ঢুকেছে। এতে করে ওইসব ইউনিয়নের পানবরজ ও উড়তি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বাসুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মন্ডল জানান, বাসুপাড়াসহ শুভডাংগা, আউচপাড়া, নরদাশসহ পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেকে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাঁধ ঠিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তারা বাঁধ ঠিক করার চেষ্টা করেছে।’
রবিবার বিকালে বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুর ইসলাম সান্টু ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দেখে এসেছি। সেইসঙ্গে বাঁধ রক্ষার কাজে তদারকিও করেছি। আশা করছি, শিগগিরই এটি ঠিক হয়ে যাবে।’
/টিআর/আপ-এআর/

লাইভ

টপ