ছাত্রীকে বেত্রাঘাত: মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

বরিশাল প্রতিনিধি০২:৫৬, আগস্ট ১৪, ২০১৭

বরিশাল১০০ টাকা চুরির অপবাদে মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ১৬০ বেত্রাঘাত ও নির্যাতন করায় গৌরনদী উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহাভুক্ত আসামি দুই শিক্ষিকা গ্রেফতার ও দুই শিক্ষিকা আত্মগোপনে থাকার কারণে রবিবার (১৩ আগস্ট) মাদ্রাসাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রবিবার সকাল থেকেই মাদ্রাসার ছাত্রীরা হোস্টেল ছাড়তে শুরু করে।

গৌরনদী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতা ছাত্রী কামরুন নাহার সুমাইয়ার (৮) মা রেনু বেগমের দায়ের করা মামলার নাম-ধরা ৪ আসামির মধ্যে শনিবার পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিক্ষিকা হাফিজা বেগম (বাংলা খালামনি) এবং ফাতেমা আক্তার লিজা (আরবী খালামনি) নামে দুজনকে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসা সুপার খাদিজা বেগম, তার স্বামী জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষিকা রোকসানা বেগম গ্রেফতারের ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি মনিরুল জানান, মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলার বাদীনীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে রবিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামের মা জাহিদা বেগম, খালাতো ভাই মাঈনুল ইসলাম, দারোয়ান ইমরান হাওলাদার, আয়া রাজিয়া বেগম, শিউলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের ছাত্রী অভিভাবক পাখি বেগম বলেন, মাদ্রাসা থেকে শনিবার রাতে আমার কাছে মোবাইল ফোনে জানানো হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুমাইয়ার নির্যাতনের দৃশ্য দেখে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ছাত্রী অভিভাবক নওপাড়া গ্রামের সাহেব আলী বেপারী বলেন, সুমাইয়ার নির্যাতনের দৃশ্য দেখে আমার মেয়ে আয়শা খানমসহ অন্য ছাত্রীদের মাঝে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মাদ্রাসার দারোয়ান (প্রহরী) ইমরান হাওলাদার জানান, মাদ্রাসার সুপারসহ ৭ শিক্ষিকা এ মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। মাদ্রাসায় হোস্টেলে একশ’ ছাত্রী থাকতো। মাদ্রাসার ২ শিক্ষিকাকে গ্রেফতার ও সুপারসহ ২ শিক্ষিকা আত্মগোপনে থাকায় এমন পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একারণে রবিবার সকাল থেকে হোস্টেলের ছাত্রীদের তাদের অভিভাবকরা এসে বাড়িতে নিয়ে যান।

মামলার বাদী নির্যাতিতা শিশু কামরুন নাহার সুমাইয়ার মা গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেন বেপারীর স্ত্রী রেনু বেগম, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামকেও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, একশ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাতে মাদ্রাসার আবাসিক হলের ছাত্রী সুমাইয়ার মুখে গামছা বেঁধে সুপার খাদিজা বেগমসহ তিন শিক্ষিকা অমানুষিক নির্যাতন করে। তারা সুমাইয়ার সমস্ত শরীরে ১৬০টি বেত্রাঘাত করে এবং হাতের আঙুলে সুঁই ঢুকিয়ে দেয়।
শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় নির্যাতিতা ছাত্রীকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে সুমাইয়া এখনও কথা বলতে পারছে না।

/এআর/

লাইভ

টপ