X
সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
৩০ বৈশাখ ১৪৩১

সব হারানো এক রোহিঙ্গা শিশুর কথা শুনলেন শেখ হাসিনা

আব্দুল আজিজ, কক্সবাজার
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৯আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৯

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনাছ মিয়া দশ বছরের রোহিঙ্গা শিশু আনাছ মিয়া। চোখের সামনেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিতে মা-বাবাকে প্রাণ হারাতে দেখেছে শিশুটি। তিন ভাই-বোনও নিহত হয়েছে বলে শুনেছে সে। গুলি লাগে আনাছেরও হাত, পা ও নাকে। তবে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায় সে যাত্রা প্রাণে বেঁচে যায় আনাছ মিয়া। পরে এলাকার অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে এসে তার ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এখানেই মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয় সব হারানো এই শিশুটির।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকে বসে আনাছের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে শিশুটি জানায়, তার বাড়ি রাখাইন রাজ্যের মংডুর রায়বইল্যা গ্রামে। বাবার নাম নমি উদ্দিন, মা মোবারেকা। আনাছরা চার ভাই, এক বোন।

আনাছ মিয়া দিন দশেক আগে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হামলার মুখে পড়ে আনাছের পরিবার। সেনারা আনাছের মা-বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। তার নিজেরও  হাত, পা ও নাকে গুলি লাগে। এতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় সে। পরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে সে এলাকার অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে দেখতে পায়। এখানেই অন্যদের কাছে সে শুনতে পায় যে, তার বাকি ভাই-বোনও সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছে। এ খবর সত্যি কিনা তাও জানে না শিশুটি।

সপ্তাহখানেক আগে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আনাছ। এরপর তার ঠাঁই হয় উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এখানে এসে আনাছ খুঁজে পায় তার দাদা-দাদিকে। তারা আগেই পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। এখন তাদের সঙ্গে ওই ক্যাম্পের ডি-ব্লকে থাকছে আনাছ। ক্যাম্পের এমএসএফ হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তার অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।

মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শনে কুতুপালং যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় আনাছের। তিনি আহত শিশুটির গায়ে  মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলছে আনাছ প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয় সব হারানো শিশুটি। সে বাংলা ট্রিবিউনকে বলে, ‘আমি বাংলাদেশের রাজার দেখা পেয়েছি। তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি খুবই খুশি।’ দুঃসহ অভিজ্ঞতা পেছনে রেখে খুশিতে ঝলমল শিশুটি বলে, ‘জীবনেও ভাবিনি একজন রাজার সঙ্গে কথা বলবো।’ প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন জানতে চাইলে আনাছ বলে, ‘‘তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছেন, ‘তুমি কোথায় ব্যথা পেয়েছ?’ আমি বলেছি, আমার হাতে, পায়ে ও ‍নাকে গুলি লেগেছে। না খেয়ে থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছি।’’ আনাছ জানায়, প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছে, ‘ইনশাল্লাহ তুমি ভালো হয়ে যাবে।’ তিনি তাকে আরও বলেন, ‘তুমি এতিম। আমরাও তো এতিম।’

আনাছের সঙ্গে কথা বলার সময় পাশেই ছিলেন আরেক রোহিঙ্গা পুরুষ ইসহাক। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি  জানান, আনাছকে আদর করার পর উপস্থিত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা চিন্তা করো না। আমরা চেষ্টা করছি, নিরাপদে তোমাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে।’

 

 

/এএম/ এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক পৌর মেয়র কারাগারে
টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক পৌর মেয়র কারাগারে
দেশের রিজার্ভ কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে
দেশের রিজার্ভ কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে
১৩ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১৪ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ
১৩ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১৪ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ
শতভাগ অনুত্তীর্ণ, দায় নেবে কে?
শতভাগ অনুত্তীর্ণ, দায় নেবে কে?
সর্বাধিক পঠিত
‘কাম্য শিক্ষার্থী না থাকলে সুযোগ-সুবিধা পাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’
‘কাম্য শিক্ষার্থী না থাকলে সুযোগ-সুবিধা পাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’
ফুটপাত থেকে দোকান ছড়িয়েছে প্রধান সড়কে, আসছে নতুন পরিকল্পনা 
ফুটপাত থেকে দোকান ছড়িয়েছে প্রধান সড়কে, আসছে নতুন পরিকল্পনা 
রাজধানীতে ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
রাজধানীতে ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
মধ্যপ্রাচ্যে এরদোয়ানের দ্বৈত খেলা: ফিলিস্তিনের প্রশংসা করে ইসরায়েলকে সহায়তা
মধ্যপ্রাচ্যে এরদোয়ানের দ্বৈত খেলা: ফিলিস্তিনের প্রশংসা করে ইসরায়েলকে সহায়তা
আমরা সুন্দর একটি সম্পর্ক মেন্টেইন করি: জয়া আহসান
বাংলা ট্রিবিউনের দশম বর্ষপূর্তিআমরা সুন্দর একটি সম্পর্ক মেন্টেইন করি: জয়া আহসান