মাগুরায় স্বল্পমূল্যের সঞ্চয়পত্র নেই, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

Send
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৫৯, আগস্ট ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৪, আগস্ট ১৪, ২০১৭

মাগুরামাগুরায় স্বল্পমূল্যের সঞ্চয়পত্র না থাকায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। মাগুরা প্রধান ডাকঘরে বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র মিললেও মিলছে না ক্ষুদ্র অঙ্কের সঞ্চয়পত্র। তাই সঞ্চয় যাদের বেশি প্রয়োজন তারাই ডাকঘরে এসে ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে।
মাগুরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, সেখানে প্রচলিত পরিবার সঞ্চয়পত্র সব বয়সী নারীদের জন্য উন্মুক্ত হলেও পুরুষের ক্ষেত্রে তাকে হতে হবে ৬৫ ঊর্ধ্বে। এক্ষেত্রে ২০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের সঞ্চয়পত্র পাওয়া যাওয়ার কথা যা মাসিক মুনাফাভিত্তিক। কিন্তু ১০ লাখ টাকার বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র সহজলভ্য হলেও ক্ষুদ্র অঙ্কের ৫০ হাজার, ১ লাখ ও ২লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র মিলছে না। অথচ স্বল্প আয়ের নারী এবং বৃদ্ধরা যাদের কাছে স্বল্প অঙ্কের সঞ্চয় বেশি প্রয়োজন তারাই বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে নারী-পুরুষ সবার জন্যই তিন বছর মেয়াদের মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের প্রচলন রয়েছে যা ১ লাখ, ২ লাখ ও ৩ লাখ টাকার অঙ্কের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও শুধু ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রটি মিললেও ১ লাখ বা ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র মিলছে না। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন সেখান থেকে ফিরে যাচ্ছে সঞ্চয়পত্রের অভাবে। এত করে একদিকে ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন অন্যদিকে ডাকবিভাগ হারাচ্ছে বিশাল অঙ্কের আমানত।
শহরের ইসলামপুর পাড়ার গৃহিনী আনোয়ারা খাতুন বলেন, আমার স্বামী বিকশা চালায়। তিনি সংসারের জন্য আমাকে যে টাকা দেন তা থেকে অল্প অল্প বাঁচিয়ে ৫০ হাজার টাকা জমিয়েছি। শুনেছি পোস্টঅফিসে টাকাগুলো রাখলে মাসে মাসে লাভ পাওয়া যায় যা পেলে ছেলের লেখাপড়ার কাজে লাগতো। কিন্তু পোস্ট অফিসে গিয়ে শুনলাম এই মুহূর্তে ১০ লাখ টাকার নিচে সঞ্চয় করা সম্ভব না।
জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল কাইউম বলেন, বয়স হয়ে গেছে তাই এখন আর চাষের কাজ করতে পারি না। এক বিঘা জমি বিক্রি করে ১ লাখ টাকা পেয়েছি। ভেবেছিলাম এ্ই টাকার সঞ্চয়পত্র কিনে মাসে যা মুনাফা পাব তা দিয়ে সংসারে খরচ করবো। কিন্তু এখানে এসে শুনলাম ১০ লাখ টাকার নিচে কোনও সঞ্চয়পত্র নেই।
স্কুল শিক্ষক আব্দুর রমিম বলেন, স্বল্প আয়ের চাকরি করি। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ১ লাখ টাকা তিন বছর মেয়াদে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখানে এসে জানলাম ৫ লাখ টাকার নিচে ৩ বছর মেয়াদি সঞ্চয় হবে না। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে।
মাগুরা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, স্বল্প অঙ্কের সঞ্চয়পত্রের চাহিদা বেশি, তাই সংকটও বেশি। আমরা খুলনায় আমাদের পোস্টাল স্টক ডিপোতে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের হাতে কিছু নেই।
/এআর/

লাইভ

টপ